চাকসু মামুনে পাল্টে যাচ্ছে সিলেট-৫ আসনের ভোটের হিসাব। বিএনপি না থেকেও আছে নির্বাচনে। বিদ্রোহী মামুনুর রশীদ ‘চাকসু মামুন’। ভোটে দাঁড়ানোর কারণেই জেলা বিএনপি’র প্রথম সহ-সভাপতি থেকে বহিষ্কৃত। দলের সহযোদ্ধা নেতারা এখন তার ঘোর প্রতিপক্ষ। জেলার নেতারা ঘন ঘন সফর করছেন কানাইঘাটে। দফায় দফায় করছেন বৈঠকও। উদ্দেশ্য চাকসু মামুন আটকাও। শরিক দল জমিয়ত প্রার্থীকে বিজয়ী করুনÑ এমন ঘোষণা তাদের। কিন্তু ঘোষণায়ও কাজ হচ্ছে না। তৃণমূল নড়ছে না। মামুনের পক্ষেই ঐক্যবদ্ধ। রহস্যময়ভাবে নীরব কেউ কেউ। আছে ক্ষোভও। প্রতিবার নির্বাচন এলেই ধানের শীষ বিসর্জন। জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটে দলীয় প্রার্থী থাকে না। বার বারই ভোট দিতে হয় অন্য প্রতীকে। কাজও হয় না। এতে বিরক্ত তৃণমূল। নির্বাচনের শুরু থেকেই মাঠে থাকা দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে সবাই ঐক্যবদ্ধ ছিলেন।
এ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী সংখ্যাও বেশি ছিল। তরুণ প্রার্থীরা মাঠ কাঁপিয়েছেন। আসনে ধানের শীষ ফিরিয়ে দিতে বার বার আবদার করেছিলেন। কিন্তু জেলা কিংবা কেন্দ্রের নেতারা তাতে কান দেননি। প্রার্থী দেয়নি বিএনপি। আবারো সেই খেজুর গাছ। ২০১৮ সালে এই প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন মাওলানা ওবাদুল্লাহ ফারুক। ভোটের মাঠে আলোচনায় আসতেই পারেননি। এবারো তার দিকেই গেল বিএনপি’র সমর্থন। বেঁকে আছেন বিএনপি’র তৃণমূল নেতারা। চাকসু মামুন ভোটের মাঠেই বলেছিলেন ধানের শীষ ফেরাতে তিনি নিজেকে বিসর্জন দেবেন। দিয়েছেনও। শেষ মুহূর্তেও মাঠ ছাড়েননি। প্রতীক পেয়েছেন ফুটবল। আর প্রতীক নিয়ে তিনি মাঠে সক্রিয়। সিলেট-৫ আসনে সবাই বলছেন ত্রিমুখী লড়াইয়েই এগুচ্ছে ভোটের হিসাব। এ হিসাবে চাকসু মামুনের সঙ্গে দুই জোটের দুই প্রার্থী। বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়ত সভাপতি ওবায়দুল্লাহ ফারুক। আর ১০ দলের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল হাসান। দু’জনই প্রখ্যাত আলেম, সজ্জন ব্যক্তি। দেশ জুড়েই আছে পরিচিতি। কিন্তু দুই জোটের ভেতরে নানা প্রেডিকশন মামুনকেই এগিয়ে রাখছে। এ কারণে মামুন আলোচনায়। প্রচারণার মাঝামাঝি এই অবস্থায় মামুনকে নিয়ে আশাবাদী অনেকেই। এর কারণও ভিন্ন। হিসাব মেলাবে জকিগঞ্জের ভোট। সেটি ইতিমধ্যে সব মহলের বিশ্লেষণে এসেছে। জকিগঞ্জে বাড়ি ১০ দলের প্রার্থী মুফতি আবুল হাসানের। তার সঙ্গে আছে জামায়াত। প্রথম প্রার্থী হয়েই চমক দেখিয়েছেন। জকিগঞ্জের হিসাবে মুফতি আবুল হাসান এগিয়ে। কওমি অঙ্গনের ভোট তার পক্ষে একাট্টা। শুধুমাত্র জমিয়তের ভোট যেতে পারে মাওলানা ফারুকের ঘরে। কওমির অন্য ভোট সবই তার। কিন্তু মামুনের হিসাব অন্য জায়গায়। জকিগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল মামুনের পক্ষে একাট্টা।
কর্মীরা বলছেন- ৮০ ভাগ ভোটই যাবে মামুনের বাক্সে। ফুলতলীর সিংহভাগ ভোটে ভাগ বসিয়েছেন মামুন। আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘু ভোট মামুন ছাড়া অন্য বাক্সে যাওয়ার সুযোগ কম। জাতীয় পার্টির নেতারা প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে মামুনের পক্ষে ভোট প্রচারণায় নেমেছেন। ফলে জকিগঞ্জের ভোটে মুফতি আবুল হাসানের সঙ্গে টক্কর দেবেন মামুনই- এমনটি জানিয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। লড়াই হবে সমানে সমানে। কানাইঘাটে বাড়ি চাকসু মামুনের। জমিয়ত প্রধান মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুকের বাড়িও একই এলাকায়। সম্পর্কে তারা খালাতো ভাই। দু’জনের অবস্থান এখন দু’দিকে। পারিবারিক ভোটেও বিভক্তি। মামুন ভোটের মাঠে টেনে আনছেন ২০১৮’র ঘটনা। ওই নির্বাচনে তিনি মাওলানা ফারুককে ছাড় দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু মাওলানা ফারুক সেটি মানতে নারাজ। এমন ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি মাওলানার। কানাইঘাটের ভোটও তিন বাক্সে যাবে। জমিয়তের ভোট ব্যাংক বেশি এ আসনে। লড়াই হবে ত্রিমুখী। তবে জকিগঞ্জের মতো কানাইঘাটেও হিসাব মিলিয়ে রেখেছেন মামুন। এ উপজেলায়ও বিএনপি’র তৃণমূলের বেশির ভাগ কর্মী মামুনের সঙ্গে। ভোট প্রচারণায়ও সরব তারা। বিএনপি নেতারা এরই মধ্যে মামুনকে অ্যাটাক করছেন। মামুনও পাল্টা জবাব দিচ্ছেন। এতে আদতে লাভই হচ্ছে চাকসু মামুনের। যতই অ্যাটাক আসছে তৃণমূল মামুনের পক্ষে আরও শক্তিশালী হচ্ছে। কানাইঘাট আওয়ামী লীগের ভোটেও ভাগ বসিয়েছেন মামুন। দুই আলেমের চেয়ে বেশি ভোটই টানবেন তিনি। জামায়াতকে নিয়ে আছে প্রশ্ন। ক্ষোভ আছে কানাইঘাটের জামায়াতের। সজ্জন প্রার্থী হাফিজ আনোয়ার হোসেন খানকে নিয়ে তারা মাঠে সক্রিয় ছিলেন। শেষ মুহূর্তে প্রার্থী গেল খেলাফত মজলিসের ঘরে। জামায়াতের তৃণমূল স্থানীয় প্রার্থীর পক্ষে একাট্টা হচ্ছেন। স্বতন্ত্রকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন তারা। নেতারা ১১ দলের প্রার্থীর পক্ষে থাকলেও কর্মীরা ইতিমধ্যে বিভক্ত হয়েছেন।