ঢাকা সেনানিবাসের মইনুল রোডের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ করা হয়। স্বামীর সঙ্গে ব্যক্তিগত স্মৃতি, ইতিহাস, সামষ্টিক নিরাপত্তা, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত মর্যাদার সঙ্গে জড়িত ওই বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়া ছিল খালেদা জিয়ার জন্য অত্যন্ত বেদনাপূর্ণ আঘাত। উচ্ছেদের সময়ের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, অভিযানে যাওয়া এক সেনা কর্মকর্তা খালেদা জিয়াকে বলছিলেন, 'আপনি (খালেদা) বের হয়ে আসেন। না এলে আমরা জোর করে নিয়ে আসব।' খালেদা জিয়া তখন বেডরুমে বসে ছিলেন।
ওই সময় খালেদা জিয়া বলছিলেন, 'আমি কেন বের হয়ে আসব। এটা আমার বাড়ি। আমাকে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে।' বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পরই খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। চোখের পানি মুছছিলেন আর কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলছিলেন, 'আমাকে এক কাপড়েই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।' স্মৃতিবিজড়িত ওই বাড়ি থেকে তিনি উঠেছিলেন গুলশানের বাসভবন 'ফিরোজা'য়।
আমার দেশ-এর অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের সঙ্গে জড়িত ছিলেন-ভারতে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা, তার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ও এসকে সিনহা, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি মোজাম্মেল হক, সাবেক সেনাপ্রধান মোহাম্মদ আবদুল মুবীন, ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) মোল্লা ফজলে আকবর, এডিজি মেজর জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ, অভিযানে অন্যতম নেতৃত্বদানকারী আমেরিকা প্রবাসী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান, বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদ, মদ উদ্ধার নাটক মঞ্চস্থকারী সাংবাদিক জ ই মামুন এবং গণমাধ্যমে কলাম লিখে প্রোপাগান্ডা তৈরিকারী সাংবাদিক সৈয়দ বোরহান কবীর।
উচ্ছেদের মামলা
২০০৯ সালের ৮ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকার মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাড়িটির ইজারা বাতিল করে। ইজারা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ছিল এবং সেনানিবাস এলাকার নিয়মানুযায়ী বাড়িটি রাজনৈতিক ব্যক্তিকে বরাদ্দ দেওয়া ছিল নিয়মবহির্ভূত-আওয়ামী লীগ সরকার এমন প্রোপাগান্ডা শুরু করে। ওই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই উচ্ছেদ নোটিস জারি করা হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদে বিচার বিভাগে ভূমিকা ছিল খায়রুল হক, মোজাম্মেল হোসেন এবং সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার। খায়রুল হকের নেতৃত্বে এ তিনজনের আপিল বিভাগের বেঞ্চেই শুনানি ছাড়া বাড়ি থেকে উচ্ছেদের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছিল। খালেদা জিয়ার আবেদনের শুনানি ছাড়াই তারা একতরফা রায় দিয়েছিলেন। ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর সকালে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে বাড়িটি খালি করার কাজ শুরু হয়। ওই দিন খালেদা জিয়াকে অনেকটা জোর করে বাড়ি থেকে বাইরে এনে গাড়িতে উঠিয়ে দেওয়া হয়।
উচ্ছেদের কুশীলব যারা
শেখ হাসিনা ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে
সেনানিবাসের বাড়ি থেকে খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ করেছিলেন শেখ হাসিনা। তিনি বিভিন্ন সময় তার বক্তব্যে সেটি তুলে ধরেছিলেন। শোক দিবসের এক আলোচনা সভায় তিনি বলেছিলেন, '২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত আইভি রহমানকে দেখতে সেনানিবাসে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় প্রতিজ্ঞা করেছিলাম তাকে সেনানিবাসের এই বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করব। তাই একেবারেই উচ্ছেদ করে দিয়েছি।'
শেখ হাসিনা বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে খালেদা জিয়াকে ওই বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেছিলেন। বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে তিনি তার বিভিন্ন বক্তব্যে খালেদা জিয়াকে তুচ্ছতাচ্ছিল করে বক্তব্য দেওয়ার রেকর্ড রয়েছে।
তারিক আহমেদ সিদ্দিক
শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের অন্যতম কুশীলব। ওই বাড়ি থেকে তাকে কোন প্রক্রিয়ায় উচ্ছেদ করা হবে, সেখানে কোন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে, বাড়ি থেকে বের করা হলে সেনাবাহিনীর মধ্যে কী প্রতিক্রিয়া হবে এবং হলে কীভাবে সেটি সামাল দেওয়া হবে: সেটির পরিকল্পনা করেছিলেন তারিক। ওই সময় তিনি ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তিনি হাসিনার সঙ্গে ভারতে পালিয়ে যান।
খায়রুল হক
খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের অন্যতম কুশীলব সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। কার্যক্রম নিষিদ্ধ পতিত স্বৈরাচারের দল আওয়ামী লীগের দলদাস বিচারপতি বলে পরিচিত ছিলেন তিনি। কয়েকজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে ডিঙিয়ে তাকে প্রধান বিচারপতি করা হয়। খায়রুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চেই শুনানি ছাড়া বাড়ি থেকে উচ্ছেদের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছিল। খালেদা জিয়ার আবেদনের শুনানি ছাড়াই তারা একতরফা রায় দিয়েছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন কাজে সমালোচিত ছিলেন খায়রুল। প্রধান বিচারপতি থাকাকালে ত্রাণ তহবিলের টাকা গ্রহণ করে নিজের চিকিৎসা করে সমালোচিত হয়েছিলেন। অবসর গ্রহণ করার কয়েকদিন আগে তিনি ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থ্য বাতিল করেন, যার ফলে দেশে রাজনৈতিক সংঘাতের পথ উন্মুক্ত হয়। রাজনৈতিক একটি বিষয়কে আদালতের আওতাধীন করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক নন বলে রায় দিয়েছিলেন তিনি।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট খায়রুল হক আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ইমরুল হাসান বাদী হয়ে ঢাকার আদালতে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় খায়রুল হকের বিরুদ্ধে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পরিবর্তন এবং জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়। আইন কমিশনের চেয়ারম্যান থাকাকালে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এই বিচারপতি বর্তমানে একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
এসকে সিনহা
আপিল বিভাগের তৎকালীন বিচারপতি এবং পরে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহা খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের মামলা নিয়ে বিভিন্ন কটূক্তি করেন। বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পেছনে তিনি
অন্যতম কুশীলব। বিচারপতি মোজাম্মেল হক
ওই সময়ের আপিল বিভাগের বিচারপতি এবং পরে পদোন্নতি পেয়ে প্রধান বিচারপতি হওয়া মোজাম্মেল হকও ছিলেন খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের অন্যতম কুশীলব।
বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা
আওয়ামী লীগের দলদাস বিচারপতি ছিলেন নাজমুন আরা সুলতানা। খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের অন্যতম কুশীলব ছিলেন তিনি। বাড়ি থেকে উচ্ছেদের আদালত অবমাননার মামলাটি তিনি শুনানি হতে দেননি। শুধু তাই নয়, তিনি হাইকোটে কর্মরত থাকাকালীন উদ্দেশ্যমূলক ও ও অতি উৎসাহী হয়ে অনেক রায় দেন। এর মধ্যে ফতোয়া অবৈধবিষয়ক রায়টি ছিল বেশি আলোচিত। ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি ফতোয়াকে অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে রায় দেন তিনি। এছাড়াও তার দেওয়া উল্লেখযোগ্য রায়গুলো হলো-সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ির মামলা, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বাদ পড়া ১০ বিচারপতির মামলা, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংবলিত সংবিধানের এয়োদশ সংশোধনী এবং উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণবিষয়ক সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়।
সাবেক সেনাপ্রধান মোহাম্মদ আবদুল মুবীন
খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পেছনে অন্যতম কুশীলব ছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান মোহাম্মদ আবদুল মুবীন তাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পর সেনাবাহিনীতে যাতে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া না হয়, সেজন্য তিনি শেখ হাসিনাকে অভয় দিয়েছিলেন। আবদুল মুবীন বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান মোল্লা ফজলে আকবর
খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের সময় সামরিক বাহিনীতে যাতে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া না হয়, সেজন্য আগে থেকেই ডিজিএফআইকে দিয়ে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন মোল্লা ফজলে আকবর। বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পুরো অপারেশনের দায়িত্ব তিনি পালন করেছিলেন। অপারেশনের জন্য আকবর তিন সদস্যের একটি টিম গঠন করেছিলেন।
ডিজিএফআইয়ের সাবেক এডিজি শেখ মামুন খালেদ
বাড়ি থেকে উচ্ছেদের সময় ডিজিএফআইয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন শেখ মামুন খালেদ। মোল্লা ফজলে আকবরের মেয়াদের পর তাকে মহাপরিচালক করা হয়েছিল। ওই উচ্ছেদ অভিযানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের সুবিধাভোগী ছিলেন।
অভিযানে নেতৃত্বদানকারী লে. কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান
খালেদা জিয়াকে বাড়ি উচ্ছেদের অভিযানে সরাসরি ভূমিকা রেখেছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান। খালেদা জিয়া বাড়ি থেকে বের হয়ে না এলে তিনি তাকে জোর করে ধরে আনার হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সরব তিনি।
বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ
খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের অন্যতম কুশীলব ছিলেন বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ। তিনি ওই সময় রাওয়া ক্লাবে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পক্ষে সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের জড়ো করে সভা-সমাবেশ করেছিলেন। জানা গেছে, সমাবেশের উদ্দেশ্য ছিল খালেদাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হলে সেনাবাহিনীতে যাতে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া না হয়। সে উদ্দেশ্যেই তিনি রাওয়া ক্লাবে সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের জড়ো করতেন।
মদ উদ্ধার নাটকের প্রতিবেদনকারী সাংবাদিক জ ই মামুন
সেনানিবাসের বাড়ি থেকে খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদের পর মিডিয়ায় মদ উদ্ধার নাটকের মিথ্যা প্রতিবেদন করে প্রোপাগান্ডা তৈরি করেছিলেন সাংবাদিক জ ই মামুন। শুধু মদ উদ্ধার নয়; বাড়ি থেকে খালেদাকে কেন বের করা হলো, তা নিয়ে সাজানো প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন তিনি।
পত্রিকায় কলাম লিখে প্রোপাগান্ডা তৈরি করেন সাংবাদিক বোরহান কবীর
খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পক্ষে পত্রিকায় কলাম লিখে প্রোপাগান্ডা তৈরি করতেন সাংবাদিক সৈয়দ বোরহান কবীর। শেখ হাসিনার সাবেক প্রেস সচিব পলাতক সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খানের আমাদের সময় পত্রিকায় সৈয়দ বোরহান কবীরের একটি লেখা প্রকাশ করা হয়। বোরহান কবীর সেখানে লেখেন, 'জিয়াউর রহমান পরিবার যে বিপুল রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য ও সহায়তা পেয়েছে, বাংলাদেশে অন্য কোনো রাষ্ট্রপতি, রাজনীতিবিদ বা সেনা কর্মকর্তা মৃত্যুর পর এর কানাকড়িও পাননি। সময় প্রবাহে বেগম জিয়া গৃহবধ থেকে রাজনীতিতে এসেছেন। তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তার সেই অনিশ্চিত অর্থনৈতিক অবস্থা এখন আর নেই। তার সন্তানরাও সফল ব্যবসায়ী। জেনারেল জিয়াউর রহমানের সমসাময়িক কর্মকর্তাদের তুলনায় শিক্ষায় না হোক, বিত্তের দিক থেকে তার সন্তানরা অনেক এগিয়ে। তারা এখন বিত্তবান।'
তিনি আরো লেখেন, 'তাদের এ বিত্তের প্রসার ঘটুক, আমাদের আপত্তি নেই। বেগম জিয়া আজ সচ্ছল ও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করছেন। আমার বিশ্বাস, আজ শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ১৯৮১ সালে তার অবস্থার স্মৃতি রোমন্থন করছেন। মাননীয় বিরোধী দলের নেত্রী, তাই আপনার কাছে একটি বিনীত প্রস্তাব রাখতে চাই। আপনি বাংলাদেশে একজন জননন্দিত নেত্রী। যে দেশের ৬২ শতাংশ মানুষ ভুমিহীন, সে দেশে দুটি প্রাসাদোপম বাড়ি রাষ্ট্রের কাছ থেকে গ্রহণ কি আপনার করা উচিত?
খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের বিষয়ে জানতে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করীম ভূঁইয়াকে কল করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি। একাধিকবার ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও সাড়া মেলেনি।
সাবেক সেনাপ্রধান মোহাম্মদ আবদুল মুবীনের সঙ্গে যোগাযোগেরর চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। জানা গেছে, তিনি বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন।
মঈনুল রোডের বাড়িটি ছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারের কাছে আবেগ, ইতিহাস ও স্মৃতির আঁতুড়ঘর। ওই বাড়িতে বেড়ে উঠেছেন তার সন্তানরা। ১৯৭২ সালে জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর উপপ্রধান হওয়ার পর মঈনুল রোডের বাড়িটিতে বসবাস শুরু করেন। এরপর সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি থাকাকালেও তিনি সেখানেই থাকতেন। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের শাহাদতের পর জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তে বছরে মাত্র এক টাকা খাজনার শর্তে বাড়িটি খালেদা জিয়াকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।