কয়েকজন সংসদ-সদস্যসহ কিছুসংখ্যক নেতাকর্মীর বিতর্কিত নানা মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খোদ নিজেদের মধ্যে এখন প্রশ্নের মুখে। ধর্মভিত্তিক কঠোর অনুশাসন ও শক্ত চেইন অব কমান্ড থাকায় দলের অভ্যন্তরীণ অস্বস্তি ও চাপা অসন্তোষ বাইরে প্রকাশ পাচ্ছে না। এছাড়া জামায়াতের ভোটার-সমর্থক না হলেও যারা দলটিকে আদর্শিক কারণে এতদিন দূর থেকে পছন্দ করতেন, সেসব সাধারণ মানুষের কাছেও দলটির রেটিং কমে যাচ্ছে। ফলে বিভিন্ন ইস্যুতে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াত সংসদ ও রাজপথে সরব থাকলেও কার্যত দলটিকে ঘরে-বাইরে নানারকম চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। যদিও দলটির নীতিনির্ধারক মহল এসব অভিযোগ মানতে নারাজ। বরং তারা পালটা যুক্তি দিতে বেশি তৎপর। অবশ্য বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তারা মনে করেন, কিছু সংসদ-সদস্য ও নেতাকর্মীর ভুলের জন্য পুরো দলকে দায়ী করা সমীচীন হবে না। জামায়াত বরং দলের অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানের প্রতিবাদের বিষয়টিকে সবাই সমর্থন করেছেন। যদিও প্রতিবাদের ভাষা ও অ্যাটিচিউটকে তারা সমর্থন করেন না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬৮টি আসনে বিজয় লাভ এবং এর প্রাপ্যতা অনুযায়ী ৯টি সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী এখন বিরোধী দল হিসাবে শক্ত ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে। তবে দলটির কতিপয় জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে উত্থাপিত নানা অভিযোগ কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে একজন সংসদ-সদস্যের নারীঘটিত বিষয় নিয়ে দলটি বেশি বিপাকে পড়েছে। যদিও তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া সরকারি অনুদান ও ত্রাণ বণ্টন থেকে শুরু করে স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ দলটির প্রতিশ্রুত আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আমির হামজার বিতর্কিত যত ঘটনা : বিশিষ্ট ইসলামি বক্তা ও সংসদ-সদস্য মুফতি আমির হামজার কিছু বিতর্কিত ও সমালোচিত মন্তব্য এবং ঘটনা রয়েছে, যা জামায়াতের তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। চলতি বছরের মার্চের শেষদিকে কুষ্টিয়া সদরের একটি মসজিদে জুমার আগে দেওয়া বক্তব্যে নারী সংসদ-সদস্যদের নিয়ে আপত্তিকর ও বডি শেমিং মন্তব্য করায় আমির হামজার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দেয়। এই মন্তব্যের জেরে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করা হয়। প্রায় একই সময়ে কুষ্টিয়ায় দেওয়া এক বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে ‘নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই মন্তব্যের জন্য সিরাজগঞ্জে তার বিরুদ্ধেও মানহানির মামলা ও সমন জারি করা হয়।
এর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সম্পর্কে একটি ওয়াজে অসত্য ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করার অভিযোগ ওঠে। তিনি দাবি করেছিলেন, তিনি জাবির সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং সেখানে হলে শিক্ষার্থীরা মদ্যপান ও শিক্ষকদের মারধর করত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে তাকে লিগ্যাল বা উকিল নোটিশ পাঠায়।
সংসদ-সদস্য নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী-কাণ্ড : সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি বিতর্কের অবতারণা হয়। ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে অল্পবয়সি এক মেয়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হয় ২১ জুলাই। পরে তিনি ওই তরুণীর নাম মরিয়ম উল্লেখ করে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন। তার প্রথম স্ত্রীও মিডিয়ার সামনে দাবি করেন যে, উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়েছে। মরিয়মও নিজেকে সংসদ-সদস্যের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ তদন্তে সংসদ-সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নৈতিকস্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে জামায়াত তার সদস্যপদ বাতিল করার জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি দেয়। যদিও তার সদস্যপদ এখনো বাতিল হয়নি। পরে ২০ সেপ্টেম্বর বিকালে মরিয়ম বেগমের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায় তারই ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে। এ মামলায় বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।
সংসদ-সদস্যের মেয়ের নামে অনুদান বরাদ্দ : নড়াইল-২ আসনের সংসদ-সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদানপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তালিকায় নিজের মেয়ের নামে দুই দফা ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বরাদ্দের ক্ষেত্রে নিজ ইউনিয়ন ও শ্বশুরবাড়ি এলাকার মানুষের আধিক্য নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়। তবে এ বিষয়ে সংসদ-সদস্য দাবি করেন, তার প্যাডে দেওয়া অগ্রিম স্বাক্ষর ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সহকারী তালিকা তৈরি করেছিলেন। এ কারণে তিনি ব্যক্তিগত সহকারীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
টিআর, কাবিখা প্রকল্পে আত্মীয়স্বজন সভাপতি : রংপুরের পীরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ-সদস্য মো. নুরুল আমীনের বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা প্রকল্পে আত্মীয়স্বজনকে সভাপতি করার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া খুলনা-৬ আসনের সংসদ-সদস্য আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধেও প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ বিতরণে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে।
এদিকে এসব অভিযোগ প্রকাশের পরপরই বিষয়গুলো সিরিয়াসলি নেয় জামায়াতের হাইকমান্ড। পরে সংসদ-সদস্যের কাছে লিখিত নির্দেশনা পাঠায় জামায়াতে ইসলামী। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের স্বাক্ষরে পাঠানো ওই নির্দেশনায় সরকারি অনুদান, ত্রাণ কিংবা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, শ্বশুরবাড়ির লোকজন, ব্যক্তিগত সহকারী ও ব্যক্তিগত সচিব কিংবা তাদের স্বজনদের জন্য কোনো ধরনের সুপারিশ বা বরাদ্দ না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাবাকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বলা সেই বক্তব্য : সংসদে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ-সদস্য আব্দুল মুনতাকিমও। বাজেট বক্তৃতায় বাবাকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ উল্লেখ করার পর তার নির্বাচনি হলফনামায় মা-বাবা দুজনই জীবিত থাকার তথ্য সামনে আসে। পরে তিনি বক্তব্যটি ভুল বা অসাবধানতাবশত হয়েছে বলে দুঃখপ্রকাশ করেন।
কথিত ‘আরমান এমপি’ : চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ-সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী মো. আরমান উদ্দিনকে ঘিরেও এলাকায় ক্ষমতার প্রভাব বিস্তারসহ নানা অভিযোগ আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়ভাবে তাকে ‘আরমান এমপি’ ডাকার বিষয়টিও আলোচিত হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ-সদস্য মিজানুর রহমান সংসদ-সদস্যদের সরকারি বাসভবনের জন্য ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও পর্দার দাবি তুলে সমালোচনার মুখে পড়েন।
উপকারভোগীর বদলে নাতনিকে বাইসাইকেল : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের একটি বাইসাইকেল প্রকৃত উপকারভোগীর বদলে নিজের নাতনিকে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে বাইসাইকেলটি ফেরত দিয়ে প্রকৃত উপকারভোগীকে দেওয়া হয় এবং তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। মুন্সীগঞ্জে নৈতিকস্খলন ও দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দুই রুকনের সদস্যপদ বাতিল এবং রাজধানীর ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চার নেতাকর্মীকে বহিষ্কারও করে দলটি।
সার কেলেঙ্কারি : সার মজুতের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানার পর সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ জামায়াতের নায়েবে আমির (২) মো. মনিরুল ইসলামের রুকুনিয়াত (সদস্যপদ) বাতিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জানা যায়, গত সপ্তাহে রাতে উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছোট ধোপাকান্দি এলাকায় মনিরুল ইসলামের বাড়ি থেকে ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কামারখন্দ উপজেলা জামায়াতের আমির ইউসুফ আলী গণমাধ্যমকে বলেন, দলীয় আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে মনিরুল ইসলামের রুকুনিয়াত বাতিল করা হয়েছে।
উত্তাপ ছড়ানো আক্তারুজ্জামান : সর্বশেষ ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মেজর আক্তারুজ্জামানের যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদের নামে কর্মকর্তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ নিয়ে হয়েছে তুলকালাম। তার বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার, রিমান্ড এবং শেষ পর্যন্ত কারাগারে প্রেরণ এমনকি আদালত চত্বরেও তার অশোভন আচরণ নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন করছেন, তার মতো একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে দলে নেওয়া কি জামায়াতের খুব প্রয়োজন ছিল। জামায়াত অবশ্য শক্তভাবে তার পাশে অবস্থান নিয়েছে। প্রতিবাদ বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি চলছে এই ইস্যুতে। এটা রাজনীতিতে সর্বশেষ উত্তাপ সৃষ্টি করেছে।
এসব নানা ঘটনা জামায়াত এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের মতে জামায়াতের কাছ থেকে মানুষ এসব আশা করে না।
জামায়াতের সাংগঠনিক অ্যাকশন : সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। গাজী নজরুল নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টের ভিডিওতে থাকা নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন বলে দাবি করেন। তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই গত ১৭ জুন মরিয়মকে বিয়ে করেন। তবে বিষয়টি সেখানেই থেমে থাকেনি। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে রীতিমতো তুলকালাম শুরু হয়। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাংগঠনিক তদন্তে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে নৈতিকস্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করে জামায়াত।
যা বললেন মিয়া গোলাম পরওয়ার : জামায়াতে ইসলামীর হাইকমান্ড অবশ্য বিষয়গুলো এড়িয়ে না গিয়ে ভিন্নভাবে মূল্যায়নের চেষ্টা করেছেন। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার যুগান্তরকে বলেন, জামায়াতের প্রতি মানুষের ভালোবাসা তৈরি হয়েছে নৈতিকতা, আদর্শ আর দলীয় শৃঙ্খলা দিয়ে। সেক্ষেত্রে কিছু কিছু ঘটনা তাদের আহত করলেও শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার প্রশ্নে জামায়াত যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তা দলকে আরও মজবুত করেছে। এ প্রশ্নে জামায়াত আপসহীন। মানুষের সংগঠনে মানুষ হিসাবে কিছু ভুলত্রুটি হতেই পারে। তবে এর বিরুদ্ধে জামায়াতের শক্ত পদক্ষেপ আগেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।
অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম যুগান্তরকে বলেন, দলের কেউ কোনো অন্যায় বা অনৈতিক কাজে জড়িত হলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিই। কয়েকজন সংসদ-সদস্যের স্বজনপ্রীতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আমরা অ্যাকশন নিয়েছি। কেন্দ্র থেকে সার্কুলার দিয়ে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। একজন নির্বাচিত সংসদ-সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার সদস্যপদ বাতিলেরও ব্যবস্থা নিতে স্পিকার এবং নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এত কুইক অ্যাকশন কোনো দলে আছে আমার জানা নেই। যারা এসব নিয়ে জামায়াতের মধ্যে অস্বস্তি আছে বলতে চান তারা জামায়াতকে বেশি ভালোবাসেন।
দিলারা চৌধুরীর সাফ কথা : বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর দিলারা চৌধুরী বলেন, দুর্নীতি এবং নীতি-নৈতিকতার দিক থেকে জামায়াত সম্পর্কে মানুষের এখনো উচ্চ ধারণা আছে। দলের একজন সংসদ সদস্যের নৈতিক স্খলনের অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর বাইরেও কিছু ঘটনা জামায়াতকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলেছে ঠিক। তবে সমালোচকরা যেভাবেই দেখুক জামায়াতের অ্যাকশন প্রশংসনীয়।
এক প্রশ্নের জবাবে মেজর আক্তারুজ্জামানের ঘটনাকে ইতিবাচক উল্লেখ করে দিলারা চৌধুরী বলেন, বিমানে আসা যাত্রীদের হয়রানি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও ভোগান্তির বিষয়টি সবার জানা। আক্তারুজ্জামান তো এটারই প্রতিবাদ করেছেন। আবার তাকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এটা অন্যায়। বরং গ্রেফতার করা উচিত ছিল ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলদের। আক্তারুজ্জামানের এই প্রতিবাদের সঙ্গে প্রবাসীরাসহ গোটা জাতি একাত্ম। জামায়াত তার পক্ষ নিয়ে কোনো অন্যায় করেছে বলে তিনি মনে করেন না।
বদিউল আলম মজুমদারের মন্তব্য : সুশাসনের জন্য জন্য নাগরিক সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, জামায়াত যে ধরনের নীতি-নৈতিকতার কথা বলে তার সঙ্গে সংঘটিত কিছু ঘটনা মানায় না। এজন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সামান্য হলেও তাদের ইমেজ ক্ষুণ্ন হয়েছে। ইভেন তাদের তৃণমূলের কর্মীরাও অসন্তুষ্ট হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তবে তারা দ্রুত অ্যাকশন নিয়েছে। এটিও ঠিক। ফলে দলটি তাদের অবস্থান জনগণের কাছে পরিষ্কার করেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লংমার্চের মতো বড় কর্মসূচিতে এত তাড়াতাড়ি যাওয়ার কারণে অনেকেই বিরোধী দলের সমালোচনা করছে। তবে বিএনপি যে সংবিধান লঙ্ঘন করছে তার প্রতিকার কি? গণভোট হয়েছে। এটাই ফাইনাল। কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন হবে না, এটা তো একটা অবাস্তব ঘটনা এবং ক্ষমতার এক অলীক অপব্যবহার। আমাদের সঙ্গে তারা দিনের পর দিন বৈঠক করে গণভোটের বিষয়বস্তু তারাই ঠিক করলেন। জনগণ রায় দিল, সে রায় বাস্তবায়ন হবে না। এটার বিষয়ে তো সুরাহা হতেই হবে। এখন তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে নিজেদের মতো সংবিধান সংশোধন করবে। এই দৃষ্টিতে লংমার্চ ঠিকই আছে।
মানুষ এসব আশা করে না
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আব্দুল লতিফ মাসুম যুগান্তরকে বলেন, অনৈতিক কাজ একজন মানুষ ভুলবশত করতেই পারে। যদিও জামায়াতের কাছ থেকে মানুষ সেটা মোটেই আশা করে না। তবে তাদের কুইক অ্যাকশন বিবেচনায় নিতে হবে। আক্তারুজ্জামানের জামায়াতে যোগদান নেতিবাচক কিছু নয়। এয়ারপোর্টে যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদ সঠিকভাবেই সে করেছে। তবে তার ভাষা ও এটিচিউড নিয়ে কথা থাকতে পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লংমার্চের মতো চূড়ান্ত কর্মসূচি জামায়াত আগে ভাগেই নিয়ে ফেলেছে; এটা অনেকেই ভালোভাবে নেয়নি। তবে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপিও ঠিক কাজ করেনি। এটা জুলাই শহীদদের প্রতি অবিচার। এই অর্থে জামায়াতের প্রতিবাদ, সঙ্গে জনভোগান্তি নিয়ে সংসদের ভেতরে এবং বাইরে দলটির কর্মসূচি নিয়ে জনমত এখন পর্যন্ত তাদের পক্ষেই আছে।