Image description

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হচ্ছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।

রোববার (৯ আগস্ট) বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এর আগে আলোচনা হয়েছিল, যাতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা যায়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরিতে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কীভাবে বাড়ানো যায়, এসব বিষয় নিয়েও সংসদে প্রস্তাব এসেছিল।’

‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল নির্বাচন শেষে নতুনভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধান অনুসারে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হবে, এমনটাই আমরা আশা করেছিলাম,’ যোগ করেন তিনি।

 

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার সংস্কার প্রক্রিয়া যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করেনি। যারা জুলাই-পরবর্তী সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়েছেন তাদের নিয়ে কার্যকরভাবে অধিবেশনও ডাকেনি সরকার। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকেও দলীয়করণ করা হচ্ছে। অথচ গত ১৬ বছর বিএনপির যে আন্দোলন ছিল তার অন্যতম দাবি ছিল, শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করা।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আমরা প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই বলেছিলাম, ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে জুলাই সনদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দিতে হবে। কিন্তু সেই রাষ্ট্রপতিকে আরও ছয় মাস রেখে দেওয়া হয়েছে।’

রাষ্ট্রপতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘তাকে এখন কোনো ধরনের প্রি-এক্সিট (আগাম অব্যাহতি) দেওয়া হয়েছে কি না, বিচার বা জবাবদিহির আওতায় আনা হবে কি না, এ নিয়েও আমাদের সন্দেহ রয়েছে। এ ছয় মাস সময় বাড়ানোর পেছনে কী ধরনের পরিকল্পনা বা পাঁয়তারা রয়েছে, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি, পরবর্তী পাঁচ বছর যে সময় অতিক্রম হবে সেই সময়ে এই (নতুন) রাষ্ট্রপতি থাকবেন। তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কী হবে, রাষ্ট্রপতি নিজে কী ভূমিকা পালন করবেন- এসব বিষয় জাতির সামনে একটি বড় প্রশ্ন তৈরি করছে।’

অতীতের রাজনৈতিক সংকটের প্রসঙ্গ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতা নিজেদের হাতে ধরে রাখার চেষ্টা দেখা গেছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে ১১ দলের বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে। ১১ দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আমরা অংশ নেবো। ১১ দলের পক্ষ থেকে একজন প্রার্থী দেওয়া হবে। সংসদে ও সংসদের বাইরে আমাদের ১১ দলের নেতারা রয়েছেন। তাই আমাদের পক্ষ থেকে একজন দলীয় প্রধান রাষ্ট্রপতি প্রার্থী থাকবেন।’

নাহিদ ইসলাম জানান, ১১ দলের জোটের শরিক দল এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘অলি আহমদ বাংলাদেশের একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। তিনি রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একাধিকবার জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। আমরা মনে করি, দেশের বর্তমান সংকটের সময়ে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে পারবেন। তার নেতৃত্বে সরকারও সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারে বলে আমরা মনে করি।’

বিএনপির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি এখন পর্যন্ত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেনি। ফলে সর্বসম্মতভাবে একজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের যে সুযোগ ছিল তা নষ্ট হয়েছে। বিএনপির একদলীয় এবং সংস্কারবিরোধী অবস্থানের কারণে দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১১ দলের এ সিদ্ধান্তকে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন বলেও জানান নাহিদ ইসলাম।