শ্রমিক অধ্যুষিত গাজীপুরের ৫টি আসনে বিএনপি, জামায়াত জোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই), জাতীয় পার্টি, এবি পার্টি, সিপিবি, গণফোরাম, মার্কসবাদী, জনতার দল, স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন দলের ৩৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৫টি আসনের মধ্যে মূলত ২টি আসনে লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
অতীতের তিনটি নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনি পরিবেশ কাটিয়ে নতুন আশার আলো জাগ্রত হলেও ভোটারের মনে এখনো রয়েছে নানা প্রশ্ন। ত্রয়োদশ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আর মাত্র দুই সপ্তাহ থাকলেও ভোটারদের মনে তেমন একটি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। জমে উঠেনি নির্বাচনি হাওয়া।
বিশ্লেষকগণের ভাষ্যমতে- খেলার মাঠে দুর্বল প্রতিপক্ষ গাজীপুরের ৫টি আসনের তিনটিতেই নির্ভার বিএনপির প্রার্থীরা। তবে এর একটিতে বিএনপির এক সাবেক নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে থাকা এবং দলটির সিনিয়র নেতাদের নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় সাধারণ ভোটারের মনে সন্দেহের দানা বাঁধছে। এছাড়া অপর দুটি আসনে লড়াই হতে পারে হাড্ডাহাড্ডি।
গাজীপুরে ৫টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ২৭ লাখ ৩৮ হাজার ২৪৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩ লাখ ৬৪ হাজার ৩৪৮ জন, নারী ভোটার ১৩ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৭ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছে ৩৪ জন।
এখানে মোট ভোট কেন্দ্র আছে ৯৩৫টি এবং মোট ভোটকক্ষ সংখ্যা ৫ হাজার ১৭৩ টি। এর মধ্যে অস্থায়ী ভোটকক্ষ রয়েছে ৩৭৩টি।
নির্বাচনে অংশ নিতে জেলায় মোট ৫৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও বর্তমানে মাঠে রয়েছেন ৩৫ জন। জামায়াতে ইসলামী গত ৮ মাস আগে থেকে পাঁচটি আসনে তাদের একক প্রার্থী চূড়ান্ত করে ব্যাপক গণসংযোগ করে আসছিল। শেষপর্যায়ে জোটের শরিক দল এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে দুটি আসন ছেড়ে দিয়েছে।
মাঠে অন্যান্য দলের প্রার্থী থাকলে তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সব আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। জাতীয় পার্টি, এবি পার্টি, মার্কসবাদী, ওয়ার্কার্স পার্টি প্রার্থী দিলেও তাদেরও মাঠে তেমন কোনো সাড়া নেই।
গাজীপুর-১ (কালিয়াকৈর ও গাজীপুর সিটির ১-১৮ ওয়ার্ড):
পূর্বে আসনটি কালিয়াকৈর ও শ্রীপুর উপজেলা নিয়ে গঠন করা হয়েছিল। ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান তার মন্ত্রী পরিষদে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিলেন চৌধুরী তানভীর আহমদে সিদ্দিকীকে। এরপর ১৯৮৬ সালে জয়লাভ করে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মতিউর রহমান। ১৯৯১ সালের নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট রহমত আলী। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে চৌধুরী তানভীর সিদ্দিকী, একই বছর জুনে জয়ী হন অ্যাডভোকেট রহমত আলী। এই আসন থেকে রহমত বরাবরই এমপি হতেন। ২০০৮ সালে আসনটি দুটি ভাগ করা হয় এবং কালিয়াকৈরের সঙ্গে গাজীপুর সদরের তিনটি ইউনিয়ন যুক্ত করা হয়। পরে এ আসনে আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট আকম মোজাম্মলে হক নির্বাচিত হন। তিনি ২০২৪ এর আন্দোলন পর্যন্ত এমপি ছিলেন।
গাজীপুর-১ আসনে মোট ভোটার ৭ লাখ ২০ হাজার ৯৩৭ জন। এই আসনে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। বিএনপির প্রার্থী সাবেক পৌর মেয়র মো. মজিবুর রহমান এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শাহ আলম বকশী। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জিএম রুহুল আমীন, স্বতন্ত্র প্রার্থী এমারত হোসেন খান ও মার্কসবাদী দলের প্রার্থী আছেন তাসলিমা আক্তার।
বিএনপি প্রার্থী মো. মজিবুর রহমান বলেন, এ আসন থেকে ইতোপূর্বে বিএনপি জয় পায়নি; কিন্তু আমি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বারবার মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলে গাজীপুর-১ আসনকে একটি পরিকল্পিত ও যুগোপযোগী এলাকা হিসেবে গড়ে তুলব।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহ আলম বকশী বলেন, আমরা বিপুল ভোটে জয়ের আশাবাদী। আমরা অন্যায়, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত না সুতরাং এসব কারণে আমরাই ভোটের আশাবাদী।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জিএম রুহুল আমিন নিজেকে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে দাবি করে ভোটারের কাছে হাত পাখায় ভোট প্রার্থনা করেন।
গাজীপুর-২ (জিসিসির ১৯-৩৯ ওয়ার্ড ও ৪৩ থেকে ৫৭নং ওয়ার্ড (টঙ্গী) এবং ক্যান্টনম্যান্ট এলাকা) :
দেশের সবচেয়ে বেশি ভোটার অধ্যুষিত আসন এটি। পৌনে ৯ লাখ ভোটার এখানে। এই আসন সব সময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। টঙ্গী ও গাজীপুর শহর নিয়ে গঠিত এ আসনটি শিল্পাঞ্চল ও ঢাকার প্রবেশদ্বার। দীর্ঘ দিন ধরে এটি ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। টানা চারবার এখানে বিজয়ী হয়েছেন জাহিদ আহসান রাসেল। তবে ১৯৯১ সালে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির অধ্যাপক এমএ মান্নান।
এবার আওয়ামী লীগ না থাকায় নির্বাচনের হিসাব হবে ভিন্ন। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বসে পড়ায় এবং জামায়াতের দলীয় প্রার্থী না থাকায় হিসাব অনেকটা পাল্টে গেছে। এ আসনে টঙ্গীর সরকার পরিবারের একটা প্রভাব রয়েছে।
এ আসনে প্রার্থীরা হলেন- এম মঞ্জুরুল করিম রনি (বিএনপি), আলী নাসের খান (এনসিপি), সরকার তাছলিমা আফরোজ লিটা (ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ), ব্যারিস্টার আব্বাস খান (এবি পার্টি), অ্যাডভোকেটে জিয়াউল কবীর খোকন (সিপিবি), হানিফ সরকার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), আব্দুল কাইয়ুম (বাসদ), মাহবুব আলম (জাতীয় পার্টি), মাসুদ রেজা (মার্কসবাদী)।
বিএনপি প্রার্থী গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত অধ্যাপক এমএ মান্নানের ছেলে। তিনি মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। বিভিন্ন কারণে তিনি এখন ভোটের মাঠে সুবিধাজনক অবস্থানে। এম মঞ্জুরুল করমি রনি বলেন, আমি ভোটারদের উদ্দেশে বলতে চাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সবাই মিলে ভোট কেন্দ্রে যাবেন এবং ধানের শীষে ভোট দেবেন। আমরা চাই অনেক প্রার্থী থাকবে এবং একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে।
এনসিপির প্রার্থী আলী নাসের খান বলেন, আশা করছি গাজীপুর-২ আসন জোটের পক্ষ হতে শাপলা কলি জয়যুক্ত হবে। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা সুষ্ঠু একটি নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি। শহীদদের উত্তরসূরি হিসেবে আমাদের এখনো অনেক কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। আশা করছি ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণ আমাদের ভোট দিবে।
গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর ও সদর উপজেলার তিন ইউনয়িন):
দীর্ঘ দিন এ আসনটি ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। বর্তমানে তাদের নেতারা আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় সাধারণ নেতাকর্মীরা দলে দলে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। অপরদিকে এ আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী বসে গিয়ে খেলাফত মজলিসকে ছেড়ে দিয়েছে। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বিএনপির সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইজাদুর রহমান।
এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৫৯ জন। এর মধ্যে নারী ২ লাখ ৬৭ হাজার ১৬২ জন, পুরুষ ২ লাখ ৬০ হাজার ১৯০ জন ও হিজড়া ভোটার ৭ জন। এখানে ভোটকেন্দ্র ১৮০টি, ভোটকক্ষ ৯৮৯টি এবং অস্থায়ী ভোটকক্ষ ৮০টি।
এ আসনের প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির অধ্যাপক ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ এহসানুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলমগীর হোসাইন, এবি পার্টির মো. কৌশিক আহমেদ, বাসদের আশিকুল ইসলাম পিয়াল, জাতীয় পার্টির নাজিম উদ্দীন।
বিএনপি প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, আমরা জয়লাভ করলে সাধারণ মানুষকে নিয়ে একটি উন্নত শ্রীপুর এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পনগরী ও শিক্ষানগরী হিসেবে গড়ে তুলব।
গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) :
স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনটি ছিল তাজউদ্দীন আহমদ পরিবারের দখলে। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদের পরিবারকে মানুষ ভালোবেসে আওয়ামী লীগকে ভোট দিতেন। তবে ১৯৯১ সালে এ আসনে বিজয়ী হন বিএনপি নেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহ। এ পরিবারটিও কাপাসিয়ার একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবার। আজ বহু বছর পর কাপাসিয়াবাসী তাজউদ্দীন পরিবারবিহীন ফকির মজনু শাহ বা হান্নান শাহের পরিবারকে এককভাবে মাঠে পেয়েছে।
এ আসনে ইতোমধ্যেই একটি শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শিবিরের সাবেক সভাপতি সালাউদ্দিন আইউবী। এর আগে ভোটের মাঠে এ আসনে জামায়াতের তেমন কোনো প্রভাব ছিল না।
এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩০ হাজার ৯৭৭ জন। এর মধ্যে নারী ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৪৮ জন, পুরুষ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৯ জন। এখানে ভোট কেন্দ্র ১২২টি, ভোটকক্ষ ৬৫৪টি এবং অস্থায়ী কক্ষ ৪৩টি।
এ আসনে অপর প্রার্থীরা হলেন- মানবেন্দ্র দেব (সিপিবি), এনামুল কবীর (জাতীয় পার্টি)।
বিএনপি প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান বলেন, আমি সুনির্দিষ্টভাবে কাপাসয়িার উন্নয়নে ৫টি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। এগুলো হচ্ছে পরিবেশবান্ধব কলকারখানা, মাদকমুক্ত কাপাসিয়া, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা, শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য বন্ধ ও স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান।
জামায়াত প্রার্থী সালাহউদ্দিন আইউবী বলেন, বাংলাদেশে পরিবর্তনের জোয়ার চলছে। মানুষ ন্যায়, সহনশীল ও সৎ মানুষকে পছন্দ করছে। কাপাসিয়ার সাধারণ মানুষ চাঁদাবাজ, মাদক ও হয়রানিতে অতিষ্ঠ। এসব থেকে মুক্ত হতে মানুষ দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবেন।
গাজীপুর- ৫ (কালীগঞ্জ ও সিটির ৪০-৪২ ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনয়িন):
এ আসনে চারবার বিজয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টি একবার, স্বতন্ত্র দুইবার এবং বিএনপি নির্বাচিত হয়েছে দুইবার। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৬৪৩ জন। এর মধ্যে নারী ১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৪৮ জন, পুরুষ ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯৩ জন এবং হিজড়া ভোটার ২ জন। এ আসনে মোট কেন্দ্র ১২৪ টি, ভোটকক্ষ ৬৭৮ টি এবং অস্থায়ী ২৩টি।
এ আসনে প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি একেএম ফজলুল হক মিলন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গাজী আতাউর রহমান, জনতার দলের আজম খান, ইসলামী ফ্রন্টের আল আমীন দেওয়ান ও গণফোরামের কাজল ভূঞা।
বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি একেএম ফজলুল হক মিলন বলেন, বহুদিন পর দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচন হতে চলেছে। যে নির্বাচনের জন্য সীমাহীন ত্যাগ আমরা স্বীকার করেছি। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে। আমি নির্বাচিত হলে আমার আসনের গণমানুষের সকল চাহিদা পূরণ করব।
জামায়াতের প্রার্থী খায়রুল হাসান বলেন, আল্লাহর মেহেরবানিতে আমরা যদি নির্বাচিত হই তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গাজীপুর-৫ আসনকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত করে সুশাসনের একটি জনপদ গড়ে তুলব এবং সবাইকে নিয়ে আধিপত্যবিরোধী একটি নগর উপহার দেব।
জনতার দলের প্রার্থী আজম খান বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো ঠিক আছে বলে মনে করি না। কোনো একটি বিশেষ দলকে প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা করছে। নির্বাচনে যদি সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হয় তাহলে মার্কা দেখে নয়, প্রার্থী ও তার যোগ্যতা দেখেই মানুষ ভোট দেবে। আমরা চাই নতুন রাজনৈতিক দল এবং নতুন নেতারা উঠে আসুক।
চ্যালেঞ্জে ভাসমান ও তরুণ ভোটার
শিল্প অধ্যুষিত গাজীপুর জেলায় ছোটবড় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় কাজ করেন অর্ধকোটি মানুষ। এদের মধ্যে দীর্ঘ দিন বসবাস করায় বর্তমান ঠিকানায় ভোটার হয়েছেন অনেকে। মহানগরীর ৫৭টি ওয়ার্ডে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার ভাসমান। বিশেষ করে কোনাবাড়ি, কাশিমপুর, বাসন, গাছা, পূবাইল, মাওনা ও টঙ্গী এলাকায় প্রায় অর্ধেক ভোটার ভাসমান। এসব ভোটারদের মনস্তাত্ত্বিক দিক বিশ্লেষণ করা দুরূহ। এদের মধ্যে আবার অর্ধেক ভোটার নির্বাচনি ছুটিতে গ্রামে চলে যান। যার ফলে তাদের হিসাবটা কষা কষ্টকর। তাদের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নয়ন ও তাৎক্ষণিক প্রতিশ্রুতি বেশি কাজ করে। যেসব প্রার্থী তাদের এ চিন্তাকে কাজে লাগাতে পারবে, তাদের দিকে ফলাফল যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এছাড়াও এবার অনেক ভোটার জীবনের প্রথম ভোট দেবেন। এসব তরুণ ভোটার অনেকটা সচেতন ও জুলাই চেতনাধারী। এ ভোটগুলো দলগত দিক বিবেচনা না করে প্রার্থীকে গুরুত্ব দেবে।