Image description

ভোটে আছে জাতীয় পার্টি কিন্তু মাঠের অবস্থান নড়বড়ে। নির্বাচনের আগেই দলের সিনিয়র অনেক নেতা  ফ্রন্ট গঠন করেছেন। রওশন এরশাদ গ্রুপ নীরব। জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি নির্বাচনে লড়ছে। ১৯৬টি আসনে দলটি প্রার্থী দিতে পেরেছে। এই আসনগুলোর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেই জাপার প্রার্থী। দলটির দুর্গ-খ্যাত রংপুরেও এবার লাঙ্গলের জোয়ার নেই। এই অবস্থায় দলের প্রার্থীদের সাফল্য নিয়ে নেতারাই সন্দিহান। যদিও তারা কিছু কৌশলে ভোটে দলের মর্যাদা রক্ষা করতে চাইছেন। কৌশলের অংশ হিসেবে নির্ধারিত আসন লক্ষ্য করে তারা কাজ করছেন। প্রচারণায় নেয়া হয়েছে ভিন্ন কৌশল। পতিত আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা পাওয়া দলটি এবার সব আসনে জোরালোভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারছে না। কারণ মাঠের পরিস্থিতি চরম বৈরী। তবে নির্ধারিত আসনগুলোতে তারা কৌশলে প্রচার চালাচ্ছেন। ঘরে ঘরে যাচ্ছেন। তবে বড় পরিসরে সভা-সমাবেশ হচ্ছে কম। এবার দলটি আওয়ামী লীগের ভোটকে টার্গেট করে কাজ করছে। এ কারণে গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে দলটি। দলের প্রধান জিএম কাদের প্রকাশ্যে না ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের। তার এই ঘোষণার পর জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া শক্তি নাখোশ। 

থেকে নির্বাচন করা মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, আমরা বাধাহীন জনসংযোগ করতে পারছি। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ নেই। আমরা আশাবাদী। কারণ এই আসনে বিএনপি, বিএনপি’র স্বতন্ত্র এবং জামায়াতের প্রার্থী আছে। অনেকেই এই তিনজনের বাইরে ভোট দিতে চান। তারা পাওয়ার প্রাকটিসের বাইরে থাকতে চান। আমরা সেসব ভোটারদের টার্গেট করছি। জনগণ সাড়া দিচ্ছে কারণ বড় প্রার্থী আসলে এলাকায় সন্ত্রাস, দুর্নীতি আসবে। আর দু’পক্ষের বাইরে থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ হবে।

জাপার সার্বিক নির্বাচনী পরিস্থিতি জানতে এক কেন্দ্রীয় নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেন শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর। বলেন, আমাদের সামনে একটা সুযোগ ছিল। আমরা চাইলে বিএনপি-জামায়াতের বাইরের ভোটগুলো ধরতে পারতাম। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের ভোটারদের উৎসাহিত করতে পারতাম। কিন্তু তাদের কাছে পৌঁছাতে আগে সাধারণ মানুষের দুয়ারে যেতে হবে। কিন্তু আমাদের চেয়ারম্যান দলীয় সিদ্ধান্ত না নিয়েই একাই ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রান্তিক পর্যায়ে বিষয়টি ভালোভাবে নেয়া হচ্ছে না। জনগণ বলছে যারা সংস্কারের পক্ষে রায় দেয় না তাদের আমরা ভোট কেন দেবো? মানে এমন একটা পরিস্থিতি হয়েছে যে, লাঙ্গলে ভোট চাওয়ার থেকে ‘না’ ভোট কেন চাইলাম সেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে।

এবার ভোটের মাঠ যে বৈরী তা খোদ দলের চেয়ারম্যানও বুঝতে পেরেছেন। এ কারণে নিজ নির্বাচনী এলাকায় পথে ঘাটে ঘুরে তিনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। রংপুর-৩ আসন থেকে তিনি লড়ছেন। এর বাইরে সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারণায় দলীয় প্রধানের সভা সমাবেশ এখন পর্যন্ত নেই।