Image description

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আয়ের উৎস, ব্যক্তিগত ব্যয় এবং নির্বাচনি প্রচারণার অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ ভিডিও-বার্তায় তিনি এসব প্রশ্ন তোলেন। 

ভিডিও-বার্তায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “বিএনপির চেয়ারম্যান ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন। তিনি বর্তমানে কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন এবং তার বিশাল শোডাউন ও নিরাপত্তার বিপুল অর্থ কোথা থেকে আসছে, তা জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। অথচ এ বিষয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলছে না।” তিনি আরও যোগ করেন, এর আগে যখন ছাত্রনেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে টকশোতে আলোচনা হয়েছিল, তখন একপক্ষীয় সমালোচনা দেখা গেছে। কিন্তু এখন তারেক রহমানের বিশাল গাড়ি বহর ও তেলের টাকা কোথা থেকে আসছে, তা নিয়ে কেন প্রশ্ন উঠছে না— সেই প্রশ্নই রাখেন তিনি। 

ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের নির্বাচনি মিডিয়া কমিটিতে ৪৯ জন পেশাদার গণমাধ্যম কর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন হাসনাত। তিনি প্রশ্ন রাখেন, “সাংবাদিকরা যখন কোনও সুনির্দিষ্ট দলের প্যাডে নাম লেখাচ্ছেন, তখন তাদের নিরপেক্ষতা কি প্রশ্নবিদ্ধ হয় না? ওই ৪৯ জন সাংবাদিক কি বিএনপির কর্মী হিসেবে কাজ করবেন নাকি নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক হিসেবে? তারা কি নির্বাচন কমিশন থেকে কার্ড নেবেন নাকি বিএনপির কার্ড নিয়ে কাজ করবেন— তা স্পষ্ট করা জরুরি।” তিনি বিষয়টিকে সাংবাদিকতার জন্য এক ধরনের ‘নেতিবাচক দৃষ্টান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেন। 

বিগত সরকারের সুবিধাভোগী কিছু সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, “যারা ১৭ বছর তারেক রহমানকে ভারতের চর বা পলাতক ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে ভিলেন বানানোর চেষ্টা করেছে, তারাই এখন আবার তার প্রিয়পাত্র হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। জুলাই বিপ্লবের সক্রিয় কর্মীদের চরিত্র হননের চেষ্টা যারা করেছিল, তারাই এখন নতুন করে কার্ড বানানোর প্রকল্প হাতে নিয়েছে।” 

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, গত দেড় বছর আমাদের নিয়ে যেভাবে নানা প্রশ্ন অব্যাহত রাখা হয়েছে, একইভাবে তারেক রহমানের অর্থের উৎস ও ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন জারি রাখুন। যদি সিলেক্টিভ বা খণ্ডিত প্রশ্ন করা হয়, তবে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য।