Image description

জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) সংসদীয় আসনে ভোটের মাঠ যত গরম হচ্ছে, ততই জটিল হয়ে উঠছে রাজনৈতিক সমীকরণ। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিললেও বিদ্রোহী প্রার্থী এবং বিতর্কিত ইস্যু দুদলকেই ফেলেছে অস্বস্তিতে। ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে হিসাব-নিকাশ; উত্তেজনায় টগবগ করছে পুরো নির্বাচনি এলাকা।

ভোটারদের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মন জয়ের চেষ্টা, মাইকিং, বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিতরণ, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও চায়ের আড্ডায় জমে ওঠা রাজনৈতিক তর্ক—সব মিলিয়ে মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনি উত্তাপ এখন তুঙ্গে।

জামালপুর-৩ সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৯ প্রার্থী। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ও জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মুজিবুর রহমান আজাদী। এছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের দৌলতুজ্জামান আনসারী, স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) কাপ প্রতীকের সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী শুভ, জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের মীর সামছুল আলম লিপটন, মাথাল প্রতীকের ডা. ফিদেল নঈম, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের লিটন মিয়া, সূর্যমুখী ফুল প্রতীকের শিবলুল বারী রাজু এবং ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী ফারজানা ফরিদ পুঁথিÑযিনি জেলার

পাঁচটি আসনের মধ্যে একমাত্র নারী প্রার্থী।

এই আসনে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর চতুর্মুখী ভোটের লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিলেও মূলত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বিএনপির মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের সঙ্গে জামায়াতের মাওলানা মজিবর রহমান আজাদীর। তবে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাদিকুর রহমান শুভ এবং জামায়াত নেতাদের মালিকানাধীন একটি সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগÑদুদলকেই ফেলেছে চাপে।

দীর্ঘদিন এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রভাব থাকলেও দলটি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় মাঠটি এখন উন্মুক্ত। তবুও বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বিনা চ্যালেঞ্জে এগোতে পারছেন না। দলের বিদ্রোহী প্রার্থী শুভ ভোটের মাঠে সক্রিয় থাকায় ভোট বিভক্তির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, এ এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক। যেখানে যাচ্ছি, সাড়া পাচ্ছি। জনগণ পরিবর্তন চায়। আমি নির্বাচিত হলে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ গড়ে তুলব।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মুজিবুর রহমান আজাদী দাবি করেন, গণসংযোগে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বিজয়ী হবে।

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী শুভ বলেন, আমি মনে করি গণতান্ত্রিক একটি দেশে সব ক্ষমতা জনগণের হাতে। সে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ভোট বিপ্লবের মধ্য দিয়ে অপশক্তিকে আমরা পরাজিত করব ইনশাআল্লাহ।

মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদ ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রদল নেতা জুলফিকার মোহাম্মদ শিপন বলেন, যে হিসাবই করা হোক, ধানের শীষের জয় অনেকটাই নিশ্চিত। মানুষ একবার ভোট দিয়ে এমপি বানিয়েও সংসদে পাঠাতে পারেনি; এবার সেই আক্ষেপ ঘুচাতে চায়।

বিএনপি নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, বিদ্রোহী প্রার্থী ভোট ব্যাংকে বড় প্রভাব ফেলতে পারবেন না। দুই উপজেলাতেই ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন দেখা যাচ্ছে।

মাদারগঞ্জের জোনাইল এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, বিএনপি এখনো এই আসনে একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি। জামায়াতও এখানে বেশ ভালো অবস্থান তৈরি করেছে। এ আসনে দুদলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

তবে মাদারগঞ্জে বহিষ্কৃত জামায়াত নেতাদের পরিচালিত একটি সমবায় সমিতির প্রায় এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নির্বাচনি মাঠে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, যা জামায়াতের জন্য অস্বস্তির কারণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

স্থানীয় ভোটারদের মতে, শেষ পর্যন্ত লড়াই সীমিত থাকবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী ও বিতর্কিত ইস্যুগুলো ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

দিলালেরপাড়া এলাকার সাইদুর রহমান জানান, বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এলাকায় ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন। তবে প্রার্থী সংখ্যা যতই হোক, শেষ পর্যায়ে জয় সম্ভবত বিএনপি বা জামায়াতেরই হবে।