ঘড়ির কাঁটা থমকে ছিল প্রতীক বরাদ্দের অপেক্ষায়। আর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ পেরোতে না পেরোতেই উত্তরের শান্ত শহর ঠাকুরগাঁও যেন রাতারাতি বদলে গেল সাদা-কালো কাগজের অরণ্যে।
আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম সীমান্তঘেঁষা এই জেলা। তবে প্রচার শুরুর লগ্নেই ময়দান দখলের লড়াইয়ে যোজন যোজন এগিয়ে বিএনপি। শহর থেকে গ্রাম— বিলবোর্ড আর পোস্টারের বন্যায় আপাতত একচ্ছত্র আধিপত্য মির্জা ফখরুলের।
জেলায় মোট আসন তিনটি। তবে সব ছাপিয়ে আলোচনায় এখন ঠাকুরগাঁও-১ আসন। নির্বাচনি উত্তাপের পারদ এখানে চড়চড় করে বাড়ছে।
অবাক করা বিষয় হলো, বিএনপির পোস্টার যখন অলিতে-গলিতে হাওয়ায় দুলছে, তখন বাকি হেভিওয়েট প্রার্থীদের দেখা মিলছে না ছিটেফোঁটাও। দৃশ্যত, প্রচারের প্রথম দানেই ছক্কা হাঁকিয়েছে নীল-সাদা শিবির।
উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁয়ে-৩ আসনে এবার ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। অন্য দুটিতে দ্বিমুখী লড়াই হবে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বিএনপি-জামায়াতে ইসলামী তো বটেই, পাল্লা দিচ্ছে জাতীয় পার্টি, সিপিবি, মুসলিম লীগ, ইসলামী আন্দোলন, মাইনরিটি পার্টি, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, ও গণঅধিকার পরিষদও। ৯টি দলের মোট ১৯ জন প্রার্থী এখন ভোটের রণক্ষেত্রে।
কোথাও জোটের সমীকরণ, কোথাও আবার স্বতন্ত্রের দাপট। তবে শহরবাসীর নজর এখন একটাই প্রশ্নের দিকে— পোস্টারের এই লড়াই কি শেষ পর্যন্ত ব্যালট বক্সেও প্রতিফলন ঘটাবে? উত্তরের অপেক্ষায় আপাতত প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে ঠাকুরগাঁও।