Image description

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার হাটপুকুরিয়া ইউনিয়নে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এক সমন্বয়কের ওপর যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন। হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘটিত সংঘর্ষ ও পাল্টা হামলায় উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১১ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (৯ আগস্ট) বিকালে ও রাত ১০টায় হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকালে হাটপুকুরিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন ও তার ভাই ‘সোহাগ ডাকাত’-এর নেতৃত্বে রনি, ফাহাদসহ ৭-৮ জনের একটি সন্ত্রাসী দল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চাটখিল উপজেলার সাবেক সমন্বয়ক সামির হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় অভিযুক্ত সোহাগ ও যুবলীগ নেতা শাহাবুদ্দিনের আরেক ভাই, যিনি স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি, হারুনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

খবর পেয়ে ছেলেকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে হাটপুকুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান শাহিন (শাহিন মাস্টার) এবং ছাত্রদল নেতা শরিফুর রহমান আপনও হামলার শিকার হন।

প্রথম দফার হামলার পর ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে আসেন। রাত ১০টায় চাটখিল থানার পার্শ্ববর্তী মহাসড়কে সোহাগের নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফায় চাটখিল পৌরসভা জামায়াত-শিবির নেতাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে রবিউল, সুজন ও শাহীন নামে আরও তিন জন গুরুতর আহত হন।

দফায় দফায় হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে একজোট হন এবং তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাদের পাল্টা হামলায় অভিযুক্ত ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন ও তার ভাই সোহাগ ডাকাতসহ পাঁচ জন আহত হন। দুই দফার সংঘর্ষে আহত ১১ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

চাটখিল থানার ওসি আব্দুল মোন্নাফ জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষ থেকেই লিখিত পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।