ব্যাপক ধরপাকড়ের পরও দমে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও একাধিক ছাত্রসংগঠন। শনিবার ‘ভোট চুরি’ এবং ক্ষমতাসীন বিজেপির সঙ্গে ‘যোগসাজশের’ অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ অথবা তাকে অপসারণ না করা পর্যন্ত প্রতিদিন যন্তর মন্তরে মিছিল করার অঙ্গীকার করেছে তারা।
জাতীয় রাজধানী দিল্লির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সিজেপি বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল। এর পর পুলিশ দিল্লিজুড়ে অভিযান চালিয়ে দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেসহ শীর্ষ নেতাদের এবং আরও শত শত মানুষকে আটক করে। এর মধ্যেই সিজেপির প্রতিনিধিরা প্রতিদিন মিছিল করার ঘোষণা দেন।
আটক বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘নিরীহ প্রতিবাদকারীদের নির্মম নির্যাতনের’ অভিযোগ তুলেছেন তারা। তাদের দাবি, সকাল ১১টার দিকে উড়োজাহাজটি দিল্লিতে অবতরণের পরপরই পুলিশ সেখান থেকে দীপকেকে আটক করে। এরপর তাঁকে ও অন্য নেতাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা তারা জানেন না।
সিজেপির প্রতিনিধিরা আরও অভিযোগ করেন, দীপকের সঙ্গে ‘অমানবিক আচরণ’ করা হচ্ছে। দিনের শুরুতে মহারাষ্ট্রে তার নিজ শহরে দাদি মারা গেলেও তাকে শেষকৃত্যে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না।
দীপকের অনুপস্থিতিতে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব পাওয়া সিজেপি নেতা অজিঙ্ক্য শিন্ডে ঘোষণা করেন, ‘এখন থেকে প্রতিদিন যন্তর মন্তরে মিছিল হবে। জ্ঞানেশ কুমারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে অপসারণ না করা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে ছাত্র ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার (এসএফআই) সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য ‘স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে সর্ববৃহৎ সম্ভাব্য ঐক্য’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘রবিবার থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বে ছাত্রদের বিক্ষোভ। তারা সর্বত্র শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করবেন। পুলিশ যেখানে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেবে, সেই এলাকাই “যন্তর মন্তর” হয়ে উঠবে।’
কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ও সোমবার বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, ওই দিন জোটের নেতারা সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করে একটি স্মারকলিপি জমা দেবেন।
জোটটি শুক্রবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে চার দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি জমা দেয়। দাবিগুলো হলো—জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের আজীবন দায়মুক্তি দেওয়া ২০২৩ সালের আইন বাতিল; ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) অবিলম্বে স্থগিত এবং তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম পুনর্বহাল; সব নির্বাচনে কাগজের ব্যালট ফিরিয়ে আনা; এবং গত দুই বছরে অনুষ্ঠিত যেসব বিধানসভা নির্বাচনে ‘ভোট চুরির অকাট্য প্রমাণ’ হাজির করা হয়েছে, সেগুলো বাতিল।
বিক্ষোভের অনুমতি না থাকার কথা জানিয়ে শনিবার দিল্লিতে ১ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করে পুলিশ। যন্তর মন্তরে জমায়েতের জন্য সিজেপির দেওয়া ডাক ঠেকাতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানায় পুলিশ।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীও রয়েছেন। তারা হলেন আম আদমি পার্টির (এএপি) অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বামপন্থী নেতা পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকার।
সিজেপি নেতা আশুতোষ রানকা ও সৌরভ দাসের সঙ্গে দীপকেকেও আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, শেষকৃত্যে অংশ নিতে তাকে চলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে মুক্তি দেওয়া হবে কি না, তা স্পষ্ট ছিল না।
সূত্র: এনডিটিভি