
সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রতি রমজানের বাজার এবং ঈদ যাত্রা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। হাসিনা সরকারের অধীনে রমজান মাসে সাধারণ মানুষের জন্য কোন স্বস্তি ছিল না, তবে এবারের রমজানে কিছু পরিবর্তন হয়েছে যা জনগণের কাছে প্রশংসিত। এছাড়া, ঈদ যাত্রা এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যক্রম কিছুটা সফল হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, "এক মাসের একটা রমজান পার হয়ে গেল। পবিত্র রমজান মাস পার হয়ে গেল। রোজা যেটাকে আমরা মানে অত্যন্ত পবিত্র একটা মাস। আমাদের দেশটা একটা মুসলিম প্রধান দেশ। এখানে মানুষের মধ্যে ধর্মের প্রতি যে ভালোবাসা, ধর্মের প্রতি যে ভীতি সেটা আমার মনে হয় পৃথিবীর অনেক দেশে আমাদের মতো এত বেশি নাই।"
তিনি আরও বলেন, "তারপরেও মর্মান্তিক ঘটনা ছিল এই রমজান মাসে আমরা দেখতাম জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হতো। মানুষকে কষ্টে ফেলা হতো। রোজার সেহরি করতে গিয়ে, ইফতারি করতে গিয়ে মানুষের যে যে পণ্যের খুব প্রয়োজন ছিল ঠিক সেই সেই পণ্যের দাম বাড়ানো হতো। কারা বাড়াতো? তারাও মুসলমান।
একজন মুসলমানের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াতো আরেকজন মুসলমান। এবং সেই যে কারণটা, যে কারণে তারা কষ্টের কারণ হয়ে, সেই কারণটা কিন্তু খুব প্রয়োজনীয় কোন কারণ ছিল না। তার নিজের মুনাফার জন্য তারা এটা করতো। ইসলাম ধর্মে যে জিনিসটাকে প্রচণ্ডভাবে নিষেধ করা হয়েছে, তারা সেই অপকর্মটা করতো।"
তিনি আরও জানান, "আমরা দেখতাম, বলতাম কোন ফল হতো না। আমার মনে পড়ে না হাসিনা শেখ হাসিনা শাসন আমলে গত ১৫ বছরে কোন একটা রোজায় আমি সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্রব্যমূল্য নিয়ে, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ে স্বস্তি দেখেছি। আমার মনে পড়ে না। যারা এতদিন আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছেন, এখনো করেন, তাদেরকেও আমি বলব দয়া করে মিলিয়ে নিন। পারে নাই। হাসিনা গভমেন্ট একবারের জন্য মানুষকে স্বস্তি দিতে পারে নাই।"
মাসুদ কামাল বলেন, "কিন্তু আমরা লক্ষ্য করলাম, এবার রমজানে আমরা দুই একটা জিনিস ছাড়া, দুই একটা পণ্য ছাড়া, যেমন ধরা যাক চাল, তেল, ভোজ্য তেল এবং খাওয়ার চাল, এই দুটো ক্ষেত্র ছাড়া, আর সকল ক্ষেত্রে আমার কাছে মনে হয়েছে সাধারণ মানুষ একটা সহনীয় অবস্থায় ছিল। আমি মানুষের চিৎকার চেচামেচি দেখি নাই। সরকার প্রধানকে এখন আর আপনার মানে আপনার বেগুনি বানানোর পদ্ধতি, মিষ্টি কুমড়া দিয়ে বেগুনি বানানোর পদ্ধতি শিখাতে হয়নি। পেঁয়াজের পরিবর্তে পেঁয়াজ কিভাবে শুকিয়ে রাখা যায় সেই কথাও শিখাতে হয়নি। কাঁচামরিচি শুকিয়ে রাখার রেসিপিও দিতে হয়নি। মানুষ এমনিতেই পেয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমি মনে করি কেন পেয়েছে, কেন পাইনি, এটা নিয়ে নানা ব্যাখ্যা আছে। কিন্তু আমাকে আমি অনেককে শুনেছি, অনেকে আমাকে বলেছেন এই কারণে পেয়েছে, সেই কারণে পেয়েছে নানা রকম কারণ দেখিয়েছি। যে কারণেই আপনি দেখান, সে কারণ নিয়ে আমার কোন বক্তব্য নাই। কিন্তু আমার বক্তব্য এটা, মানুষ পেয়েছে কি পায়নি, মানুষ সুস্থিতে ছিল। হ্যাঁ, চাল নিয়ে সুস্থিতে ছিল না। চালের দামটা কেন বাড়তি, এটা নিয়ে আজকে আমি একটা পত্রিকা দেখলাম, যে পৃথিবীর সব জায়গায় নাকি চাউলের দাম নিম্নমুখী। তো সারা দুনিয়াতে চালের দাম যদি নিম্নমুখী হয়, আমার এখানে ঊর্ধ্বমুখী হবে কেন?"
তিনি আরও বলেন, "আমি মনে করি এটা সরকারকে দেখা উচিত। সরকারের যিনি বাণিজ্যমন্ত্রী আছেন, যিনি এইবার রমজানের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে সফলতা দেখাতে পেরেছেন, তাকে আমি রিকোয়েস্ট করবো চাউলের দাম সারা দুনিয়ায় যেখানে কমছে, আমার এখানে কেন বাড়ছে, এটা আপনাকে অবশ্যই খবর নিয়ে দেখতে হবে এবং ব্যবস্থা নিতে হবে।"
মাসুদ কামাল বলেন, "তেলের দাম পারেন নাই। তেলের দাম আপনি আগেও পারেন নাই, এখনো পারেন নাই। এখন তেলটা নিয়ে কি করবেন সেটা আপনার ব্যাপার। তবে আমি মনে করি, এটা যদি চান, সিন্ডিকেট ভাঙতে পারবেন। এখানে আরেকটা বিষয়, অনেকে বলেন যে, যেহেতু চাঁদাবাজি ছিল না, অতএব এটা সম্ভব হয়েছে। এই চাঁদাবাজি না থাকাটাও তো সরকারেরই একটা ক্রেডিট, তাই না? কাজেই সেক্ষেত্রে আমি ক্রেডিটটা সরকারকে দেব।"
তিনি আরও বলেন, "চাঁদাবাজির আরেকটা না থাকার আরেকটা ইতিবাচক জিনিস দেখলাম। এবার ঈদ যাত্রা এবং এটা আমার কাছে বিস্ময়কর, অকিভাবে সম্ভব হলো? এবার ঈদ যাত্রায় আমরা দেখলাম, বাসে অতিরিক্ত ভাড়ার জন্য হাহাকার, হইচই সেটা নাই। ট্রেন যাত্রা খুবই সুস্থির, খুবই স্মুথলি হচ্ছে। ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি হচ্ছে না, এগুলি কিন্তু আসলে অবিশ্বাস্য। আমাদের এই দেশে ছিল। এর আগে হয় নাই।"
সূত্র:https://tinyurl.com/3yb9r38n