Image description

হবিগঞ্জের পর এবার সিলেটের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। ওই গাড়িতে দলটির শীর্ষ কয়েকজন নেতা ছিলেন বলে জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু।  

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা পৌনে ৩টার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ গেট সংলগ্ন নূর ম্যানশনের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এতে তাৎক্ষণিকভাবে কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, দুই দিনের নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম সিলেটে পৌঁছান। নগরের প্রবেশপথ পারাইরচক এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

অভ্যর্থনা শেষে এনসিপির দুটি আলাদা দল দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে কর্মসূচির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে একটি দল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উদ্দেশে যাত্রা করে। অন্যদিকে সারজিস আলমের নেতৃত্বে অপর দলটি গোলাপগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে স্থানীয় শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন সারজিস আলমসহ এনসিপি নেতারা। সভা শেষে দুপুর পৌনে ৩টার দিকে দুপুরের খাবারের জন্য অডিটোরিয়াম থেকে বের হয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলা গেটের নূর ম্যানশনের সামনে পৌঁছালে সারজিস আলমের গাড়ি লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

পরবর্তীতে এনসিপি নেতা-কর্মীরা গোলাপগঞ্জ থেকে সিলেট শহরের দিকে রওয়ানা দিলে পথিমধ্যে হেতিমগঞ্জ বাজারেও তাদের গাড়িতে হামলার চেষ্টা করা হয়।

পর পর দুটি ঘটনার পর গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বর ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পুলিশ, এপিবিএন সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছবেদ আলী গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটে, যার পেছনে ছাত্রদল জড়িত বলে দাবি করে এনসিপি। ওই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার হবিগঞ্জে বিক্ষোভের চেষ্টা করা হলেও শ্রীমঙ্গল ও বাহুবল এলাকায় পুলিশের বাধার মুখে পড়ে নেতাদের গাড়িবহর।