পটুয়াখালীর গলাচিপায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি নেত্রী রেনু আক্তার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় উপস্থিত থাকায় প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
গলাচিপা উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক। সভায় থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তাফা, গণঅধিকার পরিষদ ও যুব-ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তাদের সঙ্গে রেনু আক্তারকেও সভায় দেখা যায়।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রেনু আক্তারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন গলাচিপা থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ।
রেনু আক্তার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরবিশ্বাস গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং চরবিশ্বাস ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক।পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে চেক প্রতারণার অভিযোগে রাজধানীর গুলশান থানায় রেনু আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা হয়। চলতি বছরের ৪ মে ঢাকা মহানগর যুগ্ম দায়রা জজ আদালত মামলাটির রায় দেন। রায়ে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে ৬ মে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
পরোয়ানাটি পটুয়াখালীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর আইনগত ব্যবস্থা নিতে গত ১৬ আগস্ট গলাচিপা থানায় পাঠানো হয়।
তবে নিজের বিরুদ্ধে সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন রেনু আক্তার। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই। আগের সরকারের সময়ে চট্টগ্রামে তার বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক মামলা হয়েছিল এবং গত আগস্টে তিনি ওই মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়েছেন।
গলাচিপা থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, পরোয়ানায় আসামির বিস্তারিত পরিচয় উল্লেখ না থাকায় এবং কোনো মহল থেকে তার পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নজরে আসার পর রেনু আক্তারকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ইউএনও আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, রেনু আক্তার ওই কমিটির সদস্য নন। তিনি দলীয় নেতাদের সঙ্গে সভায় অংশ নিয়েছেন। তিনি সাজাপ্রাপ্ত কি না, সেটি পুলিশের বিষয়।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তাফা বলেন, রেনু আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। বিষয়টি জানার পর তাকে দ্রুত আইনি বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শীর্ষনিউজ