বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। ফ্যাসিবাদের ইতি বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ঘটে গেছে।’
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দশ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিবির সেক্রেটারি বলেন, ২০০৬ সালে মানুষ হত্যার পর লাশের ওপর নৃত্য করা হয়েছিল। ২৮ অক্টোবরের সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার কি আমরা পেয়েছি? পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার কি পেয়েছি? হেফাজতের বহু আলেম-ওলামার হত্যাকাণ্ডের বিচার কি আমরা পেয়েছি? আল্লামা সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর গাইবান্ধাসহ সারাদেশে যে অসংখ্য মানুষ হত্যা করা হয়েছে, তার বিচার কি আমরা পেয়েছি? জুলাই বিপ্লবে বাংলাদেশের তরুণদের রক্তের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি, সেই তরুণদের হত্যার বিচার কি আমরা পেয়েছি?
এই ছাত্রনেতা আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবে উত্তরবঙ্গের কৃতি সন্তান শহীদ আবু সাঈদ বাংলাদেশের তরুণদের উজ্জীবিত করেছিল। স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ফ্যাসিবাদী-তাবেদারি শক্তিকে বাংলাদেশের আপামর জনতা বিদায় জানিয়েছিল। আমরা যে নতুন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম জুলাই বিপ্লবের পরে, সেই বাংলাদেশ কি আমরা পেয়েছি?
তিনি আরও বলেন, আমরা দেখছি চাঁদাবাজির জন্য পাথর দিয়ে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। তেজগাঁও কলেজে নিজেদের অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীকে বলি হতে হয়েছে। আমরা দেখছি আগের মতোই চাঁদাবাজি শেষ হয়নি, শুধু চাঁদাবাজির হাত বদলেছে। আমরা দেখছি আরেকদল চাটুকার তৈরি হয়েছে। ফ্যাসিবাদের ভাষা পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের জনগণ এই ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় কি প্রস্তুত আছে? গাইবান্ধার জনগণ এই ফ্যাসিবাদ মোকাবেলা করার জন্য কি প্রস্তুত আছে?
সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, ‘আমরা চাই একটি সুন্দর জনকল্যাণমূলক বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্ম এবং দেশের মানুষ তাদের মতো করে নিজেদের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ করবে। আমরা কোনো পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের তাবেদারি সহ্য করব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে যে ১০ দল ক্ষমতায় আসবে, সেই ১০ দল বাংলাদেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে। লড়াইয়ের যে সময় চলছে, সেই লড়াইয়ের ইতি ঘটবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। সে লড়াইয়ের ইতি ঘটাতে আপনারা কি প্রস্তুত আছেন? আমরা বিশ্বাস করি, ১৩ তারিখে বাংলাদেশে একটি নতুন সূর্যের উদয় ঘটবে, ইনশাআল্লাহ।’
জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম জুয়েলসহ দশ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।
গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবুর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ও গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. আব্দুর রহিম সরকার, জেলা জামায়াতের আমীর ও গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল করিম, নায়েবে আমীর ও গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মাজেদুর রহমান, নায়েবে আমীর ও গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেস, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জহুরুল হক সরকার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল, গাইবান্ধা জেলা শিবিরের সভাপতি ফেরদৌস সরকার রুম্মান এবং এলডিপির জেলা সভাপতি শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।