বরিশালের গৌরনদীতে এক নারীকে শ্লীলতাহানি করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে যুবদলের এক কর্মীর বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, ঘটনাটি গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিল্বগ্রাম এলাকার। ভিডিও ধারনের অভিযোগ ব্যক্তির নাম মো. শাহিন মৃধা। তিনি মাহিলাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় কর্মী। তবে ভিডিওটি কতদিন আগের বা কোথায় বসে ধারণ করা হয়েছে তা যাচাই করা যায়নি।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত একমাস পূর্বে যুবদল কর্মী শাহীন ও তার সহযোগীরা বিল্বগ্রাম এলাকার একটি বসতঘরের মধ্যে ওই নারীকে এক ছেলের সঙ্গে আটক করেন। পরে ওই নারীকে যৌন হেনস্তার পাশাপাশি ভিডিও ধারণ করা হয়। সেই ঘটনাকে বা কারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, শ্লীলতাহানির পর এক নারী নিজের ওড়না দিয়ে লজ্জা নিবারণের জন্য চেষ্টা করছেন। আর যুবদলের ওই কর্মী এক হাতে মোবাইল নিয়ে ভিডিও ধারণ এবং অন্য হাতে ওই নারীর শরীরের ওড়না সরিয়ে দিচ্ছেন। ভিডিওতে ওই নারীকে যৌন হেনস্তা করার দৃশ্যও দেখা যায়।
তবে নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদলকর্মী শাহীন মৃধা মুঠোফোনে বলেন, ঘটনাটি প্রায় দেড় দুই মাস আগে বিল্বগ্রামে মনির হাওলাদারের বসতঘরে।
তিনি বলেন, মনির হাওলাদারের স্ত্রী বিদেশে থাকে। সেই সুযোগে ঘটনার দিন রাত ১১টার দিকে ওই নারীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ চলাচ্ছিল। আমাকে খবর দিলে আমি রাত সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে যাই।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম। তবে ভিডিও আমি করিনি। একই গ্রামের বেশ কয়েকজন মিলে ভিডিও করেছে। তাদের মধ্যে থেকে কেউ ভিডিও ছড়িয়ে দিতে পারে। আমি মোবাইলের লাইট জ্বেলে রেখেছিলাম, ভিডিও করিনি।
তিনি বলেন, তাদেরকে পুলিশে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু অভিযুক্তরা নিজেদের দোষ স্বীকার করেছে বিধায় রাতেই ছেড়ে দিয়েছি। এখন সেই ভিডিও দিয়ে আমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে শাহিনের দাবি মতে অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা যায়নি।
উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মনির হোসেন আকন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি খোঁজ-খবর নেবো এবং কোন প্রেক্ষাপটে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে তা জেনে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, এ ঘটনায় কোনো প্রকার লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।