Image description

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন টকশোতে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন,"আমাকে অনেকেই বলছে, আপনি আন্দোলনটা কোথায় যাচ্ছে জানেন? হাসিনা চইলা গেলে কি হবে? কে আসবে? আমার জানার দরকার নাই, হাসিনা চইলা গেলে আজরাইল আসুক, এতেও আমি খুশি। আজরাইল আসলে আমিও খুশি।"

গণঅভ্যুত্থানের অভিপ্রায় নিয়ে উপস্থাপকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,"আমি ২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে মানুষের অভিপ্রায়কে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের এক নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছি। আমরা কতটুকু আশা করতে পারি এবং কী পরিবর্তন হতে পারে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে ইতিহাস সাক্ষী, প্রতিটি বিপ্লবের পেছনে থাকে এক দৃঢ় অভিপ্রায়।"

তিনি আরও বলেন,"আমি ৫ই আগস্টের আন্দোলনকে প্রথম থেকেই দেখছি। এটি শুরুতে ছিল নির্দোষ এক আন্দোলন-কোটা বিরোধী আন্দোলন। ছাত্ররা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছিল, কিন্তু পরে এটি নতুন মোড় নেয়। তখন আমি ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেছিলাম,তোমরা শুধু চাকরি চাও? তোমরা গণতান্ত্রিক অধিকার চাও না? তোমরা কি সৈরতন্ত্রের পতন চাও না? তোমরা তো এদেশের যুবক, এখনই তোমাদের যুদ্ধে যাবার শ্রেষ্ঠ সময়!"

 

তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য তখন প্রচুর মানুষ শুনেছিল এবং এটি ছাত্রদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল।

 

ফজলুর রহমান বলেন,"আমি প্রথম থেকেই বলেছি, ৫ই আগস্টের আন্দোলনটা ছিল নীরব ও শান্তিপূর্ণ। ছাত্ররা নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হয়েছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে এটি বৃহৎ গণআন্দোলনে পরিণত হয়।"

তিনি আরও বলেন,"জুলাই মাসে, ১৬ তারিখে, যখন রংপুরের সেই মহাবীর সাঈদ শহীদ হন, তখন আমি বলেছিলাম-এটাই একবিংশ শতাব্দীর প্রথম বীর শ্রেষ্ঠের নাম। এই কথাটি প্রথম আমি বলেছিলাম। সেই সময় আমি আমার স্ত্রীকেও বলেছিলাম, তুমি বিধবা হতে পারো, তোমার সন্তানেরা এতিম হতে পারে। কারণ আমি জানতাম, এ ধরনের আন্দোলনের জন্য যে কোনো সময় বড় মূল্য দিতে হতে পারে।"

তিনি বলেন,"আমাকে অনেকেই জিজ্ঞেস করছে-এই আন্দোলন কোথায় যাচ্ছে? হাসিনা গেলে কে আসবে? আমি বলেছি, আমার জানার দরকার নেই। হাসিনা গেলে আজরাইল আসলেও আমি খুশি।"

তিনি আরও বলেন,"আমার মতে, আওয়ামী লীগ একটি অভিশপ্ত রাজনৈতিক দল। এমনকি আমি এখন বলছি, বাংলাদেশই একটি অভিশপ্ত দেশ হয়ে গেছে।"

বিএনপির মহাসচিবের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ফজলুর রহমান বলেন,"আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব যদি নির্ধারিত সময়ে নির্বাচনের ঘোষণা না আসে। তবে অন্য রাজনৈতিক শক্তিগুলো বলছে, কিসের নির্বাচন? আগে হাসিনার বিচার হবে, তারপর সংস্কার। কিন্তু এই কাজগুলো কতদিন লাগবে, তার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই।"

তিনি বলেন,"যদি দেশকে সঠিক লাইনে তুলতে হয়, তাহলে দ্রুত নির্বাচনভিত্তিক সংস্কার করতে হবে। বাকিগুলো পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দিতে হবে।"

সূত্র:https://tinyurl.com/yeynrapf