Image description

কারাবন্দি জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ডিভিশন বাতিল ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে তার দল জাসদ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দলটির দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, হাসানুল হক ইনু দেশের একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রসেনা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। বর্তমানে তার বয়স ৮০ বছর। ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট থেকে তিনি কারাবন্দি।

বিবৃতিতে জাসদ জানিয়েছে, ১৯৮৮ সালে সিলেটে একটি রাজনৈতিক জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় ইনু গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হন। দেশে ও বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও তার হৃদযন্ত্রের গুরুতর ক্ষতি হয়। এরপর থেকে তিনি দেশে ও বিদেশের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার মধ্যে রয়েছেন।

দলটির দাবি, হৃদযন্ত্রের কার্যক্রমের আরও অবনতি ঠেকাতে ২০১৭ সালে সিঙ্গাপুরের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা তার শরীরে আইসিডি নামের একটি ছোট যন্ত্র প্রতিস্থাপন করেন। এই যন্ত্রটি সিঙ্গাপুরে স্থাপিত একটি সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত। ওই সার্ভারের মাধ্যমে চিকিৎসকেরা তার হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট ইনু গ্রেপ্তার হওয়ার পর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কারা কর্তৃপক্ষ তার শরীরে প্রতিস্থাপিত আইসিডির সঙ্গে যুক্ত অত্যাবশ্যকীয় পোর্টেবল মনিটরটি খুলে ফেলে। সেটি এখনো সংযুক্ত করা হয়নি। ফলে সিঙ্গাপুরের সার্ভারের মাধ্যমে তার হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ বন্ধ রয়েছে। এতে তার চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা পরামর্শ দিতে পারছেন না।

জাসদের ভাষ্য, ৮০ বছর বয়সে দুই বছরের বেশি সময় কারাভোগ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ায় ইনুর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা শতাধিক মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো এবং মামলার ধার্য তারিখে হাজিরার জন্য প্রিজন ভ্যানে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ঘন ঘন আদালতে যাতায়াতের কারণেও তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ অক্টোবর কাশিমপুর কারাগার থেকে একটি মামলার ধার্য তারিখে ইনুকে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) হাজির করা হয়। সেদিন কারাগারে ফেরত নেওয়ার পর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে কারা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জাসদের অভিযোগ, তার রক্তচাপ অস্বাভাবিক ও অস্থিতিশীল থাকা এবং বুকে ব্যথা থাকা সত্ত্বেও তাকে কারা হাসপাতালে রেখে দেওয়া হয়েছে; বাইরের কোনো হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়নি।

এর আগে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর কারাগারে ইনুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে তার স্ত্রী স্বাস্থ্যহানি ও গুরুতর অসুস্থতার কথা জানতে পারেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে হাসানুল হক ইনুর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তাকে উপযুক্ত হাসপাতালে পাঠানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটি।

ডিভিশন-১ পুনর্বহালের দাবি


বিবৃতিতে বলা হয়, গ্রেপ্তারের পর হাসানুল হক ইনুকে কারাগারে ডিভিশন-১ দেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। ঢাকা জেলা প্রশাসন ওই আদেশ বাস্তবায়নও করেছিল।

কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত ৬ অক্টোবর গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার কর্তৃপক্ষ তার ডিভিশন বাতিল করে দেয় বলে অভিযোগ জাসদের। বর্তমানে তাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর একটি সেলে আরও আটজন বন্দীর সঙ্গে রাখা হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

জাসদের দাবি, হাসানুল হক ইনুর বয়স, শারীরিক অসুস্থতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও রাজনৈতিক অবদান বিবেচনায় আদালত তাকে ডিভিশন-১ দিয়েছিলেন। কারাবিধি অনুযায়ী ডিভিশন-১ পুনর্বহাল করা হোক।