Image description
 

ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে যারা একটিবারের জন্যও সংস্কারের কথা মুখে আনেনি, আজকে তারা অনেকেই সংস্কার নিয়ে বড় বড় কথা বলছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি যখন অবিরত সংস্কারের পক্ষে কথা বলেছে ও আন্দোলন করেছে, তখন যারা একটিবারের জন্যও সংস্কারের কথা মুখে আনেনি বা সংস্কার নিয়ে চিন্তা করেনি, আজকে তারা অনেকেই সংস্কার নিয়ে বড় বড় কথা বলছেন। সংস্কারের জনক, ধারক ও বাহক বিএনপিকে নিয়ে তথাকথিত এই নব্য সংস্কারবাদীরা বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছেন, যা বিস্ময়কর।’

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, ‘বিএনপি বিশ্বাস করে, জনগণের ক্ষমতায়ন তথা ভোটাধিকারের মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।’

বিএনপি শুরু থেকেই রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়ে আসছে উল্লেখ্য করে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেন, ‘২০১৬ সালে বিএনপি জাতির সামনে উপস্থাপন করে ভিশন-২০৩০। ২০২২ সালে ঘোষণা করা হয় ২৭ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব এবং ২০২৩ সালে আরও বিস্তৃতভাবে উপস্থাপন করা হয় ৩১ দফা। দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রস্তাব বিএনপিই সর্বপ্রথম জাতির সামনে তুলে ধরে, সেই ২০১৬ সালে।’

‘একইভাবে একজন ব্যক্তি যেন দীর্ঘদিন ধরে একই পদে ক্ষমতায় থাকতে না পারেন, সে লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করার প্রস্তাবও বিএনপিই আগে উত্থাপন করেছে। ২০১৪ সালেই তারেক রহমান মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে ৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের প্রস্তাব দেন’, যোগ করেন মাহদী আমিন। 

তিনি বলেন, ‘এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে গণভোটে ‘‘হ্যাঁ’’ এর পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছে, যা ইতোমধ্যেই আমাদের দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বারবার ঘোষণা করেছেন।’

তারেক রহমান নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, গত এক সপ্তাহেই আমাদের নেতা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে অন্তত ২৯টি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যার সুস্পষ্ট প্রমাণ বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্মের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আরও দেখতে পাচ্ছি, একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ফ্যাসিবাদী আমলে তৈরি মিথ্যা বয়ান পুনরায় ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে এবং একই ভাষা ও একই ধরনের স্লোগান ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এটি স্পষ্ট বিএনপির ক্রমবর্ধমান গণজোয়ার ও জনসমর্থনের মুখে তারা ক্রমশ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বলেই সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পথ ছেড়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপতথ্য ছড়ানোর নোংরা কৌশল বেছে নিয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচনী কাজে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এর ক্যাডেটদের মোতায়েন করার সিদ্ধান্তে বিএনপি উদ্বিগ্ন বলেও জানান মাহদী আমিন। একই সঙ্গে নির্বাচনে ১৬ সংস্থা থেকে ৩৪ হাজার ৪৪২ জন পর্যবেক্ষক থাকার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। 

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে এই দুই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র।