Image description

দেশ এখন নির্বাচনী ট্রেনে। তপশিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। আর আগামী বুধবার প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারে নামতে যাচ্ছে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর দেশ যখন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে, তখন নতুন করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপতৎপরতা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা, গুপ্তহত্যার মতো ঘটনাগুলো সাধারণ মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার করছে। পোস্টাল ব্যালট নিয়েও দেখা দিয়েছে বিতর্ক। আবার ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের কেউ নির্বাচন করার সুযোগ পেলে রাজপথে নামারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় রাজনীতির ময়দানে হঠাৎ করে নির্বাচন বানচালের একটি আওয়াজ উঠছে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষিত নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠানে দলগুলোকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন ঘিরে সব সময় পক্ষে-বিপক্ষে কিছু উপাদান থাকে। রাষ্ট্র নির্বাচন করতে চাইলে এগুলো ঠেকিয়েই নির্বাচন করতে হবে, এটাই রাষ্ট্রের কাজ। তবে অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলগুলোর কারও কারও অভিমত, গণঅভ্যুত্থানে পতন হওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের পাশাপাশি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে যারা আরও কিছুদিন ক্ষমতায় দেখতে কিংবা রাখতে চায়, তারা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করতে পারে। আর দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি বলছে, আগামী নির্বাচনের ভোটের ফলে যাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই, তারাই নির্বাচনের বিরোধিতা করছে। তবে গোটা জাতি এখন নির্বাচনমুখী। ফলে কোনো ষড়যন্ত্র-চক্রান্তে কাজ হবে না।

এবারের সংসদ নির্বাচনে বড় সংযোজন প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট। কিন্তু এই ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়া শুরুর আগেই এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশের বাইরে পোস্টাল ব্যালট গণনার একাধিক ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ায় জোর আপত্তি তুলেছে বিএনপি। একই সঙ্গে ব্যালটে প্রতীকের বিন্যাস নিয়েও দলটির আপত্তি রয়েছে। বিএনপি সময় স্বল্পতার কারণে এখন আর দেশের বাইরে পাঠানো সম্ভব না হলেও দেশের মধ্যে অন্তত একই ব্যালটে সাধারণ ও পোস্টাল ভোটগ্রহণের দাবি তুলেছে।

বিএনপি ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু কালবেলাকে বলেন, ‘নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। কারণ, এ নির্বাচনের জন্য দেশের মানুষ ১৬-১৭ বছর ধরে সংগ্রাম করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অত্যন্ত দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সরকারের উপদেষ্টা। তাদের অধীনে একটা ভালো নির্বাচন হবে না, এটা মনে হয় না। কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি থাকতে পারে, যেমন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা আছে, সেটি এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। এ ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। তবে যারা বলছে, এগুলো ঠিক না করে নির্বাচন করা যাবে না, তাদের নির্বাচনে কোনো ভবিষ্যৎ নেই। সেজন্য তারা মনে করছে, নির্বাচন ঠেকানো দরকার।’

ভোটের জন্য দেশ পুরোপুরি প্রস্তুত এবং গণতন্ত্রে উত্তরণের জন্য এ ছাড়া বিকল্প নেই বলে মনে করেন এ বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, ‘কিছু দুর্নীতিবাজ আছে, দায়িত্বশীল একটা সরকার এলে যাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে; স্বাভাবিক কারণেই তারা শঙ্কিত, নির্বাচনের বিরোধিতা করছে। তবে নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্রে উত্তরণের আর কোনো পথ নেই। নির্বাচনের জন্য দেশও এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। তাই যারা বিরোধিতা করছে, তারাই বরং প্রশ্নের সম্মুখীন হবে।’

সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার তাগিদ দিয়েছেন ১২ দলীয় জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন সন্নিকটে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এখনো আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলো। এগুলো নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হওয়ার বিপক্ষে যায়। এটা নিয়ে কেউ ষড়যন্ত্র করছে কি না, কিংবা কারও কারও কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে কি না—সেটা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারব না। তবে এসব ঘটনায় নির্বাচন ব্যাহত হওয়ার সমূহ কারণ আছে। বিশেষ করে পোস্টাল ব্যালট একটা। পোস্টাল ব্যালট ছাপানো হয়েছে, সেখানে ধানের শীষ ভাঁজের মধ্যে পড়েছে—এটার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই। সাধারণত অ্যালফাবেটিক্যালি নামগুলো আসে অথবা নিবন্ধনের তারিখের জ্যেষ্ঠতা অনুসারে আসে। এগুলো অনুসরণ করা হয়নি। তাই সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইসিকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

কারা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন তরফ থেকে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। যারা এ সরকারকে আরও বেশিদিন ক্ষমতায় দেখতে চায়—নির্বাচন এখন না হলে কিংবা একটি নির্বাচিত সরকার না এলে তাদেরই লাভ। তারাই নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টায় রয়েছে।’

সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন আয়োজনে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সেগুলোকে খুব বড় করে দেখছেন না বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, ‘কিছু চ্যালেঞ্জ আছে নির্বাচনের আগে—এগুলো বড় ইস্যু নয়। সেজন্য নির্বাচন পিছিয়ে যাবে—এমন বিবেচনা করি না। পোস্টাল ব্যালট নিয়ে একটা বড় ধরনের কনসার্ন (উদ্বেগ) তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এটাকে গুরুত্বসহকারে নেওয়ার বিষয় আছে। প্রত্যাশা করি, এটা তারা রিভাইস করবেন। কিছু সমস্যা আছে; দেখে, সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো কোনো মহল কিছু কিছু ইস্যু তৈরি করতে পারে, নির্বাচনটা যাতে আবার একটু ঝুঁকির মধ্যে পড়ে কিংবা অনিশ্চিত করা যায়। এ ধরনের কোনো প্রচেষ্টা এখন সফল হবে না। আর নির্বাচন হবে কি না—এটা নিয়ে নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত কেউ কেউ শঙ্কা প্রকাশ করতেই থাকবে। গোটা জাতি এখন ইলেকশন মুডে চলে গেছে। দলগুলোও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারে নামার অপেক্ষায়। সুতরাং কোনো প্রচেষ্টা-অপচেষ্টা সফল হবে না।’

কারা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে সাইফুল হক বলেন, ‘দেশকে যারা অস্থিতিশীল করতে চায়, যারা চায় দেশে আরও নৈরাজ্য সৃষ্টি হোক—সেটা নানা মহল থেকে হতে পারে। যারা আগে সরকারে ছিল, গণঅভ্যুত্থানের মুখে পতন হয়েছে, তারা যেমন হতে পারে; তেমনি যারা শেষ চেষ্টা হিসেবে এই সরকারকে আরও কিছুদিন ক্ষমতায় দেখতে চায় বা রাখতে চায়, তারাও হতে পারে। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্ব এগুলো খুঁজে বের করা।’

নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলসহ সব অংশীজনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ‘একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও জনগণের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আমাদের সবারই দাবি। এটার জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে লড়াই-সংগ্রাম করে আসছি। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কিন্তু নানা বাহানা তুলে অনেকে নির্বাচন যদি পণ্ড করার চেষ্টা করে—এটা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে হবে, জনগণ তা গ্রহণ করবে না।’

কারা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যথাসময়ে নির্বাচনের ব্যাপারে কারা অনাগ্রহী হয়েছে, সেটা তো স্পষ্ট, বিভিন্ন সময় সেটা প্রতীয়মান হয়েছে।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র কাঠামোয় প্রত্যাশিত পরিবর্তন এখন পর্যন্ত না দেখার কথা জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে, সেখানে আমাদের প্রত্যাশা ছিল—নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বতন্ত্রভাবে কাজ করে যেতে পারবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং সংস্কার কমিশন নির্বাচন কমিশনকে ঢেলে সাজানোর যে প্রস্তাব দিয়েছিল, সেখান থেকে অনেক দূরে রয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কমিশন হয়তো ইতিবাচক অনেক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে। তবে আমরা দেখছি, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং অন্যান্য বড় ইস্যু নিয়ে তারা বড় একটি দলের সঙ্গে বেশ কম্প্রোমাইজিং (সমঝোতা) অবস্থানে আছে। এই জিনিসটা আসলে শঙ্কা তৈরি করছে। অবশ্য গত কয়েকদিন ইসি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।’

কিছু কিছু শঙ্কার জায়গা থাকলেও তা নির্বাচন পণ্ড হওয়ার মতো নয় উল্লেখ করে এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘আমরা দেখেছি, অতীতের ধারাবাহিকতায় যারা আগামীতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যেতে পারে—এমন একটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রভাবে ইসি সঠিকভাবে কাজ করতে গিয়েও পারছে না। সেটি একটি চ্যালেঞ্জ। কিন্তু আমি কখনো মনে করি না যে, সেটি নির্বাচনকে বানচাল করার মতো জায়গায় নিয়ে যাবে। ইসিসহ বড় রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত, এই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য এবং আরও নিরাপদ কীভাবে করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করা। আমি ব্যক্তিগতভাবে কখনো মনে করছি না যে, নির্বাচন বানচালের কোনো শঙ্কা আছে। তবে সরকার ও ইসির উচিত, সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা।’

আলাউদ্দিন মোহাম্মদ আরও বলেন, ‘নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র যাদের আছে, তাদের ব্যাপারে আমরা সবাই জানি। তবে আমরা মনে করি, তাদের সেই ষড়যন্ত্র সফল হবে না, আলোর মুখ দেখবে না। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সবাই মিলে একটা জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা দরকার, তাহলে একটি গ্রহণযোগ্য ও সুন্দর নির্বাচন আমরা পেতে পারি।’

নির্বাচন না হতে দিতে সবসময়ই কিছু না কিছু শক্তি কাজ করে, তবে এসব ঠেকিয়েই নির্বাচন যথাসময়ে করাটাই রাষ্ট্রের কাজ বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘নির্বাচন ঘিরে সব সময় পক্ষে-বিপক্ষে কিছু উপাদান থাকে। রাষ্ট্র নির্বাচন করতে চাইলে এগুলো ঠেকিয়েই নির্বাচনটা করতে হবে, এটাই রাষ্ট্রের কাজ। আগের নির্বাচনগুলোতে যারা বিরোধী দল ছিল, তারা কি নির্বাচন ঠেকাতে চেষ্টা করেনি? তারা পারেনি। এখনো কেউ কেউ সে চেষ্টা করতেই পারে। তবে নির্বাচনটাকে যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, থামিয়ে দিতে না পারে, অগ্রযাত্রা যেন ব্যাহত করতে না পারে, সরকারকে সে চেষ্টা করতে হবে। এটাই হলো এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কমিটমেন্ট (অঙ্গীকার)।’

কারা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সব সময় কিছু উপাদান থাকে যারা পক্ষে-বিপক্ষে থাকে। এটা নতুন কিছু নয়। যদি সরকারের কাছে স্পষ্ট কোনো প্রমাণ থাকে, তাহলে কারা নির্বাচনের বিরোধিতা করছে—সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্ব সেটা খুঁজে বের করা।’

সবাই নির্বাচন চাচ্ছে জানিয়ে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন নির্বাচনটাকে ত্রুটিমুক্ত করতে পারছে না। দেখা গেছে, পর্যবেক্ষণ নিয়োগে বিতর্ক সৃষ্টি হলো; রাজনৈতিক দলগুলোকে নিবন্ধন দেওয়া নিয়ে বিতর্ক হলো; এক্সপার্টদের নিয়ে বৈঠক করলেও সেখানে ৫০ শতাংশের বেশি উপস্থিতি হলো না; রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দু-একবার বসল, ধারাবাহিকভাবে বসা দরকার ছিল; পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কাজ করল, সেটাও বিতর্কের মধ্যে পড়ল; স্ক্রুটিংয়ে যতসংখ্যক প্রার্থীকে বাতিল করেছিল, আপিলে তাদের বেশিরভাগই ফিরে আসছে অর্থাৎ স্ক্রুটিংয়ে দুর্বলতা ছিল। ইসিকে নিয়ে মানুষ যেরকম প্রত্যাশা করেছিল, সেটা তারা পূরণ করতে পারছে না। সুতরাং ইসিকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’