Image description

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম মনে করছেন, ১২ই ফেব্রুয়ারির গণভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হলে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ দীর্ঘায়িত হবে। ওই দিন 'না' ভোট দেওয়ার জন্য আহবান জানিয়েছেন তিনি। বলেন, গণভোট দুরভিসন্ধিমূলক, অপ্রয়োজনীয় ও ভুয়া।

বৃহস্পতিবার (৫ই ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া পোস্টে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এসব কথা বলেন। তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি কর্তৃপক্ষের ভেরিফায়েড করা নয়। তবে সুখবর ডটকম নিশ্চিত হয়েছে, অ্যাকাউন্টটি তিনিই পরিচালনা করেন। এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা শ্রেণি-পেশার নেটিজেনের মধ্যে তার পোস্ট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম পোস্টে বলেন, "অনির্বাচিত সরকারের মেয়াদ দীর্ঘায়িত করার ফাঁদে পা দেবেন না। ১২ই ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিন, গনভোটে 'না' বলুন।" গণভোটে 'হ্যাঁ' বিজয়ী হলে সরকারের মেয়াদ কীভাবে দীর্ঘায়িত হবে, এ বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই তার পোস্টে। ফলে এ বিষয়ে অনেকে বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার আরেক পোস্টে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, "অনির্বাচিত সরকারের দুরভিসন্ধিমূলক, অপ্রয়োজনীয়, ভুয়া গণভোটের তামাশাকে ‘না’ জানান।"

গত মঙ্গলবার (৩রা ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর দ্য ডেইলি স্টার কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন জুলাই সনদ বাস্তবায়নে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে কিছুতেই ‘হ্যাঁ’কে জিততে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’, ‘না’ ভোট, এটা হলো অপ্রয়োজনীয়, প্রতারণাপূর্ণ। সেখানে কিছুতেই ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জিততে দেওয়া হবে না।

যারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে, তারা ইতিমধ্যে হেরে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তার প্রমাণ, জনগণের ওপরে যদি ছেড়ে দিত, তারা বুঝে গেছে এটা “হ্যাঁ”–এর পক্ষে যাবে না। তার জন্য সরকারি টাকা খরচ করে প্রশাসনকে অর্ডার দিয়ে সবকিছু করা হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লে অন্তর্বর্তী সরকার আরও ছয় মাস ক্ষমতায় থাকবে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবি ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে সরকার। গত সপ্তাহে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ফ্যাক্টসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোট কেন্দ্র করে ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, গণভোটের ফল ‘হ্যাঁ’ হলে অন্তর্বর্তী সরকার ছয় মাস পর ক্ষমতা হস্তান্তর করবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই দাবির সঙ্গে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। টেলিভিশন চ্যানেলটির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ওই ফটোকার্ডের শিরোনাম ছিল, ‘নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবেন: আলী রীয়াজ।’

এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বক্তব্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, গণপরিষদ বা সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধা সৃষ্টি হবে—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ আরও বলেন, ‘নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম দিন থেকেই সংসদ স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সরকার গঠন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও বাজেট প্রণয়ন করবে। তবে সংবিধানকে ফ্যাসিবাদের পথ থেকে সরাতে মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। সে জন্য নির্বাচিত সদস্যরা আলাদা শপথ নিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।’

বিবৃতিতে বলা হয়, অধ্যাপক আলী রীয়াজ কোথাও বলেননি যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবে; বরং তিনি বলেছেন, এই দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই।