গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের পদত্যাগের হিড়িক যেন থামছে না।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর থেকে আজ পর্যন্ত অন্তত তিন শতাধিক বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা পদত্যাগ করেছেন। প্রতিদিনই কোনো না কোনো ইউনিয়নের নেতাকর্মী সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছেন। যার মধ্যে জেলার মুকসুদপুর ও কোটালীপাড়া উপজেলায় তুলনামুলকভাবে এ প্রবণতা বেশি।
মঙ্গলবার (৬ জানুযারি) মুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর, ভাবড়াশুড় ও বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের ৫০ নেতা পদত্যাগ করেন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে মুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের বনগ্রাম ও গোহালা ইউনিয়নের সিন্দিয়াঘাট এলাকায় এবং সকালে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে ১৪ নেতা পদত্যাগ করেন।
গত ৩ জানুয়ারি টুঙ্গিপাড়ার বিভিন্ন পর্যায়ের তিন নেতা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়ার একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগ করেন।
গত ২৭ ডিসেম্বর পিঞ্জুরী ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৭ নেতা ঘাঘর বাজার বিএনপি অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগ করেন। ওই দিনই আবার তারা বিএনপিতে যোগদান করেন।
২৩ ডিসেম্বর টুঙ্গিপাড়ার তিন নেতা ও মুকসুদপুরের খান্দারপাড় ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতা পদত্যাগ করেন।
২২ ডিসেম্বর খান্দারপাড় ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নয় নেতা পদত্যাগ করেন।
২০ ডিসেম্বর টুঙ্গিপাড়ার বিভিন্ন পর্যায়ের ১৩ নেতা ও মুকসুদপুরের দক্ষিণ জলিলপাড়ের বিভিন্ন পর্যায়ের ১০ নেতা পদত্যাগ করেন।
পদত্যাগকারীরা সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, তারা স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পদ-পদবি থেকে পদত্যাগ করেছেন। এখন থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের আর কোনো সম্পর্ক নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। অনেকে আবার শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার বলছেন, তাদের যে পদ-পদবি দেওয়া হয়েছে, তা তারা জানতেন না।
তবে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই জানিয়েছেন, গত ৫ আগস্টের পর গোপালগঞ্জে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনায় গোপালগঞ্জের বিভিন্ন থানায় অন্তত দুই ডজন মামলা হয়েছে। এসব মামলায় নামে বেনামে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত পাঁচ শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেককেই গ্রেপ্তার করে ওই সব মামলায় চালান দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় গ্রেপ্তার এড়াতে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অনেক নেতা পদত্যাগ করছেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকুজ্জামান বলেন, আওয়ামী লীগের কিছু উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা দল থেকে পদত্যাগ করছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করবে, তাই সরকারি দলের সঙ্গে থাকার জন্যও কেউ কেউ পদত্যাগ করছেন। তবে, আওয়ামী লীগের যাদের নামে কোনো অভিযোগ বা বদনাম নেই, তারা যদি বিএনপিতে আসতে চায়, তাদের সাদরে গ্রহণ করা হবে।