ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে রিকশা মার্কায় ভোট চাওয়ার অভিযোগে হাফেজ মো. মুকতার হুসাইন (৫০) নামে এক কওমী মাদরাসা শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে সালথা উপজেলা খেলাফত মজলিস কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শিক্ষক নিজেই এ অভিযোগ করেন।
হাফেজ মুকতার হুসাইন সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া রহমানিয়া তালতলা মাদরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। তার বাড়ি নগরকান্দা উপজেলার ইশ্বর্দী গ্রামে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি মাদরাসায় ক্লাস নিচ্ছিলেন। এ সময় মাদরাসার মোহতামিম মাওলানা হেদায়েত উল্লাহর ভাই কাইয়ুম মোল্যা ও স্থানীয় ব্যক্তি ফজলুল মাতুব্বর তাকে ক্লাসরুম থেকে ডেকে নেন।
তিনি বলেন, “তারা প্রথমে আমার প্রশংসা করে জানতে চান- আমি কি রিকশা মার্কায় ভোট চাই এবং হুজুরের নির্বাচনী সভায় অংশ নিই। আমি স্বীকার করি যে হুজুরকে ভালোবাসি বলেই ভোট চেয়েছি। এরপর কাইয়ুম মোল্যা আমাকে অশালীন ভাষায় গালাগালি ও হুমকি দেন। পরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ আমার বকেয়া বেতন পরিশোধ করে আমাকে বিদায় করে দেয়। আমি এই ঘটনার ন্যায় বিচার চাই।”
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে সালথা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ফরিদপুর-২ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আল্লামা আকরাম আলী হুজুর-এর পক্ষে ভোট চাওয়ার কারণে একজন শিক্ষককে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। “আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই,” বলেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সালথা ও নগরকান্দা উপজেলায় সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নেই। ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন স্থানে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে সালথা উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হলেও কোনো তদন্ত বা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদরাসার মোহতামিমের ভাই কাইয়ুম মোল্যা। তিনি বলেন, “হাফেজ মুকতার হুসাইনকে কোনো হুমকি বা গালাগালি করা হয়নি। তার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি আগেও একবার মাদরাসা ছেড়ে গিয়েছিলেন। পরে আবার যোগ দেন। তিনি ক্লাস চলাকালীন সময়ে ছাত্রদের দিয়ে রিকশা মার্কায় ভোট চাইতেন এবং তাদের পরিবারকেও ভোট দিতে চাপ দিতেন। এতে মাদরাসার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। তাই আমরা তাকে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলেছি। পরে তিনি উল্টো আমাদের হুমকি দিয়ে চলে যান।”
এ বিষয়ে সালথা উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। আমার কার্যালয়ে অভিযোগ বাক্সও রয়েছে, সেখানেও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগগুলো সঠিক নয়।”