‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের রূপায়ণ সিটির পাশে খিদির খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আজ ৩০ আগস্ট ২০২৬, রোববার সকাল সাড়ে ৭টায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও ডিএনসিসিতে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
কর্মসূচিতে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির আওতায় ঢাকা মহানগরীর ৫৪টি ওয়ার্ডে দায়িত্বশীলদের নেতৃত্বে শত শত ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা জানি না, সিটি করপোরেশনের সবকিছু থাকার পরও কেন ময়লাগুলো সরানো যায় না। আমরা চাই, এই সপ্তাহের মধ্যেই ঢাকায় জনগণ নির্মল বাতাস পাক। আমরা কাউকে দেখানোর জন্য এসব কাজ করছি না; জনগণের সমস্যা সমাধানের দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা এ কাজ করছি।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে উত্তরা খালপাড়ে খাল পরিষ্কারের কাজে ক্ষমতাসীন দলের একজন নেতা আমাকে বলেছেন, এটা আমরা পরিষ্কার করব, আপনারা কেন করতে আসছেন? আমি তাকে বলেছি, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করতে এসেছি। কিন্তু তিনি এতে রাজি হননি।”
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘দেশ কোনো একক দলের নয়, দেশ সবার। ভালো কাজ করতে বাধা কেন থাকবে? আমরা তাকে বলেছি, দলাদলি করবেন না। প্রধানমন্ত্রীও বলেননি যে বাংলাদেশ আমাদের একার; তিনি বলেছেন, সবার আগে বাংলাদেশ। এটি আমাদের সবার দেশ।’
তিনি সিটি করপোরেশন প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘এক সপ্তাহে আমরা ঢাকা শহরকে যে ক্লিন কর্মসূচির আওতায় নিয়ে এসেছি, তা যেন আর নিচে না নামে। আমাদের যদি আবারও ঝাড়ু হাতে রাস্তায় নামতে হয়, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দায়িত্ব অবহেলার কড়ায়-গণ্ডায় জবাব দিতে হবে।’
নগর প্রশাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেহেতু নগর প্রশাসন নির্বাচিত নয়, সেহেতু জনগণের সমস্যা ও দুর্ভোগ তারা সেভাবে বুঝতে পারবে—এমনটা আশা করা কঠিন।’
তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘গ্রামে আগে নির্বাচন না দিয়ে সিটিতে নির্বাচন দিন। নিজেদের লোক বসিয়ে লুটপাটের চেষ্টা করা হলে আমরা তা মেনে নেব না। আমরা অনতিবিলম্বে সিটি নির্বাচন চাই।’
একই সঙ্গে তিনি দেশের সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে মিলে জনগণের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি।’
তিনি জনগণের গণরায় ও গণভোট দ্রুত বাস্তবায়নেরও দাবি জানান।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি ‘স্মার্ট বিন’ স্থাপন করা হয়েছে জানিয়ে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘এই স্মার্ট বিনে তিন ধরনের ময়লা আলাদাভাবে ফেলা যাবে। সংগৃহীত ময়লা পুনর্ব্যবহার করে আমরা কলম তৈরি করব এবং আগামী স্বাক্ষরতা দিবসে সেগুলো স্কুলে স্কুলে বিতরণ করব।’
তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা বহু নেতৃত্ব দেখেছি। এবার যারা জনগণের সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন এবং জনগণকে সহযোগিতা করবেন, তাদের নতুন নেতৃত্ব হিসেবে সামনে নিয়ে আসুন।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, উত্তরা পশ্চিম সহকারী অঞ্চল পরিচালক মাহবুবুর রহমান, উত্তরা মডেল থানার আমির অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম খলিল, তুরাগ দক্ষিণ আমিন ও ৫২ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার প্রার্থী মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, তুরাগ মধ্য আমির গাজী মনির হোসাইন, নায়েবে আমির কামরুল হাসান, ফিরোজ আলম, ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মাওলানা মাহফুজুর রহমান, ৫১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী অধ্যক্ষ সালাউদ্দিন এবং ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী সুরুজ্জামান।