Image description

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে খুলনার ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি এবং দুইটিতে জামায়াতে ইসলামী জয়লাভ করেছে। তবে বিএনপি ও জামায়াতের দুই হেভিওয়েট ও জনপ্রিয় নেতার পরাজয় নিয়ে খুলনা জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে খুলনা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার ও খুলনা-২ আসনের নগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। দু’জনেরই সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা রয়েছে। দুই নেতার জয়ের ব্যাপারে তাদের অনুসারী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাই ছিল শতভাগ আশাবাদী।

খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও মহানগর সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ও মহানগর সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ৮৮ হাজার ১৯৭ ভোট। খুলনা বিএনপি’র ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসন থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলী সংসদ নির্বাচন করেছিলেন।

বিএনপি’র দুঃসময়ে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এ আসন থেকে সব সময় বিএনপি’র প্রার্থী জয়লাভ করে। এবারের নির্বাচনে পূর্বেই দলের দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। একপক্ষে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নেতৃত্বে পদবঞ্চিত নেতারা, অপরদিকে, নগর বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন অনুসারী পৃথক পৃথকভাবে অবস্থান করে। নির্বাচনের মাঠে দৃশ্যমান তাদের একসঙ্গে দেখা গেলেও বর্তমান কমিটির নেতারা নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেনি। বিএনপি’র বাইরেও সাধারণ মানুষের মধ্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর শক্ত অবস্থান রয়েছে। কিন্তু দলের কোন্দল, এ ছাড়া বিগত দিনে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর কারণে বেশ কয়েকজন কেসিসি’র জনপ্রিয় কাউন্সিল দল ছেড়েছিল। তারা নির্বাচনের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নজরুল ইসলাম মঞ্জুও বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী ছিল। যে কারণে প্রতিপক্ষ কারও সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করেনি। তার পরাজয়ের পেছনে এসব কারণগুলো নিয়ে সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে।

অপরদিকে, খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে আলী আসগর লবি ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট। তার ভোটের ব্যবধান ২ হাজার ৭০২। খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে এ আসনটিতে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় এ আসন থেকে গোলাম পরওয়ার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এ এলাকার হিন্দুদের মধ্যে তার শক্ত অবস্থান ছিল। এবারের নির্বাচনে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আলী আসগর লবি হিন্দু-অধ্যুষিত এলাকায় মন্দিরের উন্নয়নসহ নানা রকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাদের মধ্যে নিজের অবস্থান শক্ত করতে নিয়েছে। হিন্দুদের ভোটব্যাংক অনেকটাই আলী আসগর লবির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। গোলাম পরওয়ারের পরাজয়ের এটাও অন্যতম কারণ ছিল। এ ছাড়া, এ আসনে আবার সবচেয়ে বেশি ভোট বাতিল হয়েছে।

এ আসনে ৬ হাজার ৫৩৭ ভোট বাতিল হয়েছে। যা অনেকটা রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই। এ ব্যাপারে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ভোট বাতিলসহ নির্বাচনে বেশ কিছু অসঙ্গতি লক্ষ্য করছি। আমরা এসব কিছু নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো। তবে বিএনপি-জামায়াতের মাঠ পর্যায়ের জনপ্রিয় এ দুই নেতার পরাজয় সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন আলোচনার জন্ম দিচ্ছে, একইসঙ্গে তার অনুসারীরাও স্বাভাবিকভাবে মানতে পারছে না।