এস আলম, রাতের ভোটের এমপি মন্ত্রীরা লুটপাট করে বিদেশ চলে গেছে। আরামে আছে। নিরাপদে বসে ভিডিও কলে দেশ উল্টে ফেলতে বলছে বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের মত তৃণমূলের নেতাকর্মীদের। আর এই তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মিছিল করতে গিয়ে ধরা পড়ে জেল খাটছে।
সাদ্দাম গত ১৭ মার্চ মিছিল এবং ক/ক/টে/ল বিস্ফোরণের মামলায় ৫ এপ্রিল গ্রেপ্তার হন। জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার একটি হা/ম/লা মামলাও রয়েছে। তারপর থেকে কারাগার। কেউ জামিন করায়নি। জামিন করাতে রাজনীতি করেন, এমন উকিল ধরতে হয় আজকাল। তাদের ফি আবার এসব মামলায় অনেক হাই। সেদিন আওয়ামী লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতার কাছে শুনলাম, একটা জামিনে ১৩ লাখ টাকা লেগেছে! এভাবেই রাজনৈতিক উকিল ধরে হাদির সন্দেহভাজন খুনি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল জামিন পেয়েছিলেন হাইকোর্ট থেকে।
স্বামীর কারাগারে থাকায় সাদ্দামের স্ত্রী হতাশাগ্রস্ত বিপর্যস্ত স্বর্ণালী ৯ মাসের সন্তানকে হ/ত্যা করে আ/ত্ম/হ/ত্যা করেছেন বলে ধারনা করা হচ্ছে বলে খবরে এসেছে। অসহনীয় কষ্টের খবর। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও দোয়া।
সাদ্দামের ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ে আন্দোলনকারীদের দমন কর্মসূচি এবং ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ের তৎপরতার নানা আপডেট রয়েছে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত। রয়েছে শেখ হাসিনার ভাই শেখ হেলাল এবং ভাতিজা শেখ তন্ময়ের বন্দনা। এস্থেটিক রিলস, ছবি, ভিডিও আছে প্রতিদিনের। নেই স্ত্রী সন্তানের তথ্য। স্থানীয় সহকর্মী সাংবাদিক জানালেন, ছাত্রলীগে পদ ধরে রাখতে তিন বছর আগে বিয়ে করলেও তা গোপন রেখেছিলেন সাদ্দাম।
খবর অনুযায়ী, সাদ্দামের স্ত্রীর বড়ভাই বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে মৌখিক আবেদন করলেও, প্যারোলের আনুষ্ঠানিক আবেদন করেননি। গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার সাদ্দাম ছিলের যশোর কারাগারে। সেখানেও তাঁর প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেনি কেউ। আবেদন না করলে।মুক্তির সুযোগ নেই। তাই মৃত সন্তানের মরদেহ কারাফটকে নেওয়া বাগেরহাট। কয়েক মিনিটের জন্য দেখতে দেওয়া হয়। আমারও সন্তান আছে। ছোট্ট সন্তানের মরদেহ কোলে নিয়ে সাদ্দামের কেমন লাগছিল ভেবে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।
প্রথমে তোলা আলাপে ফিরি। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ভাই হেলাল ও ভাতিজা তন্ময় বিদেশ চলে গেছেন ৪ আগস্ট রাতেই। পরের ৮ মাসে সাদ্দাম অন্তত ২০ বার শেখ তন্ময়ের সঙ্গে পুরনো ছবি ভিডিও দিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, অভিভাবক।
কিন্ত বিদেশে চলে যাওয়া অভিভাবকরা কী দেশে বিপদে ফেলে রেখে যাওয়া সাদ্দামদের খবর রাখেন? রাখলে তো জামিন হওয়ার কথা। প্রথম এক বছরের হিসাবে আওয়ামী লীগের ৪৪ হাজার নেতাকর্মী সমর্থক গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাদের ৩৩ হাজারের জামিন হয়েছে। যাদের কয়েকজন আমার ঘনিষ্ট ভাই বন্ধু। সবাই নিজের পকেটের লাখ লাখ টাকা খরচ করে জামিন করিয়েছেন। শিগগরি সুখবর আসছে- এই আশ্বাস ছাড়া কোটি কোটি টাকা লুট করা বড় নেতারা কিছুই দেননি।
শেখ হেলালের ড্যাশিং পশ লুকের হ্যান্ডসাম ছেলে শেখ তন্ময় জীবনে একদিন রাজনীতি না করেও, বিদেশ থেকে পড়াশোনা করে এসে রাতের ভোটে এমপি হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগে এত এত নেতা থাকতেও, ৩০ বছর বয়সী তন্ময়ের বিরুদ্ধে কেউ মনোনয়ন চাওয়ার সাহস পাননি। ২০২৪ সালেও তন্ময় অনেকটা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হন। আওয়ামী লীগের কেউ তার বিরুদ্ধে ডামি প্রার্থী হওয়ারও সাহস করেননি। ফেসবুকে দেওয়া ছবি অনুযায়ী, তন্ময়ের কোটি টাকার দামি গাড়ির দরজায় ঝুলে প্রটোকল দিতেন সাদ্দাম।
রাজপরিবারের তন্ময় এখন কানাডায় স্নোফল দেখছেন ফায়ার প্লেসের উষ্ণতা মেখে। আর যশোরের জেল পচছে সাদ্দাম। আবার একদিন কিছু ঘটলে, তন্ময় আবার দাপুটে এমপি মন্ত্রী হবেন। নতুন কোনো সাদ্দাম গাড়ির দরজায় ঝুলে প্রকোটল দেবে। আর এখনকার তন্ময়রা হিমশীতল কানাডায় চলে যাবেন বিপদ আসার আগেই। আর এখনকার প্রটোকল দেওয়া সাদ্দামরা জেলে থাকবে। এটাই নিয়তির চক্র।
তাই অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সব সাদ্দামদের বলি, দেখুন শিখুন, এই চত্রু ভাঙুন। অভিভাবক দুচা বন্ধ করুন। রাজনীতি অবশ্যই করুন। রাজনীতি ভালো জিনিস। কিন্ত পরিবার পরিজন বাদ দিয়ে, ন্যায় অন্যায় ভুলে, তন্ময়দের নেতা বানাতে মানুষের শত্রু হবেন না। তন্ময়দের জন্য ভোট কেটে, অন্যের ওপর জোরজুলুম করে ঘৃণিত হবেন না। হলে ভোগান্তি ক্ষতি আপনারই, তন্ময়দের নয়।
-রাজীব আহমদ
সাংবাদিক, সমকাল