জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার বিচার ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত অপপ্রচার হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন আসিফ মাহমুদ।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে তিনটায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ক্রাউড ফান্ডিং সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, যখনই আমরা অনিয়ম-ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেই, তখনই কিছু স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিত অপপ্রচার শুরু করে দেয়। এবারও কোনো সুনির্দিষ্ট বা বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট ও বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ থাকে, তাহলে তা প্রকাশ করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি যেকোনো বিচার মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত। ঋণখেলাপি ও স্বার্থান্বেষী মহলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই এ ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের উত্থাপিত অনিয়মের অভিযোগের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার কোনোটির পক্ষে কোনো ‘সলিড’ বা বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ কেউ হাজির করতে পারেনি। তিনি বলেন, অনেক প্রচারণা চলছে, কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত কেউ দিতে পারেনি।
তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে আওয়ামী লীগের মতো শক্তিশালী সরকারের সময়েও নানা গোপন বিষয় প্রকাশ্যে এসেছে। সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে যদি সত্যিই কোনো অনিয়ম থাকে, তবে সেটিও বেরিয়ে আসবে- এই বিশ্বাস থেকেই তিনি এই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন। আসিফ মাহমুদের দাবি, যখনই তারা অনিয়মের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেন, তখনই একটি স্বার্থান্বেষী মহল সক্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থানের কারণে এই মহল ক্ষুব্ধ হয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান দেখিয়েছি। বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল এরকম কঠোর অবস্থান নিতে পারেনি।
আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, প্রায় ১৭০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপিরা তাদের অবস্থানকে হুমকি হিসেবে দেখছে। ফলে নিজেদের অর্থ ব্যবহার করে তারা ‘সাপ্লাই দেওয়া নিউজ’ বা পরিকল্পিত সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
দেশবাসীকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনে তার বা দলের আহ্বায়কের বিরুদ্ধে আরও কিছু বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ হতে পারে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যখন নির্বাচন কমিশনকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন কেন রাজনৈতিক দল বা ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে তার জবাব আসতে শুরু করে।