কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী এবং কুমিল্লা-১০ আসনে আবদুল গফুর ভূঁইয়া আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। অন্যদিকে কুমিল্লা-১০ আসনে দলটির আরেক প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আপিল করতে পারবেন বলে রায় দিয়েছেন উচ্চ আদালত। একইসঙ্গে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বলেও আদেশে বলা হয়েছে। তবে, আপিল নিষ্পত্তি হওয়ার আগে পর্যন্ত তার নির্বাচনী ফলাফল ‘অনিষ্পন্ন’ থাকবে বলেও আদেশে বলা হয়েছে।
আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই রায় দেন।
ঋণখেলাপির অভিযোগে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিল নির্বাচন কমিশন। ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। পরে ২৫ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাঁকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি ইতোমধ্যে প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।
তবে হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন একই আসনের বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার হাসান আহমেদ। আজ সেই আবেদন গ্রহণ করেছেন আদালত।
আদেশের পর মোবাশ্বের আলমের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, কুমিল্লা-১০ আসনের প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রার্থিতা নিয়ে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে তৃতীয়পক্ষ আবেদন করেছিল। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেছেন। আদালত বলে দিয়েছেন, মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তাঁর নির্বাচনে কোনো বাধা নেই। তবে নির্বাচনের ফলাফল আপিলটিতে ভবিষ্যতে কী রায় আসে, তার ওপর নির্ভর করবে।
একই আসনে বিএনপির আরেক নেতা আবদুল গফুর ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আমেরিকার নাগরিকত্বের অভিযোগ এনেছিলেন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী কাজী নুরে আলম সিদ্দিকী। পরে ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন (ইসি) শুনানি শেষে গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করে।
ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গফুর ভূঁইয়া হাইকোর্টে রিট করলে গত ২২ জানুয়ারি তা সরাসরি খারিজ হয়। হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে তিনি পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যান। কার্যতালিকার ১০২ নম্বর ক্রমিকের সেই লিভ টু আপিলের ওপর আদেশে ওয়েবসাইটে লেখা ‘ডিসমিসড’।
অন্যদিকে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল হয় ঋণখেলাপির তথ্য গোপন করায়। অবশ্য রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। পরে একই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর আপিলের শুনানি শেষে ১৭ জানুয়ারি মঞ্জুরুলের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে ইসি।
সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মঞ্জুরুল আহসান হাইকোর্টে রিট করলেও গত ২১ জানুয়ারি তা সরাসরি খারিজ করে দেন আদালত। এরপর সুপ্রিম কোর্টে মঞ্জুরুল লিভ টু আপিল করেন। ১০৩ নম্বর ক্রমিকে সেই আপিলের আদেশেও লেখা হয়েছে ‘ডিসমিসড’।
আজ আদালত চত্বরে উপস্থিত ছিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহর আইনজীবী মো. জহিরুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত আপিল বিভাগও বহাল রেখেছেন। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আজ তাঁর লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে তিনি আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।