
বিগত সরকার দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সব সাংবিধানিক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে গেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারসহ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান দায়িত্ব। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেন এসব কথা বলেন। গণফোরামের ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় ড. কামাল হোসেনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান।
ড. কামাল হোসেন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই বিগত আমলের মতো একটি অশুভ শক্তির সর্বত্র চাঁদাবাজি, দখলবাজি, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাস, খুনোখুনি ও মব সংস্কৃতির এক নতুন প্রেক্ষাপট বিরাজ করছে। এ অশুভ শক্তিকে দমন করতে সরকার ব্যর্থ হলে দেশে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে, যা কারও কাম্য নয়।
তিনি বলেন, গণফোরাম মনে করে, কেবল সরকার ও দল বদল নয়; জনগণের ভাগ্য বদলের জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থবহ পরিবর্তন আনতে হবে। গণফোরামের লক্ষ্য বৈষম্যমুক্ত গণতান্ত্রিক, মানবিক কল্যাণকামী রাষ্ট্র বিনির্মাণ। তিনি বলেন, এখন সময়ের দাবি– প্রয়োজনীয় সংস্কার, অপরাধীদের বিচার ও সুষ্ঠু নির্বাচন, যাতে মানুষের আকাঙ্ক্ষিত বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথ সুগম হয়।
ড. কামাল হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ফেব্রুয়ারি-২০২৬ এর প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। আশা করি, বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিকতার সঙ্গে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে। পরিশেষে, গণফোরামের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের উদ্দেশে বলতে চাই– আসুন, দেশ গড়ার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি।
অনুষ্ঠানে ড. কামাল হোসেন নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন– বিএনপি নেতা অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বাসদের উপদেষ্টা খালেকুজ্জামান, সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, জাসদ নেতা শরীফ নূরুল আম্বিয়া, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা সাইফুল হক প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গণফোরামের ডা. মো. মিজানুর রহমান।