Image description

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দলের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে দুই যুবককে মহড়া দিতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারীদের সঙ্গে দলের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি দেখা যায়। একটি ভিডিওতে পাঞ্জাবি ও জিনসের প্যান্ট পরা এক যুবক অস্ত্র হাতে নিয়ে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করছেন। অন্য একটি ভিডিওতে আরেক যুবককে অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষের দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায়।

বিএনপির দুই নেতা আসলাম চৌধুরী ও কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন সংঘর্ষের জন্য পরস্পরকে দায়ী করেছেন। দুই জনই দাবি করেছেন, প্রতিপক্ষ বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসেছে।

সীতাকুণ্ডে সংঘর্ষের সময় অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. রাসেল বলেন, ‘অস্ত্রধারী একজনকে আমরা শনাক্ত করেছি। এখনই নাম–পরিচয় বলছি না। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। অস্ত্রধারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

পুলিশ ও বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় সীতাকুণ্ড পৌর সদরের মুন স্টার ক্লাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারীরা। একই ক্লাবে একই সময়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নেন আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরাও। এ নিয়ে গত দুই দিন দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই পক্ষকে পৃথক সময়ে অনুষ্ঠান করার সময় বেঁধে দেয়। কাজী সালাউদ্দিনের পক্ষকে দুপুর ২টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার সময় দেওয়া হয়। তবে সকাল ৯টা থেকেই মুন স্টার ক্লাব এলাকায় অবস্থান নেন আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা। এ সময় কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা ক্লাব থেকে কিছুটা দূরে হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় অবস্থান নেন।

দুপুর ১টার দিকে আসলাম চৌধুরীর পক্ষের লোকজন মিছিল নিয়ে হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় পৌঁছালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনটি মিনিবাস ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনার জন্য সালাউদ্দিনের অনুসারীরা আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের দায়ী করেন। তবে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।

ককটেল বিস্ফোরণ ও হামলার প্রতিবাদে কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা বাঁশবাড়িয়া এলাকায় মহাসড়কের দুই লেন আটকে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সীতাকুণ্ডের দিকে যান।

বিএনপি নেতা কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, তারা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের জন্য কয়েক দিন আগে উপজেলা প্রশাসন ও থানা-পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নেন। সে অনুযায়ী তাদের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু গতকাল সকাল থেকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা ককটেল ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থল মুন স্টার ক্লাবে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে মিছিল করেন। এতে মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যায়।

তবে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে আসলাম চৌধুরীর প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট মোহাম্মদ মোরসালিন জানান, তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি মুন স্টার ক্লাবে হওয়ার কথা ছিল। সেখানে পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় তারা এল কে সিদ্দিকী স্কয়ারে কর্মসূচি শুরু করেন। তাদের নেতাকর্মীরা কোথাও কোনও ধরনের ককটেল বিস্ফোরণ কিংবা হামলা করেননি। উল্টো সালাউদ্দিনের অনুসারীরা বিভিন্ন স্থানে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছেন।

সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর বলেন, কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারীরা মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। পুলিশ গিয়ে নেতাকর্মীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক সচল করে। এতে যানবাহন চলাচল প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ ছিল।