বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের পুনর্মিলন বা ‘রেকনসিলিয়েশনের’ উদ্যোগ খারাপ কোনো ধারণা বলে মনে করেন না প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
তবে সেজন্য যে ‘অনুতাপ’ আর সদিচ্ছা থাকা দরকার, শেখ হাসিনার বক্তব্যে তেমন কিছু দেখছেন না তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, “তিনি (শেখ হাসিনা) সমানে হুমকি দিচ্ছেন সবাইকে দেখে নেবেন, পাল্টা এই করে ফেলো ওই করে ফেলো। নানান রকম হুমকি ক্রমাগত দিয়ে গেছেন। যদি তাই হয়ে থাকে, আসলে এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে রেকনসিলিয়েশনের আলাপটা আমাদের দিক থেকে অন্তত এন্টারটেইন করা কঠিন।”
মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষ সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ বিষয়ে কথা বলেন উপদেষ্টা।
চব্বিশের অভ্যুত্থান ঠেকাতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর বিগত অন্তর্বর্তী সরকার যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, বর্তমান বিএনপি সরকারও তা বহাল রেখেছে।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক জানতে চান, আওয়ামী লীগের সঙ্গে ‘রেকনসিলিয়েশনের’ বিষয়ে সরকারের ভাবনাটা কী?
জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, রেকনসিলিয়েশন যে দরকার ছিল, সে বিষয়ে তিনি দ্বিমত করেন না। আর ৫ অগাস্টের পর এ বিষয়ে নানা আলোচনা হয়েছে।
“দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই দেশের একটা সংখ্যার মানুষ, আমি আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী যারা পালিয়ে গেছে, আমি তাদের কথা বলছি না, যারা এই দেশে আছেন, এদের মধ্যেও একটা পার্সেন্টেজের মানুষ এখনো আওয়ামী লীগ সমর্থন করে। সুতরাং এই মানুষগুলোকে বা যারা আওয়ামী লীগ অ্যাক্টিভলি করেছেন তাদের সাথে একটা রেকনসিলিয়েশন খারাপ আইডিয়া না, ভালো আইডিয়া।
“এটা হলে ভালো হতো। কিন্তু প্রশ্নটা আমরা সবসময় যেটা করেছি, রেকনসিলিয়েশনের আদি শর্তটা কী? কোন ভিত্তির উপরে দাঁড়িয়ে রেকনসিলিয়েশন হয়? ফান্ডামেন্টালটা কী?”
এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ অ্যান্ড রেকনসিলিয়েশন কমিশনের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা।
“রেকনসিলিয়েশনের বেসিকটা হচ্ছে যে গ্রুপ, গোষ্ঠী, রাজনৈতিক দল, যেই হোক না কেন, সে যে অপরাধটা করেছে সে অপরাধের স্বীকৃতি থাকা, সেটা নিয়ে তাদের রিপেনটেন্স থাকা। অপরাধের স্বীকৃতি এবং রিপেনটেন্সের পরও রেকনসিলিয়েশনের প্রশ্ন আছে, কারণ অপরাধের স্বীকৃতি দিলেই আসলে ফৌজদারি অপরাধ তামাদি হয় না, ওইটার বিরুদ্ধে লিগ্যাল একশন হতে হয়।
“সুতরাং আমরা ওই আলাপ করছিলাম যদি ওই পরিস্থিতি হত, তাহলে আসলে রেকনসিলিয়েশনের আলাপ হতে পারত। সেটার জন্য কারা কারা করবেন কীভাবে করবেন সেটা হতে পারত।”
কিন্তু সেই বাস্তবতা দেখেননি জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, “আমরা খুব অবাক হয়ে ৫ তারিখের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেখছি সেই দলটা, সেই দলটার প্রধান নেত্রী, তিনি এখনো ব্লেম করছেন আমাদেরকে, আমাদেরকে হুমকি দিচ্ছেন।”
আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের মনোভাব যদি এরকমই হয়, তাহলে বিএনপি সরকারের পক্ষে রেকনসিলিয়েশনের আলোচনায় সাড়া দেওয়া ‘কঠিন’ বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, “তারা চাইছেন না, রেকনসিলিয়েশন তো তাদের চাইতে হবে। আমরা মাঝখান থেকে কেউ যদি চাই, কেউ যদি মাঝখান থেকে রেকনসিলিয়েশন চেয়ে থাকেন, তাদের যদি মনে হয় এটা ভালো, আমিও মনে করি ভালো, তাদের উচিত রাদার আওয়ামী লীগের সাথে যোগাযোগ করা, আওয়ামী লীগের সাথে কথা বলা, আওয়ামী লীগের টপের সাথে কথা বলে রেকনসিলিয়েশন শুরু হওয়ার মত একদম ফান্ডামেন্টাল যে জায়গাটা, সেটা যেন তারা নিশ্চিত করেন। সেটুকু হলে সেই আলাপ তো হতেই পারে।”