Image description

গাজীপুরে পুলিশের গুলিতে নুরুজ্জামান সামি নামের ১০ বছর বয়সি এক স্কুলশিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়েছে— এমন দাবি করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিভিন্ন ফেসবুক পেজ থেকে কয়েকটি ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। 

ওইসব ছবিতে স্কুলের পোশাক পরা এক আহত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালের কেবিনে জরুরি চিকিৎসা দিতে দেখা যাচ্ছে। ছবিতে স্কুলের আইডি কার্ড ও রক্তাক্ত শার্ট দেখানো হয়েছে।

তবে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থী নুরুজ্জামান সামির বাবা ইউসুফ রানা। তিনি জানান, ছুটির পর স্কুল থেকে বের হওয়ার সময় পেছন থেকে একটি ইটের টুকরা এসে সামির গায়ে লাগে, এতে সে আঘাত পেয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে ছবিগুলো পোস্ট করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজসহ দলটির সমর্থিত পেজ, প্রোফাইল ও পাবলিক গ্রুপ থেকে একই দাবি প্রচার করা হচ্ছে। এ ধরনের বেশকিছু অ্যাকাউন্ট থেকে বলা হচ্ছে, চলমান পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে গাজীপুরে পুলিশের গুলিতে ১০ বছর বয়সি স্কুলশিক্ষার্থী নুরুজ্জামান সামি গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে লেখা হয়েছে, ‘তারেক রহমানের অবৈধ ক্ষমতার পৈশাচিক তান্ডবে এখন নিরাপদ নয় নিষ্পাপ শিশুরাও! বই-খাতা হাতে নিয়ে ক্লাসে যাওয়ার কথা যে ছোট্ট শিশুর, আজ খাকি পোশাকের ঘাতকদের বুলেটে সে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে হাসপাতালে! গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের সময় পুলিশের নির্বিচার গুলিতে বিকেএসপি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির এক কোমলমতি শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা শুধু মর্মান্তিক নয়, এটি তারেক রহমান ও তার পেটুয়া বাহিনীর চরম অমানবিকতার এক নৃশংস বহিঃপ্রকাশ।’

এছাড়া নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘গাজীপুরে পরাধীন মন্ত্রীর পুলিশের গুলিতে নুরুজ্জামান সামি নামে ১০ বছর বয়সি স্কুল শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ। আগের দিনের সান্ধ্যকালীন ভোটের বিএনপি সরকারের হাত ১০ বছর বয়সি স্কুল শিক্ষার্থীর রক্তে রঞ্জিত!’  

এদিকে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই শিক্ষার্থীর বাবা ইউসুফ রানা জানান, সামি বিকেএসপি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। ছুটি শেষে স্কুল থেকে বের হওয়ার পর পেছন থেকে ছোড়া একটি ইটের টুকরা তার ছেলের কানের পাশে এসে লাগে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মাথায় তিনটি সেলাই দেন।

ছেলে ঝুঁকিমুক্ত কি না, জানতে চাইলে ইউসুফ রানা বলেন, সিটি স্ক্যান ও এক্স-রে করানো হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার ছেলে এখন শঙ্কামুক্ত। তাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং সে বিশ্রামে আছে।

ইউসুফ রানা আরও বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমার ছেলের মাথায় পেছন থেকে একটি ইটের টুকরার আঘাত লেগেছে।

উল্লেখ্য, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রোববার থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন কর্মসূচি চলছে। পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে তাদের একাধিকবার সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।