Image description

ঈদ পরবর্তী সময়ে হঠাৎ উত্তেজনা সিলেটে। আর এই উত্তেজনার মূলে রয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বুধবার ভোরে হঠাৎ করেই সিলেটে ঝটিকা মিছিল বের করে ছাত্রলীগ। নগরের ধোপাদীঘিরপাড় এলাকায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেলের ছবি সংবলিত একটি ব্যানার নিয়ে তারা মিছিল করে। আর এই মিছিলের পরপরই উত্তপ্ত হয়ে উঠে সিলেট নগর। প্রশ্ন উঠে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের প্রশ্ন- নিষিদ্ধ থাকার পর প্রকাশ্যে কীভাবে মিছিল করে ছাত্রলীগ। প্রতিবাদে সিলেট ছাত্রদলের জেলা ও নগরের কর্মীরা মিছিল করেছে। নগরে দিয়েছে মোটরসাইকেল শোডাউনও। ছাত্র-জনতার ব্যানারে নগরের বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ৭-৮টি বাসায় ভাঙচুর করা হয়। লন্ডনে পলাতক থাকা আওয়ামী লীগ নেতা ও সিলেটের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ভাঙচুরের জন্য দায়ী করেন সিলেট ছাত্রদলকে। যদিও বিএনপি’র তরফ থেকে ভাঙচুরের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। শনিবারও সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরীসহ সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন- বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না।

গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সিলেটে ভাঙচুর ও সহিংসতা ঠেকাতে সিলেট বিএনপি নেতারা মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। এতে করে দ্রুততম সময়ে সিলেটে স্বস্তি ফিরেছে। এদিকে সিলেটে ছাত্রলীগের মিছিল বুধবার ভোরেই প্রথম নয়। ঈদের আগে রমজানেও কয়েকটি মিছিল করেছে তারা। রাতে মশাল জ্বালিয়ে মিছিল করে। ছাত্রলীগের এই মিছিলকে ঘিরে প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ করেছেন রাজনৈতিক নেতারা। তারা বলেছেন- প্রশাসন সক্রিয় থাকলে তারা মিছিল করার সাহস পেতো না। সিলেটে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এই মিছিলকে প্রশাসনের জন্য প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তার মতে- যারা মিছিল করছে তারা তো সিলেটেই আছে। অনেকের বিরুদ্ধে মামলা আছে। তাদের গ্রেপ্তার করা হলে মিছিল করার সাহস পাবে না। এ জন্য তিনি প্রশাসনকে আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। রাজনৈতিক দলের নেতারা জানিয়েছেন- সিলেটে নিষিদ্ধ থাকা ছাত্রলীগ মিছিল বের করলেই ক্ষুব্ধ হন ছাত্র-জনতা। এই ক্ষোভের কারণও যৌক্তিক। ছাত্রলীগ ৫ই আগস্টের পূর্বে সিলেটে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেছে। নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে আন্দোলনে থাকা ছাত্র জনতার ওপর। যা অতীতে কখনোই ঘটেনি। এছাড়া আওয়ামী লীগ শাসনের সময়  স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা নগরের হাউজিং এস্টেটে দুই জামায়াত নেতার বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। নগরের দর্শন দেউরী এলাকায় বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিজানের বাসাও ভাঙচুর করেছে। এসব ঘটনার কারণে সিলেটের ছাত্রজনতা এখনো ছাত্রলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগের ওপর ক্ষুব্ধ রয়েছে। এই ক্ষোভের কারণেই বুধবার নগরে ঝটিকা মিছিল দেয়ার পর সিলেটের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলসহ ৭-৮ জন নেতার বাসায় ভাংচুর হয়েছে। এই ভাঙচুরের কারণে নগরে আতঙ্ক দেখা দেয়। এতে সক্রিয় হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। একসঙ্গে দুটি কাজ করতে হয়েছে তাদের। নগরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি মিছিলকারীদের গ্রেপ্তার করতে হয়েছে। বুধবারের মিছিলের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখনো গ্রেপ্তার অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের কর্মকর্তারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ায় পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়।

সিলেট  মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মানবজমিনকে জানিয়েছেন- নগরে দায়িত্ব পালনে প্রশাসনের কোনো গাফিলতি হচ্ছে না। প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। প্রকাশ্যে তো মিছিল করার সাহস কিংবা সামর্থ্য নেই ওদের। তারা নগরের অলি-গলিতে ঝটিকা মিছিল দিয়ে চলে যায়। আর তাদের কর্মসূচির স্থায়িত্বও কয়েক মিনিট। তিনি বলেন- যারাই মিছিল করে তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। একইসঙ্গে মিছিলকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে। সিলেটের মাঠে থাকা একাধিক ছাত্র সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন- ৫ই আগষ্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরপরই সিলেট থেকে চিহিৃত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা পালিয়েছে। তাদের বেশিরভাগই এখন ভারতের মেঘালয় ও কলকাতায় অবস্থান করছে। কেউ কেউ আছেন লন্ডনে। সেখান থেকে নির্দেশ দিয়ে কর্মীদের দিয়ে মিছিল করানো হচ্ছে। আর মিছিলের মাধ্যমে সিলেটের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অশান্ত করা হচ্ছে। তারা বলেন- ছাত্রলীগকে রাজপথ ও ক্যাম্পাসে প্রতিরোধ করতে ছাত্র-জনতা সক্রিয় রয়েছেন। যেখানেই তাদের পাওয়া যাবে সেখানেই তাদের প্রতিরোধ করা হবে। এদিকে, ৫ই আগস্ট সিলেট থেকে ছাত্রলীগের পদধারীরা পালিয়ে গেলেও অনেকেই দেশে অবস্থান করছেন। তারা গ্রেপ্তার এড়িয়ে ফেরারি জীবন কাটাচ্ছেন। ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলে তারাও চিন্তায় পড়েছেন। মিছিল পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় হওয়ায় অনেকেই গ্রেপ্তার হয়ে যাচ্ছেন। আবার অনেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে সিলেট নগর ছেড়ে পালিয়েও যাচ্ছেন।