দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র প্রতিহতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যাপারে সারা দেশের দলীয় নেতাদের কঠোরভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থেকে যারা তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে, তাদের চিহ্নিত করে প্রতিহত করার কথা বলা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দলের এক সাংগঠনিক বৈঠকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এমন নির্দেশনা দিয়েছেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। দলের ৮২টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি/আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক/সদস্য সচিব, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ১১টি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সভাপতি/আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক/সদস্য সচিবদের নিয়ে ভার্চুয়ালি এ বৈঠক করেছেন তিনি। সেখানে মাঠের সার্বিক অবস্থা নিয়ে নেতাদের বক্তব্য শোনেন দলের চেয়ারম্যান।
বৈঠকে দেশকে অস্থিতিশীল করার তৎপরতায় অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বা মহল ইন্ধন দিলে, তাদেরও চিহ্নিত করতে নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান। পাশাপাশি দলের কোনো নেতাকর্মী অপরাধ বা অনিয়মে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এ ছাড়া আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষায়ও নেতাদের দেওয়া হয়েছে নির্দেশনা।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ঘোষণাকে বিএনপি খুব একটা গুরুত্ব না দিলেও ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা আশঙ্কা করছেন, রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ দেশে একটি ‘অস্থিতিশীল’ পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মিছিল, ঝটিকা মিছিল এবং বিভিন্ন গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে এর উদাহরণ হিসেবে দেখছেন তারা। এ অবস্থায় ডিসেম্বর মাসকে সামনে রেখে দলটির সম্ভাব্য রাজনৈতিক অপতৎপরতা মোকাবিলায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সতর্ক ও সক্রিয় থাকার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি।
এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানের নির্দেশনা তুলে ধরে দলটির দুই জেলা সভাপতি বললেন, বিএনপি ও সরকার মনে করছে— পলাতক স্বৈরাচার ও তাদের এ দেশীয় দোসররা সামনে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করতে পারে। তাই আওয়ামী লীগের ব্যাপারে সজাগ ও সতর্ক থাকার পাশাপাশি পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত যারা এখনো প্রশাসনের ভেতরে থেকে সহযোগিতা করছে, তাদের শনাক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের তৎপরতায় অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বা মহল ইন্ধন দিলে তাদেরও চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা আইনশৃঙ্খলার অবনতি বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের প্রতিহত করে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে।
সাংগঠনিক বৈঠকে হিন্দুধর্মাবলম্বীরা যাতে তাদের আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য পূজামণ্ডপ কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে দলের তৃণমূল নেতাদের পাঁচ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান।
এদিকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারা দেশের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করতে কেন্দ্রীয়ভাবে ১২ সদস্যের একটি ‘পর্যবেক্ষণ কমিটি’ গঠন করেছে বিএনপি। কমিটিতে দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকনকে আহ্বায়ক এবং আরেক যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
জেলা নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক বৈঠকে তারেক রহমান বলেছেন, অপরাধ করলে কাউকে ছাড় নয়; তিনি যে-ই হোন না কেন।
জানা গেছে, সাংগঠনিক বৈঠকে আগামী ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে বড় পরিসরে পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান। আলোচনা সভা, সেমিনারের মতো নিয়মিত কর্মসূচির পাশাপাশি এবার সারা দেশের জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে র্যালির আয়োজন করা হবে।
বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল আগামীর সময়কে বলেছেন, পতিত স্বৈরাচার ও তাদের নেতাকর্মীরা দেশকে অস্থিতিশীল করতে শুরু থেকেই নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এ ছাড়া পতিত স্বৈরাচারী সরকারের দোসররাও প্রশাসনে ঘাপটি মেরে রয়েছে— তাদের সম্মিলিত চেষ্টায় দেশ ও সরকারবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার জন্য সারা দেশে আমাদের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।