Image description
 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব, ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলোচক মাওলানা আল্লামা মামুনুল হক বলেন, “আজ দেশ এমন একটি সময় পার করছে, যখন সৎ, যোগ্য ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব ছাড়া জনগণের মুক্তি সম্ভব নয়। দুর্নীতি, জুলুম ও বৈষম্যের অবসান ঘটাতে হলে আদর্শবান মানুষকে সংসদে পাঠাতে হবে।”

 

তিনি আরও বলেন, “ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ একজন শিক্ষিত, মার্জিত ও নৈতিকতার প্রতীক। তাঁর মতো মানুষ জাতীয় সংসদে গেলে বাউফলের মানুষের কথা সাহসের সঙ্গে তুলে ধরতে পারবেন।”

আজ শনিবার(২৪ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে বাউফল পাবলিক মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

 

আল্লামা মামুনুল হক আরও বলেন, “দাঁড়িপাল্লা ইনসাফ ও ন্যায়ের প্রতীক। যারা ইসলাম, দেশ ও মানুষের কল্যাণ চায় তাদের উচিত এই প্রতীকের পক্ষে অবস্থান নেওয়া।”

 

তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে আরও বলেন, “আপনার একটি ভোট শুধু একজন প্রার্থী নয়, একটি আদর্শকে বিজয়ী করতে পারে। তাই ভেবেচিন্তে, আল্লাহকে ভয় করে ভোট দেবেন।”

জনসভায় প্রধান বক্তা এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “বাউফলের মানুষ বহুদিন ধরে অবহেলিত। এই জনসমাবেশ প্রমাণ করে জনগণ এখন পরিবর্তন চায়। ড. মাসুদের নেতৃত্বে সেই পরিবর্তন সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “ড. মাসুদ একজন ক্লিন ইমেজের প্রার্থী। তাঁর নেতৃত্বে বাউফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”

তিনি প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, “কোনো প্রার্থীর পক্ষ নেবেন না। তা না হলে এর পরিণতি ভালো হবে না। আপনারা কোন  বিদেশীর পক্ষ নিবেননা। পক্ষ নিলে ফল ভালো হবেনা। আপনারা নিরপেক্ষ না থাকলে ২৪ সালে হাসিনার পরিণতি যে রকম হয়েছে, ঠিক তেমন আরেকটি পরিণতি হবে। আমি চাই না ২৪ আবার ফিরে আসুক। আপনারা নিরপেক্ষ ভোটের ব্যবস্থা করবেন। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে। সে হোক আমার অপছন্দের দলেরও।” এ সময় হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজের জন্যও বাউফলবাসীর কাছে দোয়া চান।

দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, “আমি আমার প্রিয় বাউফলবাসীর উদ্দেশে ৬টি বিষয়ে কথা বলবো। আল্লাহ যদি আপনাদের সেবক হিসেবে আমাকে কবুল করেন, তাহলে ৬০ দিনের মধ্যে আমি বাউফলকে মাদকমুক্ত করবো। ৯০ দিনের মধ্যে প্রশাসনের সর্বস্তরে দুর্নীতিমুক্ত করবো। আমি চারটি ইউনিয়নের এমপি হতে চাই না। আমি পৌরসভাসহ ১৫টি ইউনিয়নের ভোট নিয়ে এমপি হতে চাই।”

তিনি ধানের শীষ প্রতীকের প্রাথীকে ইঙ্গিত করে বলেন, “৫ আগস্টের পর বাউফলে হিন্দুদের সঙ্গে এমন কিছু বাদ যায়নি, যা আপনার লোকজন করেনি। এই হিন্দু ভাইবোনেরা আমাকে ভোট দিয়ে দেখিয়ে দেবে তারা আমাকে কত বেশি ভালোবাসে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি এমপি হলে সরকারি কোনো সুবিধা নেব না। ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি নেব না, কোনো ফ্ল্যাট নেব না। আমি মানুষের অধিকার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একজন সেবক হিসেবে কাজ করবো। বাউফলকে একটি উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবো, ইনশাআল্লাহ।”

পাবলিক মাঠের দাঁড়িপাল্লার নির্বাচনী সভায় সভাপতিত্ব করেন বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুহা. ইসহাক।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্র শামীম সাঈদী, উপজেলা নায়েবে আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, এসপিরি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, খেলাফত মজলিশের জেলা সহসভাপতি আইয়ুব বিন মুসা, বাউফল উপজেলা এবি পার্টির আহ্বায়ক রুহুল আমিন, জেলা খেলাফত মজলিশের সভাপতি মুফতি আব্বাস আলী প্রমুখ।

পাবলিক মাঠের জনসভায় হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়।