দলীয় দাবি নিয়ে নয়, ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘আমাদের এই লংমার্চ জনগণের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেয়ার দাবিতে, শিল্প প্রতিষ্ঠানের চাকা ঘুরানোর দাবিতে ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে। পানির অভাবে হাহাকার করা মানুষের দু:খ দূর করতে ও সর্বত্র চাঁদাবাজি বন্ধ করতে রাস্তায় নেমেছি আমরা।’
‘এই লংমার্চ দুর্নীতিতে ছেয়ে যাওয়া দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবিতে, আধিপাত্যবাদের বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছে তা থেকে উত্তোরণ চাই আমরা,’ বললেন শফিকুর।
আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভোগড়া বাইপাসের টাঙ্গাইল রোডে লংমার্চের পথসভার বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন তিনি।
‘গণভোট হ্যাঁ বলেছিল ৭০ভাগ মানুষ। সরকার আপনাদের গণভোটকে অগ্রাহ্য করে অপমানিত করেছে। সেই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমরা পথে নেমেছি। জণগণের রায়ের বাস্তবায়ন এই বাংলার মাটিতে হবে, এই বিএনপিই করতে বাধ্য হবে। বিএনপি পানি খাবে, কিন্তু ঘোলা করে খাবে,’ যোগ করলেন জামায়াতের আমির।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার পথ সভায় বলেছেন, ‘সরকার জনদুর্ভোগ দূর করতে ব্যর্থ হয়েছে। লংমার্চের মাধ্যমে কোটি মানুষের কাছে আমরা সেই বিশ্বাস ঘাতকতার কথা, ব্যর্থতার কথা পৌঁছে দিতে চাই।’
তিস্তা পাড়ের মানুষের মুক্তির জন্য তিস্তা মহাপ্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের দ্বিধাদ্বন্দের নিন্দা জানান তিনি।
লিভারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব:) বীর বিক্রম অলি আহমেদ মন্তব্য করেন, সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের কোন অভিযোগ নেই। আমরা সরকারের বিরুদ্ধেও না, কোন দেশের বিরুদ্ধেও না। আমরা বাংলাদেশের মানুষের সমস্যার সমাধান চাই। আমরা সুশাসন চাই, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাস মুক্ত দেশ চাই। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই। দেশে দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি, ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে।
গাজীপুর মহানগর জামায়াতের সভাপতি অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জেলা জামায়াত আমির ডক্টর জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির খায়রুল হাসান, মোঃ হোসেন আলী, জামায়াত নেতা সাবেক সচিব শাহ আলম বকসী, ডক্টর হাফিজুর রহমান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সফিউদ্দিন, জামায়াত নেতা অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান খান, আজহারুল হক মোল্লা, এনসিপি নেতা এডভোকেট আবু নাসের খান প্রমুখ।
শনিবার সকাল থেকেই ভোগড়া বাইপাস এলাকায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে সভাস্থল লোকেলোকারণ্য হয়ে যায়।
সকাল ১০টার দিকে টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন লংমার্চে অংশগ্রহণকারীরা।
সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের উদ্বোধন করেন করেন শফিকুর।