দীর্ঘ দেড় দশক পর রাজনীতির মাঠে প্রকাশ্যে আসার সুযোগ পেলেও আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে বহুমুখী সংকটে পড়েছে জামায়াতে ইসলামী। একাত্তরের ঐতিহাসিক দায়ভার ও জোট রাজনীতির মারপ্যাঁচে দলটির সামনে এখন পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ।
সম্প্রতি জামায়াতের আমিরের একটি বক্তব্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে তিনি স্বীকার করেছেন— গত ৫৪ বছরে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে এই ‘ক্ষতি’ পুষিয়ে জনসমর্থন আদায় করা দলটির জন্য হবে এক অগ্নিপরীক্ষা।
একাত্তরের দায় ও ক্ষমা প্রার্থনার ইস্যু
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকার কারণে জামায়াতকে সবসময়ই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দলের আমির স্বীকার করেছেন যে, দীর্ঘ ৫৪ বছরে দলটির কৌশলগত ভুলের কারণে ক্ষতি বেশি হয়েছে। তবে সাধারণ জনগণ ও বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে একাত্তরের ভূমিকার জন্য স্পষ্ট ক্ষমা প্রার্থনার যে দাবি রয়েছে, তা মোকাবিলা করা দলটির জন্য একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ।
নারী নেতৃত্ব ও আধুনিকায়ন নিয়ে অস্পষ্টতা
জামায়াত নিজেদের আধুনিক ও গণতান্ত্রিক দল হিসেবে দাবি করলেও নারী নেতৃত্ব নিয়ে দলটির অবস্থান এখনও রক্ষণশীল।
আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও ভূ-রাজনীতি
প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পশ্চিমা বিশ্বের আস্থা অর্জন করা জামায়াতের জন্য বড় পরীক্ষা। জামায়াতকে নিয়ে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে যে ‘মৌলবাদী’ তকমা রয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের একটি উদার গণতান্ত্রিক শক্তি হিসেবে প্রমাণ করা তাদের জন্য সহজ হবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ৫৪ বছরের ‘ক্ষতি’ স্বীকার করে দলটি যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা ভোটাররা কতটা গ্রহণ করবে তা নির্ভর করছে তাদের নির্বাচনী কৌশল ও সংস্কারের ওপর।