প্রায় ১৭ বছর পর দেশ একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে। শান্তিপূর্ণ এক পরিবেশে এই ভোট যাত্রা শুরু হয়েছে ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে সামনে এসেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। কিন্তু প্রচারের প্রথম দিন থেকেই প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পরস্পর আক্রণাত্মক বক্তব্য শুরু করেছে কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে।
নির্বাচনী প্রচার শুরুর মাত্র দুদিন হলো। গতকাল শুক্রবার ও আগের দিন বৃহস্পতিবার—এ দুই দিনে বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে যে স্পষ্টত ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তা হলো সামনের দিনগুলোতে পরস্পর আক্রমণের ধার আরও বাড়তে পরে।
প্রচারের প্রথম দিন থেকেই প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পরস্পর আক্রণাত্মক বক্তব্য শুরু করেছে কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আগেই আঁচ করা যাচ্ছিল যে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বিএনপি ও জামায়াত পরস্পরবিরোধী শক্ত অবস্থানের দিকে যাবে। এখন পরিস্থিতি সেদিকেই গড়াচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্যে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, এবারের নির্বাচনে বিএনপির দিক থেকে জামায়াতের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে দলটির ভূমিকা, ধর্মের অপব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ ষড়যন্ত্র করার অভিযোগগুলো সামনে আনা হচ্ছে।
পাল্টাপাল্টি আক্রমণ
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত দুই দিনে রাজধানী ঢাকার ভাষানটেকসহ সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার মিলে আটটি জনসভায় বক্তৃতা করেন। আর জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ঢাকার মিরপুরসহ উত্তরবঙ্গের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও রংপুরে পাঁচটি জনসভায় বক্তব্য দেন। দুই নেতার বক্তব্যগুলো তুলনামূলক বিশ্লেষণ করলে পরস্পর বিপরীতমুখী অবস্থান স্পষ্ট হয়।
তারেক রহমান জামায়াতের নাম উল্লেখ না করে ১৯৭১ সালে তাদের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার সমালোচনা করেন এবং ধর্মকে ব্যবহার করে ‘বেহেশতের টিকিট’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে ‘শিরক’ ও ‘কুফরি’ বলে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষ দল সৎ মানুষের শাসনের কথা বলে নিজেরাই অসৎ কাজ করছে এবং ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে মানুষকে ঠকাচ্ছে। তিনি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পোস্টাল ব্যালট ছিনতাই এবং এনআইডি ও মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহের মাধ্যমে ভোট চুরির ষড়যন্ত্র সম্পর্কে বারবার সতর্ক করেন।
তারেক রহমান তাঁর সাতটি জনসভায় জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি প্রতিটি জেলার স্থানীয় সমস্যাগুলো নিয়েও কথা বলেছেন।
গতকাল শুক্রবার এই বাগ্যুদ্ধ নতুন মাত্রা পায়। খুলনায় নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার নির্বাচনকে আখ্যা দেন ‘দ্বীন কায়েমের নিয়মতান্ত্রিক জিহাদ’ হিসেবে। তিনি বলেন, ‘আগে যুদ্ধ হতো তরবারি, তির-ধনুক ও কামান দিয়ে। এখন যুদ্ধ হচ্ছে ব্যালট দিয়ে।’ তারেক রহমানের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘কোনো মুসলমান আরেক মুসলমানকে কাফের বলতে পারেন না…তিনি এটা বড় অপরাধ করেছেন।’ আরও বলেন, ‘উনি তো এখন বড় মুফতি হয়ে গেছেন…বিলেত থেকে এসে ফতোয়া দিচ্ছেন, কে মুসলমান আর কে কাফের।’
দেশের জন্য সলিউশনটা হচ্ছে নির্বাচনটা হওয়া এবং সেটা শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক গতিতে হওয়া। রাজনৈতিক তর্কবিতর্ক, পারস্পরিক সমালোচনা এগুলো থাকবে—এটা যেন মাত্রা ছাড়িয়ে না যায়।অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
বিপরীতে জামায়াতের দিক থেকে বিএনপির বিরুদ্ধে দলটির নেতাদের অতীত দুর্নীতি, নেতা–কর্মীদের অতীত–সাম্প্রতিক দখল–চাঁদাবাজি এবং তাঁদের ‘নব্য ফ্যাসিবাদ’ হয়ে ওঠার অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে।
এর সঙ্গে দুই পক্ষ থেকেই একটি বিষয় বিশেষ গুরুত্বসহকারে সামনে আনা হচ্ছে, সেটি হলো ‘বিদেশি আধিপত্য’। বিএনপির দিক থেকে জামায়াতকে লক্ষ্য করে পিন্ডি, অর্থাৎ পাকিস্তান। আর জামায়াতের দিক থেকে বিএনপির বিরুদ্ধে দিল্লির আধিপত্যবাদ চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এবার ভোটের মাঠে পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি নতুন এক মুখোমুখি লড়াই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মুক্তিযুদ্ধ, বিদেশি আধিপত্য, ধর্মের ব্যবহার, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ‘নব্য ফ্যাসিবাদ’—এই কয়েকটি ইস্যু ঘিরে ভোটের মাঠে শুরু হয়েছে দুই পক্ষের বাগ্যুদ্ধ।
এটাকে দল দুটির ‘রাজনৈতিক বা আদর্শগত অবস্থান’ বলে মন্তব্য করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নিজেদের মধ্যে ভিন্নতা দেখাতে হলে তো এগুলোকে তারা সামনে আনবেই। এখন উদ্বেগের জায়গাটা হচ্ছে, এগুলোকে কেন্দ্র করে কোনো বড় ধরনের সংঘাত তৈরি হয়ে যায় কি না। সেটা যতক্ষণ পর্যন্ত না হচ্ছে, ততক্ষণ এটাকে স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নেওয়া ভালো।
অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘দেশের জন্য সলিউশনটা হচ্ছে নির্বাচনটা হওয়া এবং সেটা শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক গতিতে হওয়া। রাজনৈতিক তর্কবিতর্ক, পারস্পরিক সমালোচনা এগুলো থাকবে—এটা যেন মাত্রা ছাড়িয়ে না যায়।’
বৃহস্পতিবার সিলেট থেকে শুরু করে হবিগঞ্জসহ সাত জেলায় জনসভা করে বিএনপির চেয়ারম্যান সরাসরি জামায়াত ও তাদের মিত্রদের লক্ষ্য করে বলেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডিও নয়, নয় অন্য কোনো দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ।’ তিনি বলেন, কেউ দিল্লিতে পালায়, কেউ পিন্ডিতে পালায়, কিন্তু বিএনপি দেশের মানুষের পাশেই থাকে।
তারেক রহমান প্রতিটি বক্তৃতার শুরুর দিকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের গুম, খুন, নির্যাতন, ভোটাধিকার হরণ এবং দেশের টাকা পাচারের সমালোচনা করেন। এই সমালোচনা খুব তীব্র ছিল, কিন্তু তিনি এতে খুব বেশি সময় ব্যয় না করে দ্রুতই বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিপক্ষের বর্তমান ষড়যন্ত্রের বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। তারেক রহমান তাঁর সাতটি জনসভায় জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি প্রতিটি জেলার স্থানীয় সমস্যাগুলো নিয়েও কথা বলেছেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান ও জামায়াত আমিরের গত দুদিনের নির্বাচনী জনসভার বক্তব্যে আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে ধরা পড়ে। সেটি হলো, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রশ্নে। জামায়াতের আমির ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রসঙ্গে বলেন, যাঁরা গত ৫৪ বছরের পচে যাওয়া রাজনীতি চান না, রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন চান, তাঁরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন বলে আশা করছেন।
বক্তৃতায় তারেক রহমান উন্নয়নের অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’ ও খাল খনন, বেকারদের প্রশিক্ষণের মতো বিষয়গুলোতে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিটি জনসভায় উপস্থিত জনতার সমর্থন চেয়েছেন।
গত দুদিনে তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভায় একটি বিষয় বেশ লক্ষণীয়। সেটি হচ্ছে মঞ্চ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সরাসরি তাঁর কথোপকথন। গতকাল ভাষানটেকের জনসভায় এই কথোপকথন ছিল বেশ চমকপ্রদ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, এটি বেশ অভিনব এবং নাটকীয়। এর মধ্য দিয়ে কার্যত জনসভাকে জীবন্ত করে তোলার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে একটা সম্পর্ক জোরদারের প্রয়াস রয়েছে, যা ভোটের মাঠে কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বিপরীতে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বিএনপির ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রতিশ্রুতিকে ‘খয়রাতি’ অনুদান বলে কটাক্ষ করেন এবং এটি চাঁদাবাজি ও লুটপাটের উৎস হতে পারে বলে বৃহস্পতিবার মিরপুরের জনসভায় ইঙ্গিত দেন।
এ প্রসঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দুই হাজার টাকার অনুদানের উল্লেখ করে জামায়াতের আমির স্পষ্ট করে বলেন, ‘তাদের হাতে খয়রাতি কোনো অনুদান আমরা তুলে দিয়ে তাদের অপমান করতে চাই না।’
অবশ্য গতকাল পঞ্চগড়ের জনসভায় শফিকুর রহমান বিএনপির প্রতিশ্রুত আটটি সামাজিক উন্নয়ন কার্ডের পরিকল্পনার বিপরীতে ভিন্ন চিন্তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ভাই, আমাদের কাছে কোনো কার্ড নেই। আপনারা সবাই ভাইবোনেরা আমাদের কার্ড। আপনাদের বুকে আমরা একটা ভালোবাসার কার্ড চাই।’
জামায়াতের আমির নির্বাচনকে সরাসরি ‘গণভোট’ বা ‘রেফারেন্ডাম’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ও চাঁদাবাজি নির্মূলের ওপর জোর দেন। নারীর সম্মানের ক্ষেত্রে তারেক রহমান অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করার কথা বলেন। আর শফিকুর রহমান তাঁদের নিরাপত্তা ও ইজ্জত রক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন। তারেক রহমান পররাষ্ট্রনীতিতে ‘দিল্লি, পিন্ডি বা অন্য কোনো দেশের’ নির্ভরতার সমালোচনা করলেও শফিকুর রহমান ‘আধিপত্যবাদ’-এর বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করেন।
গত দুদিনে শফিকুর রহমানের পাঁচটি জনসভার বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তাঁর বক্তব্যে জাতীয় রাজনীতি বা স্থানীয় সমস্যাগুলো বেশ বলিষ্ঠ ও স্পষ্টভাবে এসেছে। মিরপুরে তিনি এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং গ্যাস–সংকট নিয়ে সুনির্দিষ্ট সমস্যাগুলো তুলে ধরে এর সমাধানের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেন। আর গতকাল পঞ্চগড়ের জনসভায় জামায়াতের আমির উত্তরবঙ্গকে ‘কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী’ বানানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
নির্বাচনী প্রচার শুরুর আগে থেকেই বিএনপির দিক থেকে জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে দলটির মহিলা কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের বিভ্রান্ত করছেন। তাঁরা এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করছেন, মোবাইল ফোন নম্বর নিচ্ছেন। এ কারণে বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নারী কর্মীদের অবরুদ্ধ করা, কোথাও কোথাও হামলার ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনী প্রচার শুরুর আগের দিন বুধবার মিরপুরে জামায়াত আমিরের নির্বাচনী এলাকায় এ ধরনের একটি অভিযোগে দলের কয়েকজন নারী কর্মীকে আটক করা হয়। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সারা দেশে এ বিষয়টিতে জামায়াত যে কতটা ক্ষুব্ধ, তার প্রকাশ ঘটে জামায়াত আমিরের মিরপুরের বক্তব্যে। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেন, ‘আমরা কিছু বন্ধুদের বলতে চাই, মেহেরবানি করে মায়েদের ইজ্জত নিয়ে কখনো টান দেবেন না, তাহলে আগুন জ্বলবে।’
বিএনপির চেয়ারম্যান ও জামায়াত আমিরের গত দুদিনের নির্বাচনী জনসভার বক্তব্যে আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে ধরা পড়ে। সেটি হলো, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রশ্নে। জামায়াতের আমির ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রসঙ্গে বলেন, যাঁরা গত ৫৪ বছরের পচে যাওয়া রাজনীতি চান না, রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন চান, তাঁরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন বলে আশা করছেন। অন্যদিকে বিএনপির চেয়ারম্যান এ বিষয়ে কোনো কথা বলেননি।
প্রচারের প্রথম দুই দিনেই যে চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, তা হলো আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে মূল লড়াই এখন দুই বিরোধী শিবিরে। বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয়তাবাদ ও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে নেতৃত্ব ধরে রাখতে চাইছে। আর জামায়াত, এনসপিসহ ১০–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ধর্মীয় ভাষ্য, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও ‘আধিপত্যবাদবিরোধী’ যাত্রার কথা বলে সেই নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে।
অবশ্য দুই দলের পাল্টাপাল্টি আক্রমণাত্মক বক্তব্যকে এ দেশের রাজনীতির বৈশিষ্ট্য বলে মন্তব্য করেন লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ। তিনি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দেশের রাজনীতির বৈশিষ্ট্যই হলো ভিন্নমত বা প্রতিপক্ষের প্রতি বিষোদ্গার। নির্বাচনের সময় এলে এটা বেড়ে যায়। অনেক সময় শোভনীয়তার মাত্রাও ছাড়িয়ে যায়।’
মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা ও ধর্মের ব্যবহারের অভিযোগ বিষয়ে মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আগে জামায়াত সম্পর্কে এ কথাগুলো আওয়ামী লীগ বলত, তখন জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির পার্টনারশিপ ছিল। এখন আওয়ামী লীগ নেই, এখন বিএনপি ও জামায়াত পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। কাজেই জামায়াতকে ওইভাবে আইডেনটিফাই করা হচ্ছে, এটা আগেও করা হয়েছে। এটা বিএনপি করে নাই, যেহেতু বিএনপি এর আগে ওইভাবে জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। এবার যেহেতু প্রতিদ্বন্দ্বী, তারা এ প্রশ্নগুলো তুলছে।’