আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হাসিনার নির্বাচনী আসন হিসেবে পরিচিত এই আসন দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন আটজন প্রার্থী। ভোটারদের কেন্দ্রে নেওয়া ও নিজেদের পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তোলাই এখন প্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
গোপালগঞ্জ-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৮৪ জন এবং ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১০৮টি। মধুমতী নদী ও বাঘিয়ার বিল বেষ্টিত টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনটি ১৯৮১ সাল থেকে আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও এবারের নির্বাচনী চিত্র ভিন্ন বলে মনে করছেন ভোটাররা।
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন এসএম জিলানী। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুল আজিজ মাক্কী রিকশা প্রতীকে, গণফোরামের দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস সূর্য প্রতীকে এবং গণঅধিকার পরিষদের আবুল বাসার দাড়িয়া ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. মারুফ শেখ হাতপাখা প্রতীকে, এনপিপির প্রার্থী শেখ সালাউদ্দিন ছালু আম প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব ফুটবল প্রতীক এবং গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে রয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীরা এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষিপণ্যের সংরক্ষণে হিমাগার স্থাপন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। প্রতিদিনই টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় চলছে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভা।
ভোটারদের একটি বড় অংশের ধারণা, এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই মূল লড়াই হবে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও ভোটের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকে।
সব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ ভেঙে গোপালগঞ্জ-৩ আসনে এবারের নির্বাচন যে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে, তা বলাই যায়। এখন অপেক্ষা ভোটের দিনের, যেখানে ব্যালটের রায়েই নির্ধারিত হবে শেখ হাসিনার এই গুরুত্বপূর্ণ আসনের ভবিষ্যৎ