বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তার বান্ধবী জেরিকা তাসনীম দিশাকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ। শনিবার রাতে রাজধানীর মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গণমাধ্যমে নাম প্রকাশের পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন দিশা। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তাহসিফের লাশ উদ্ধারের আগে তার বাসার ঠিক বিপরীত পাশের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন দিশা। ঘটনার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন তিনি।
শনিবার রাতে খালার বাসায় গিয়ে এক ব্যক্তিকে নিজের নিরাপদে থাকার কথা জানান দিশা। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। এরপর সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে তাহসিফের মৃত্যুর আগে তার চলাফেরা নিয়ে নতুন তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। একটি রেস্তোরাঁ ও বারের সিসিটিভি ফুটেজে গত ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফ, তার বন্ধু দীপ ও দিশাকে একসঙ্গে দেখা গেছে।
ফুটেজ অনুযায়ী, রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ওই রেস্তোরাঁয় পৌঁছান তাহসিফ ও দিশা। তারা একটি মোটরসাইকেলে সেখানে যান। কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেলে আসেন দীপ। পরে তিনজনকে একসঙ্গে রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করতে দেখা যায়।
অন্য একটি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ ও দিশা লিফটের সামনে অপেক্ষা করছেন। কিছুক্ষণ পর হেলমেট পরা অবস্থায় সেখানে আসেন দীপ। এরপর তিনজন একসঙ্গে লিফটে ওঠেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাত ১১টা ৫১ মিনিটে তাদের রেস্তোরাঁ থেকে বের হতে দেখা যায়। পরে মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যান তারা।
তবে রেস্তোরাঁ থেকে বের হওয়ার পর তিনজন কোথায় গিয়েছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্তকারীরা। তাদের পরবর্তী অবস্থান ও গতিবিধি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের পর তার বন্ধু দীপকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। জিজ্ঞাসাবাদে তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে যাওয়া এবং সেসব সফরের কারণ সম্পর্কে তথ্য দেন তিনি। তবে তার বক্তব্যে কিছু অসংগতি খুঁজে পান তদন্তকারীরা। পরে দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে পিবিআই।