Image description

সরকারি প্রটোকল অনুযায়ী জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করলেও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের আসন ও অবস্থান স্পষ্ট করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

এ কারণে অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াত।

মঙ্গলবার দুপুরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার বলেন, আমন্ত্রণপত্রে প্রধান অতিথি, সভাপতি, প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবসহ অন্যদের অবস্থান উল্লেখ করা হলেও বিরোধীদলীয় নেতার জন্য যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়নি।

তিনি বলেন, ‘এ অবস্থায় তিনি অনুষ্ঠানে গিয়ে সাধারণ দর্শকের আসনে বসবেন, নাকি মঞ্চে তার জন্য কোনো নির্দিষ্ট আসন থাকবে, তা স্পষ্ট ছিল না। বিরোধীদলীয় নেতাকে যথাযথ সম্মান না দিয়ে শুধু আমন্ত্রণপত্র পাঠানোকে আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি।’

 

গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, বিরোধী দলকে ছোট করার জন্যই এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলকে ছোট করার জন্যই এ ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। তাই বিরোধীদলীয় নেতা অনুষ্ঠানে যাননি বলে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি।’

এর আগে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতার অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, বিরোধী দল জুলাইকে ধারণ করে না।

এর জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামীসহ ১১টি দল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে আন্দোলন করছে। বিএনপি সরকার গণভোটের রায় উপেক্ষা করে জুলাই সনদের চেতনার বিপরীত পথে হাঁটছে, বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল দলীয়করণ, দুর্নীতি ও ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করা। কিন্তু সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগেরও সমালোচনা করেন তিনি।

তার অভিযোগ, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে সাংবিধানিক পদে নিয়োগের জন্য সরকারি দল, বিরোধী দল, বিচার বিভাগ ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। কিন্তু সরকার সেই নীতি অনুসরণ করছে না।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। জামায়াত পাঁচটি বিষয়ে ভিন্নমত জানালেও বৃহত্তর ঐকমত্যের স্বার্থে সেসব বিষয়ে অনড় থাকেনি। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি নিজেদের ভিন্নমতের ওপর অনড় থেকে সনদ বাস্তবায়ন এড়িয়ে যাচ্ছে এবং সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বিরোধী দলের অসহযোগিতার অভিযোগের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিরোধী দল সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে জনগণের রায় উপেক্ষা করে একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তাতে সহযোগিতা করা সম্ভব নয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা ও গ্রেপ্তার এবং চাঁদাবাজি ও খুনের অভিযোগ কর্তৃত্ববাদী শাসনের আশঙ্কা তৈরি করছে। তার দাবি, বিএনপি সরকার এসব ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের পথ অনুসরণ করছে।

১৯৯৪-৯৫ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের একই পথে চলার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, তখন বিভিন্ন বিরোধী দলের কর্মসূচি সমন্বয়ের জন্য লিয়াজোঁ কমিটি ছিল। জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট করেনি; বরং নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে বিভিন্ন দলের সঙ্গে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিল।

এ ছাড়া জামায়াতের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা বেশি বরাদ্দ পাচ্ছেন দাবি করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে সমান আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, সৌদি আরবের বিচারব্যবস্থা সে দেশের আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশের দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি ঘটনাটিকে সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করেন।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, সামনে লংমার্চের মতো কর্মসূচির মাধ্যমেও দাবি জানানো হবে।