Image description

সিলেট-৫ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুকের প্রার্থিতা আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। বিএনপি’র আসন ভাগাভাগির সময় তার প্রার্থিতার বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। এবারো এ আসনটি ছাড় দিলো বিএনপি। তবে জট লেগেছিল ১১ দলের প্রার্থী নিয়ে। আসনটি চেয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। তাদের প্রার্থী জেলার নায়েবে আমীর হাফিজ আনোয়ার হোসেন খান। খেলাফত মজলিসও এ আসন চায়। আসনে তাদের প্রার্থী মুফতি আবুল হাসান। ফলে প্রার্থিতা নিয়ে নাটকীয়তার অন্ত ছিল না। জামায়াত নেতারা আসনটি ছাড়তে চাননি। শেষ পর্যন্ত তারা জোটের ভেতরে হাফিজ আনোয়ারকে প্রার্থী করতে লড়াই চালিয়ে যান। 

জোটের ভেতরে যেমনি চলছিল কথাবার্তা, তেমনি ভার্চ্যুয়ালি লড়াইয়েও নেমেছিলেন জামায়াত কর্মীরা। নানাভাবে তারা হাফিজ আনোয়ারকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তবে হাফিজ আনোয়ার সজ্জন ব্যক্তি। স্বচ্ছ ধারার রাজনীতিক। সিলেটের জামায়াতের রাজনীতির নীতিনির্ধারক মহলের একজন। নানা দুর্যোগ, দুর্দিনে তিনি কানাইঘাটবাসীর সঙ্গে ছিলেন, আছেনও। তাকে ঘিরে জামায়াত নেতারা স্বপ্ন দেখছিলেন। অন্যদিকে, মুফতি আবুল হাসান এবারই প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী। তার দল খেলাফত মজলিস। আসনের জকিগঞ্জ উপজেলার একমাত্র প্রার্থী। নতুন প্রার্থী হলেও মুফতি আবুল হাসানের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। তিনি ওয়াজিন। ভার্চ্যুয়াল দুনিয়ায় পরিচিত মুখ। আলেম হিসেবে আছে গ্রহণযোগ্যতা। তাকে নিয়ে ভোটের মাঠে এবার বাজি ধরে খেলাফত মজলিস। প্রথম বাজিতেই বাজিমাত। ১১ দলের অভ্যন্তরে পিছু হটলো জামায়াত। প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হলো মুফতি আবুল হাসানের নাম। খেলাফত মজলিস সিলেটের ছয়টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে দু’টিতে ১১ দলের প্রার্থী দিলো। সিলেট-২ আসনটি আগেই ছাড় দেয়া হয়েছিল। এ আসনে তাদের প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুনতাসির আলী। সঙ্গে পেলো সিলেট-৫ আসন। 

খেলাফত মজলিস সিলেট জেলার সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদ জানিয়েছেন, মুফতি আবুল হাসান ইতিমধ্যে ভোটের মাঠে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন। আমরা মনে করি এবারের নির্বাচনে মুফতি আবুল হাসানও জয়ী হবেন। ভোটাররা ইতিমধ্যে তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, আসনটি ছাড়ার পর জামায়াতের প্রার্থী হাফিজ আনোয়ার হোসেন তার নিজের ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়ে সবার কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) সংসদীয় আসনের সকল শ্রেণি-পেশার মেহনতি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনারা যেভাবে আমাকে আপনাদের আপনজন হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছেন এবং অভূতপূর্ব ভালোবাসায় আবদ্ধ করেছেন। মহান রাব্বুল আলামিন আপনাদের সবাইকে সামগ্রিক কল্যাণ দান করুন ও নিরাপদে রাখুন, আমিন। 

আমরা সকলেই সংগঠনের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আস্থাশীল ও অনুগত। ইনশাআল্লাহ্‌, আমরা সবাই মিলে ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করে যাবো।’ সিলেট-৫ আসনে এবার বিএনপি’র কোনো প্রার্থী নেই। তবে মাঠে আছেন বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপি’র বহিষ্কৃত প্রথম সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ চাকসু মামুন। বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়ত প্রধান মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক। আর ১১ দলের প্রার্থী মুফতি আবুল হাসান। ভোটাররা জানিয়েছেন, এ আসনে এবার ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা বেশি। কারণ বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনও ভোটে পিছিয়ে নেই। তার পক্ষে অঞ্চলভেদে ভোটাররা রয়েছে। আর জমিয়ত প্রার্থী ওবায়দুল্লাহ ফারুক জমিয়তের বিশাল ভোট ব্যাংকের মালিক। পাশাপাশি বিএনপি’র ভোটও তিনি পাবেন। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ও জেলা বিএনপি’র নেতারা তার পক্ষে মাঠে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এ আসনটি সাবেক জামায়াতেরও। ফলে জামায়াতের ভোট ব্যাংক রয়েছে। একইসঙ্গে খেলাফত মজলিসেরও ভোট ব্যাংক আছে। জকিগঞ্জের একমাত্র প্রার্থী হওয়ায় অঞ্চল ভোটেও মুফতি আবুল হাসান এগিয়ে থাকবেন। ফলে এ আসনে জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষায় রয়েছেন ভোটাররা।