জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুর ও রাশেদ খানসহ বিএনপির রাজনৈতিক মিত্রদের অবস্থান ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে দলটির নেতৃত্বকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
শনিবার (০৩ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বিএনপিকে নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ও আদর্শের প্রশ্নে পরিষ্কার থাকতে হবে। একই সঙ্গে দলটির সঙ্গে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির অবস্থান ও উদ্দেশ্য নিয়েও বিএনপির নেতৃত্বের স্পষ্ট বক্তব্য থাকা প্রয়োজন।
পোস্টে জোনায়েদ সাকির একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘একদিন সাকি বলেছিলেন, তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে ঢুকে দলের ‘মস্তিষ্ক’ বদলে দেবেন এবং তার কাছে সেটিই হবে বড় বিপ্লব। সাকির ওই বক্তব্যের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে তিনি ‘অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বামপন্থী রাজনীতির একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে বড় দলগুলোর ভেতরে প্রবেশ করে তাদের আদর্শিক অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করেছে। আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে বাম রাজনীতির বিভিন্ন ধারা প্রবেশ করেছিল উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিএনপির ক্ষেত্রেও একই ধরনের কোনো রাজনৈতিক প্রকল্প চলছে কি না।
এ ধরনের কোনো প্রকল্প থাকলে বিএনপির নেতৃত্বের উচিত তা জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতাকে স্বীকার করে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করা।’ একই সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু নাগরিকদের অধিকারও সাংবিধানিক কাঠামোর অংশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ধর্মীয় পরিচয় ও দেশপ্রেমকে রাজনীতির বাইরে ঠেলে দেওয়ার যেকোনো প্রকল্পের বিরোধিতা করেন তিনি।
পোস্টের শেষ দিকে বিএনপির প্রতি নিজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘বিএনপি যেন নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ও আদর্শের প্রশ্নে পরিষ্কার থাকে এবং জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুর, রাশেদ খানসহ যেকোনো মিত্রের রাজনৈতিক অবস্থান ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে। কারণ বাংলাদেশের রাজনীতি শুধু ক্ষমতার হিসাব নয়। এটি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ, জাতীয় পরিচয় এবং মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার সঙ্গেও জড়িত।’