Image description
♦ গড়তে হবে শক্তিশালী তৃণমূল ♦ লেখা হয়নি গঠনতন্ত্র ♦ মেলেনি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের খোঁজ ♦ ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার চ্যালেঞ্জ

রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর বয়স এক মাস পেরিয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি এনসিপির আত্মপ্রকাশের পরদিন শুরু হয় মাহে রমজান। রমজানকেন্দ্রিক দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমের দিকে মনোযোগ দিতে পারেননি দলটির নেতারা। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজনীতির মাঠে পা রাখা দলটির সামনে এখন নানামুখী চ্যালেঞ্জ। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করা।

দলীয় সূত্র জানান, ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরে নতুন উদ্যমে দল গুছিয়ে ভোটের প্রস্তুতি নেবেন এনসিপির নেতারা। প্রাথমিক কার্যতালিকায় থাকবে রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)-এর নিবন্ধন পেতে যাবতীয় শর্ত পূরণ করা। শুরু হবে গঠনতন্ত্র লেখার কাজ। চূড়ান্ত করা হবে দলের মূলনীতি, স্লোগান। আসন্ন নির্বাচনে দলটির প্রার্থীরা কোন প্রতীকে লড়বেন তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে অবস্থিত এনসিপির কার্যালয়কে ব্যবহার করা হচ্ছে অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে। ঈদের পর শুরু হবে স্থায়ী কার্যালয়ের খোঁজ।

দল গঠনের শুরু থেকেই ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন দলটির নেতারা। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সদ্যগঠিত দলটির নেতারা কীভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার চ্যালেঞ্জ সামলাবেন সে বিষয়েও দলের অভ্যন্তরে শুরু হয়নি আলোচনা। শক্তিশালী তৃণমূল না থাকায় ভোটের মাঠে এখন পর্যন্ত প্রতিপক্ষ দলগুলোর সঙ্গে লড়াই জমিয়ে তোলার মতো অবস্থান তৈরি হয়নি এনসিপির। তৃণমূলের সাংগঠনিক কার্যক্রম মজবুতের লক্ষ্যে কোন পথে এগোবে তার সুস্পষ্ট রোডম্যাপ গড়ে তুলতে কাজ করবেন দলটির নেতারা। আপাতত ঈদ অবকাশে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত দলটির নেতারা এখন নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান করছেন। চালাচ্ছেন এনসিপির পক্ষে গণসংযোগ।

জনমানুষের কাছে গিয়ে জানতে চাইছেন তাদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার কথা। এদিকে একাধিক ইস্যুতে নবগঠিত এনসিপির নেতাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা গেছে। যার আভাস মিলেছে সমাজমাধ্যম ফেসবুকে। এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, দলের বিভিন্ন সদস্যের কথাবার্তা নিয়ে অনেকের মনে হচ্ছে দলের মধ্যে সমন্বয়হীনতার জায়গা তৈরি হয়েছে। বিষয়টা এমন নয়। ২৭ মার্চ রংপুরে গণসংযোগকালে দেওয়া ওই বক্তব্যে আখতার হোসেন বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠকরা সারা দেশে কমিটি গঠনের কাজ শুরু করেছেন। তাঁরা মানুষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন। তাঁরা আশাবাদী অল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচনের নিবন্ধন পেতে যেসব শর্ত পূরণ করতে হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টি সেগুলো পূরণ করতে পারবে। ঈদের ছুটি শেষে অপূর্ণাঙ্গ থাকা অত্যাবশ্যকীয় কাজগুলো দ্রুততম সময়ে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে দলের যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এনসিপির প্রতি দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক। তাদের অন্যতম চাওয়া আমাদের দলীয় কার্যক্রমের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি যেন নিশ্চিত করা হয়। দলীয় কার্যক্রম চালাতে প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান ও ব্যয়ের খাত পরিচালনার জন্য ঈদের পর অবিলম্বে আর্থিক উপদেষ্টা কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। তিনি বলেন, দলীয় কার্যক্রম গতিশীল ও সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুতের লক্ষ্যে আরও কিছু কমিটি গঠন করা হবে। তৈরি করা হবে বিভিন্ন বিষয়ক সম্পাদক পদ।