Image description

বলা হচ্ছে চ্যালেঞ্জের আসন। সেটি হচ্ছে সিলেট-৬। গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার। ক্রমেই জমছে খেলা। এ খেলার ফলাফল কী হবে তা এখনো অজানা। তবে ‘লাকিম্যান’ এমরান আহমদ চৌধুরী। বিএনপি’র প্রার্থী। নিজ দলের ভেতরেই তিনি খেল দেখিয়েছেন। একেক করে সবাইকে টপকে নিয়ে এসেছেন দলীয় মনোনয়ন। এটি চমকই ছিল। তারেক রহমান সিলেটে এসেছিলেন ২১শে জানুয়ারি। ওইদিন আরেক চমক দেখালেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন ড. এনামুল হক চৌধুরী, আবুল কাহের শামীম, ফয়সল আহমদ চৌধুরীসহ দলের ভেতরে মনোনয়ন চাওয়া সব প্রার্থী।

সবাইকে নিয়ে তিনি বসলেন। করলেন সংবাদ সম্মেলন। জানিয়ে দিলেন তারা সবাই এক। বিয়ানীবাজার বিএনপি ব্যাকফুটে ছিল। সেখানেও সফল এমরান চৌধুরী। ফয়সল চৌধুরীর নির্দেশে মান-অভিমান ভুলে এক হলেন সেখানকার বিএনপি’র নেতারা। দু’দিন আগেই হয়েছে সেই বৈঠক। এখন এমরানের পক্ষে সবাই একাট্টা। এ আসনে এমরান চৌধুরীর প্রতিপক্ষ ঢাকা উত্তর জামায়াতের আমীর সেলিম উদ্দিন। তার বাড়ি বিয়ানীবাজারে। এ আসনে সেলিম উদ্দিনের প্রার্থিতায় ছিল চমক।

জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন সিলেটের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান। জামায়াতের হয়েই তিনি এ আসনে এককভাবে প্রার্থী ছিলেন। হঠাৎই প্রার্থী বদল। মাওলানা হাবিব সরে গেলেন। চলে এলেন সিলেট-১ আসনে। এ আসন তার জন্য নতুন। ইতিমধ্যে ভোটারের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। সিলেটের ৬টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে সবার আগে যে আসনে প্রার্থীর নাম এসেছিল সেটি ছিল সিলেট-৬। জামায়াত জানান দেয় তখনই। আসনটি তারা ছাড়বে না। সেলিম উদ্দিন জামায়াতের ভেতরে অন্তঃপ্রাণ নেতা। তাকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই।

রাজনীতির মাঠে সেলিম উদ্দিনকে নিয়ে বাজিই ধরলেন জামায়াত নেতারা। সিলেটের ৬টি আসনের মধ্যে একেক করে ৩টি আসনই ছাড় দিলো জামায়াত। এখন তাদের হাতে রয়েছে ৩টি আসন। এই তিন আসনের মধ্যে জামায়াতের ভেতরে চ্যালেঞ্জের আসন সিলেট-৬। সেলিম উদ্দিনের জয় চায় জামায়াত। এজন্য আসনে সর্বশক্তি নিয়োগ করে জামায়াত নেমেছে। সেলিম উদ্দিনও ইতিমধ্যে নিজ দলের ভোটারের মধ্যে প্রভাব ফেলছেন। এখন টার্গেট নিরপেক্ষ ভোট ব্যাংক। কয়েক হাজার কর্মী মাঠে। সেলিম উদ্দিন সতর্ক। সিলেটে নির্বাচনী প্রচারণায় এসেছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক। দাওয়াত দিয়ে তাকে নিয়ে গেছেন নিজের নির্বাচনী আসনে।

সূত্র বলছে; সিলেট-১ ও সিলেট-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী রয়েছেন। চান্স ফিফটি-ফিফটি। এই অবস্থায় সিলেট-৬ আসনে জয় হতেই হবে। প্রশাসনেরও নজর এ আসনে। কী হতে যাচ্ছে। চোখ রাখছেন সবাই। লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। তবে একটি হিসাব পরিষ্কার। বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়ে নামলে সব হিসাব পাল্টে যাবে। এ পথেই হাঁটছে বিএনপি। চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছে আসন। অন্য আসনে তাদের জয় সহজেই হবে। কিন্তু সিলেট-৬ ছাড়া যাবে না- এমন পণ নিয়ে নেতারা মাঠে নেমেছে। ইতিমধ্যে কথার যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এমরান ও সেলিমের মধ্যে পাল্টাপাল্টি চলছে।

মামুনুল হককে স্টেজে রেখে সেলিম উদ্দিন বলেছেন- নির্বাচিত হলে এসপি, ওসি তাকে না জানিয়ে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারবে না। তার এই বক্তব্য এখন ভাইরাল। তাহলে কী বুঝাতে চাচ্ছেন সেলিম উদ্দিন? এ নিয়ে ভোটার মহলে নানা বিশ্লেষণ। তার এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পাল্টা জবাব দিয়ে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়েছেন এমরান চৌধুরী। বলেছেন- আমার প্রতিপক্ষ কী বুঝাতে চাচ্ছেন সেটা বুঝতে পারছেন। উনি নির্বাচিত হলে আপনারা বাড়িতে থাকতে পারবেন না। সুতরাং এখন থেকেই ধানের শীষের বিজয়ের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামতে হবে। বিএনপি জোটের বিদ্রোহী আছে এ আসনে। জমিয়ত নেতা ফখরুল ইসলাম মাঠ ছাড়েননি। রিভার বেল্ট, উলামাদের একাংশের ভোট তিনি টানতে পারেন। তবে খুব বেশি নয়। এ নিয়ে চিন্তিত নয় এমরান চৌধুরী। আসনে রয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোট ব্যাংক। সেটি নড়ছে না। জামায়াত নেতারা নানাভাবে আয়ত্তে আনার চেষ্টা করছেন। কাজ হবে বলে মনে হয় না। এ আসনের ভোটাররা সিলেটের অন্য আসনের মতো নয়। সবচেয়ে সচেতন ভোটার। শিক্ষিত জনপদ। বহিরাগতদের নিয়ে শঙ্কা বিএনপি’র। অনেক বহিরাগত ইতিমধ্যে এ আসনে যাতায়াত বাড়িয়েছে। তাদেরকে কেউ চিনে না। চোখ রাঙানির আভাস মিলছে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে এরই মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।