সিলেট-১ আসনের ভোটের হিসাব সহজই। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ভোটের সব জরিপেই এগিয়ে। সজ্জন প্রার্থী। তাকে ঘিরে নেই বিতর্কও। দলও একাট্টা। তবে কেন জামায়াতের টার্গেটে এ আসনের বিএনপি’র প্রার্থী মুক্তাদির। পার্সোনালিও অ্যাটাক করা হচ্ছে। বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টাও। ভোটের মাঠে ধোঁয়াশা তৈরির প্রয়াস।
সিলেট-১ আসন নিয়েই যেন সব মাথাব্যথা জামায়াতের। এ আসনে তাদের প্রার্থী হাবিবুর রহমান। বিএনপি’র প্রার্থী খন্দকার মুক্তাদির। তার নেতৃত্বেই বিগত এক দশক ধরে সিলেট বিএনপি পরিচালিত হচ্ছে। সিলেট-১ আসনেই সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এরই মধ্যে আসনের বাইরে থেকে হাজারো কর্মী বাহিনী এনে নামানো হয়েছে। বোরকা পরে মহিলারাও যাচ্ছেন বাড়ি বাড়ি। ক’দিন আগ পর্যন্ত সিলেট-১ আসনের ভোটের পরিবেশ ভালোই ছিল। প্রার্থীরা যে যার মতো ভোট প্রচারণা করছেন। কেউ এলাকা এলাকায় পথসভা করছেন, আবার কেউ গেছেন ভোটারের কাছাকাছি। এই অবস্থায় এ আসনের প্রার্থীদের ঘিরে ভোটারদের মধ্যে ‘পজেটিভ’ ধারণা তৈরি হয়েছিল।
বিএনপি’র প্রার্থী মুক্তাদির যেমনি ক্লিন ইমেজের পলিটিশিয়ান তেমনি জামায়াত প্রার্থী হাবিবুর রহমানকে নিয়ে মোটা দাগের বিতর্ক নেই। এই অবস্থায় যখন চলছে ভোট প্রচারণা তখন গত দুই-তিন ধরে হঠাৎ করেই পরিবেশ তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
খন্দকার মুক্তাদির একজন ব্যবসায়ী। তার ব্যবসা রাজধানী ঢাকায়। পরিবারের সবাই বসবাস করেন বিলেতে। পিতা সিলেট-১ আসনের সাবেক এমপি ও সিলেট বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাদের মধ্যে অন্যতম খন্দকার আব্দুল মালিক। বনেদি পরিবার তাদের। এই পরিবার নিয়ে সিলেটে বিতর্ক নেই। এবারের হলফনামায় মুক্তাদির তার ব্যবসার ঋণ দেখিয়েছেন ৮৪০ কোটি টাকা। এই ঋণ পরিশোধ করা হচ্ছে। যেটি অনেক গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরই রয়েছে।
প্রচারণার শেষ দিকে এসে জামায়াত প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা মুক্তাদিরকে ওই ঋণকেই বড় করে তুলেছেন। এমনকি ভোটের মাঠে তাকে ঋণখেলাপি আখ্যা দেয়া হচ্ছে। ভোটের মাঠে মুক্তাদিরের অবস্থান নড়বড়ে করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ নিয়ে বারবার যুক্তি খণ্ডন করছেন মুক্তাদির। বলছেন, এটি তার ঋণ নয়, ব্যবসার ঋণ। সাধারণত এভাবেই গার্মেন্টস মালিকরা যন্ত্রপাতি বাবদ ঋণ নিয়ে ব্যবসা করেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তার ব্যবসাকে বারবার ব্লক করে রাখার চেষ্টা করা হয়। আওয়ামী লীগের নির্যাতন, নিপীড়নের পরও তিনি পিছু হটেননি। ভোটের মাঠে থাকা প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কখনো অভিযোগ তুলেননি মুক্তাদির। তবে গতকাল থেকে তিনিও মুখ খুলতে শুরু করেছেন। প্রতিপক্ষ প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও সখ্যতার বিষয়ে কথা বলেছেন।
তিনি বলেছেন, আমরা বিএনপি নেতারা যেখানে গত ১৭ বছর জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি সেখানে জামায়াত প্রার্থী বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ব্যবসা করেছেন। কার বিরুদ্ধে কতোটা মামলা হয়েছে, কে কতোবার কারাবরণ করেছেন- সে হিসাব নিলেই এ প্রশ্নের উত্তর মিলবে। সিলেটে জামায়াতের টার্গেটে কেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির? এ প্রশ্নের উত্তরে বিএনপি সিলেট জেলার নির্বাচন সমন্বয়ক ও জেলার সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী জানিয়েছেন, সিলেট-১ আসন যেহেতু মর্যাদার আসন সে কারণে জামায়াত এই আসনটি টার্গেট করতে পারে। তার মতে, যারা যতই টার্গেট করুক, কোনো কাজ হবে না।
সিলেট-১ আসনে ভোটের হিসেবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের ধারে কাছেও নেই কেউ। সিলেট নগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জামায়াত প্রার্থীরা ভোটের মাঠে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। জামায়াতকে সিলেটবাসী গ্রহণ করেননি। এ কারণে জামায়াত জানে সিলেটে তারা জয় পাবে না। এখন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে কলুষিত করে তারা তাদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে চায়। তিনি বলেন, শুধু খন্দকার মুক্তাদির নয়, সিলেট বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অপপ্রচার, প্রোপাগান্ডা চালিয়ে চরিত্র হননের চেষ্টা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেক আইডি ব্যবহার করছে। কিন্তু তাদের কোনো চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র সিলেট-১ আসনে ধানের শীষের জয়কে ঠেকাতে পারবে না। মানুষ উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে ধানের শীষের পক্ষে একাট্টা রয়েছে।