Image description

মাদারীপুর জেলার শিবচরের নিলখী ইউনিয়নে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অব্যাহতি পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন শাখার নেতা তাইজুল ইসলামের বসত-ঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। রোববার সকালে উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের পশ্চিম চরকামারকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কয়েকশ নারী-পুরুষ একত্র হয়ে তার বসতঘরটি ভেঙে দেন। এ সময় ব্যানার হাতে শাস্তির দাবিতেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

অভিযুক্ত তাইজুল ইসলাম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কবিরাজি চিকিৎসা করতেন। এ ছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ওই ইউনিয়নে জামায়াতের প্রচার-প্রচারণার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। স্থানীয়রা তাকে নিলখী ইউনিয়নের জামায়াতের সভাপতি (আমির) হিসেবে জানতেন। গত সপ্তাহের রোববার তাকে ঘিরে একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রামের সম্মানহানি হচ্ছে।

ভিডিও ভাইরাল হবার এক সপ্তাহ পর রোববার সকালে কয়েকশ নারী-পুরুষ একত্র হয়ে তাইজুল ইসলামের বসতঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন। তবে এ ঘটনায় বাড়িটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এর আগে, গত ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শিবচর উপজেলা শাখার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাইজুল ইসলামকে নিলখী ইউনিয়ন শাখার সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে  অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে তার বিরুদ্ধে নৈতিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এদিকে, তাইজুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছিলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থাকা নারী তার স্ত্রী।

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ‘সকালে অভিযুক্ত তাইজুল ইসলামের শাস্তির দাবিতে এলাকার লোকজন একটা মানববন্ধন করে বলে জানতে পারি। পরে কিছু লোক ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’