দেড় মাস আগে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে প্রকাশ্যে ফিল্মি স্টাইলে গুলি করে হত্যার ঘটনায় টনক নড়ে পুলিশের। সিদ্ধান্ত নেয়, শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনদের পুরো নেটওয়ার্ককে কোনোভাবেই আর মাথা তুলে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না।
পুলিশের মনোভাব জানতে পেরে বাহিনীর সদস্যদের গা-ঢাকা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিদেশে পলাতক শিবির ক্যাডার বড় সাজ্জাদ। ডেভিড ইমনকে ভারতে পালিয়ে যাবার পরামর্শও দেন তিনি।
ততদিনে বড় সাজ্জাদ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের সব পথে ঢুকে যায় পুলিশ। ভারতে যাওয়ার জন্য চট্টগ্রাম থেকে রওনা দেওয়ার পর থেকেই পুলিশ তাকে অনুসরণ করতে থাকে। একপর্যায়ে যশোরে গিয়ে ধরা পড়েন ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগী।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দিলেন। গতকাল যশোরে গ্রেপ্তার হওয়া ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগীকে রাতে চট্টগ্রামে আনা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাদের নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এসপি। কিন্তু কোনো সাংবাদিককে কথা বলতে দেননি ইমনের সঙ্গে।
মোবারক হোসেন ইমন, অপরাধ জগতে প্রবেশের পর যার নাম হয়ে যায় ডেভিড ইমন। কেউ কেউ তাকে ডাকে শয়তান ইমন। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নে তার বাড়ি। থাকতেন নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার আতুরার ডিপো এলাকায়। তার বিরুদ্ধে নগরী ও জেলায় ৭টি হত্যাসহ মোট ১৪ মামলা।
এসপি মাসুদ আলম বললেন, ‘বিদেশে পলাতক গ্যাং লিডার সাজ্জাদের পরামর্শে ভারতে পালানোর জন্য ডেভিড ইমনের আঁকা ছক আমরা জেনে যাই। পুলিশের কয়েকটি টিমকে সম্ভাব্য বিভিন্ন এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাবার পথে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় তাকে ধরার চেষ্টা করি। কিন্তু সে গাড়ি বদল করে ঢাকায় ঢুকে যেতে সক্ষম হয়। তখন খবর আসে সে খুলনার দিকে যাচ্ছে। পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজায় আমরা চেকপোস্ট বসাই। ব্যাড লাক। সেখানে আমরা তাকে ধরতে পারিনি।’
‘এরপর সে রুট চেঞ্জ করে গোপালগঞ্জ হয়ে নড়াইলে পৌঁছে। তখন রাত সাড়ে তিনটা। নড়াইলের এসপি চেষ্টা করেন। কিন্তু সে যশোরে চলে যেতে সক্ষম হয়। যশোরের এসপিকে আমরা সব তথ্য দিই। তিনি ডিবিকে দিয়ে চেকপোস্ট বসান। সেই চেকপোস্টে ইমনসহ চারজন ধরা পড়েন’, বলছিলেন তিনি।
কখনও দুবাই, কখনও ভারতে অবস্থানের মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে ডেভিড ইমন দেড় বছর ধরে পুলিশের সঙ্গে লুকোচুরি খেলছিলেন। তবে এসপি মাসুদ আলম জানালেন, ‘ডেভিড ইমন বাংলাদেশেই ছিলেন।’
অবস্থা বেগতিক দেখে বড় সাজ্জাদ তাকে ভারতে নিয়ে যাবার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। অবৈধভাবে সীমান্ত পার করার জন্য মানুষও ঠিক। ভোর ৬টায় যশোরের সীমান্ত দিয়ে ইমন ও তার তিন সহযোগীর ভারতে ঢোকার কথা। তার আগেই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই- বললেন জেলা পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।
ডেভিড ইমনের কাছে একটি ভারতীয় আধার কার্ডও পাওয়া গেছে বলে জানালেন এসপি মাসুদ আলম। আধার কার্ড হলো ভারতের বাসিন্দাদের জন্য সরকারের দেওয়া ১২ ডিজিটের কোড নম্বরসহ একটি বিশেষ পরিচয়পত্র। এসপির দাবি, ইমন ভারতে গিয়ে সেটি ব্যবহার করার কথা ছিল।
তবে জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ডেভিড ইমনের কাছে আধার কার্ড পাওয়া যায়নি। বড় সাজ্জাদ তার জন্য আধার কার্ড তৈরি করে রেখেছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন।