‘১০ বছরেও যা হয়নি, এই সরকার আট মাসেই দেশ ধ্বংস করে দিয়েছে’, এমন মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় যশোরের মুড়লী মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ যা করেছিল, সেই জায়গায় ছাত্রদল-যুবদল বসেছে। শুধু নাম বদলেছে, চরিত্র একই। দ্রব্যমূল্য, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারি, সার, গ্যাস, বিদ্যুতের সংকট তৈরি হয়েছে। ১০ বছরেও যা হয়নি, এই সরকার আট মাসেই দেশ ধ্বংস করে দিয়েছে।’
বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, যশোরের পথসভায় মানুষের উপস্থিতি বিএনপিকে একটি বার্তা দিচ্ছে। নির্বাচনের আট মাস পরও সরকারের ভাবার সময় আছে।
তিনি বলেন, “গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আপনি জাতিকে যে ওয়াদা করেছিলেন, দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বলেছেন, ভোট দিয়েছেন, সারা বছর প্রচার করেছেন। ভোট দেয়ার পরে এখন নিজের ভোটকে নিজেই অস্বীকার করছেন।’
বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিরোধী দল সকালে এক কথা, বিকেলে আরেক কথা বলে, এমন অভিযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু গত সাত-আট মাসে জনগণের সঙ্গে এবং গণভোটের রায়ের সঙ্গে কী ঘটেছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘পাঁচ কোটি মানুষ গণভোটে ভোট দিয়েছে, আপনিও ভোট দিয়েছেন। আট মাস হলো, এখন আপনি সেই কথা কেন রক্ষা করতে পারেননি? আপনি যদি রক্ষা করতে না পারেন, তাহলে আমাদের লংমার্চ করা দোষের কী?’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১১ দল এখনো নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল আন্দোলন করছে। জামায়াতের আমীর ও ঐক্যের শীর্ষ নেতারা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পাঁচ কোটি মানুষ গণভোটে ভোট দিয়েছে। জনমত সৃষ্টি করে জনগণকে বোঝাতে হবে, বিএনপি জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’
সরকারের কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আপনারা কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড আর নানান কার্ড ছড়িয়ে দিয়ে নিজেদের শক্তি মনে করছেন। কিন্তু আমাদের জনগণের কাছে একটা কার্ড আছে। সেই কার্ড হলো লাল কার্ড। প্রয়োজনে সেই লাল কার্ড জনগণ আপনাদের দেখাবে।’
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে সংসদে আলোচনার আহ্বান জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, আগামী ৯ তারিখের সংসদ অধিবেশনে সরকারের উচিত নিজের ভুল স্বীকার করে সংবিধান সংশোধনীর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনায় ফেরা।
তিনি বলেন, ‘এখনো সময় আছে। আগামী ৯ তারিখের সংসদ অধিবেশনে নিজের ভুল স্বীকার করে একদলীয় সংবিধান সংশোধনীর এই বক্সার স্টাইল থেকে ফিরে আসুন। বলুন, আসুন গণভোট ও সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেই আলোচনা করি। রাজনৈতিক সংকট ও সংঘাত তৈরি না করে সংসদে এর নিষ্পত্তি করুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই এক দফা নয়, এটি প্রথম দফা।’ এর মাধ্যমে ১১ দলের চলমান আন্দোলনকে একটি দাবিতে সীমাবদ্ধ না রেখে পরবর্তী কর্মসূচির জন্যও প্রস্তুত থাকার ইঙ্গিত দেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে লংমার্চের পথে বিভিন্ন স্থানে মানুষের উপস্থিতি ও সংবর্ধনার কথা উল্লেখ করেন গোলাম পরওয়ার। ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে যশোরে আসার পথে বিভিন্ন স্থানে মানুষের ঢল দেখা গেছে বলে জানান তিনি।
গোপালগঞ্জেও নারী-পুরুষ রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে ১১ দলের নেতাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। মুড়লী মোড়ের পথসভায় বিপুল মানুষের উপস্থিতিকে আন্দোলনের প্রতি জনসমর্থনের বার্তা হিসেবে তুলে ধরেন গোলাম পরওয়ার।
যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক, এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহসহ অন্যরা।