সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বৃষ্টির মধ্যেও ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়া আন্দোলনকারীদের প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে দেশ সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেওয়া এবং সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মাহমুদা মিতু লিখেছেন, ‘তুমুল বৃষ্টির মধ্যেও যেভাবে লেয়ারে লেয়ারে ব্যারিকেড ভেঙে, বালুর ট্রাক সরিয়ে, ফেইক লাশের গাড়ি সরিয়ে এগিয়ে গিয়েছ— বাংলাদেশ মনে রাখবে। এই জেদ, এই তেজ, এমন দৃঢ় মনোবলই ছিল আমাদের ২৪-এর জুলাই।’
তিনি লিখেছেন, একই দৃঢ়তা ও সাহস নিয়ে দেশ সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিতে হবে এবং সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির কবর রচনা করতে হবে। এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে কোনো শিশুকে আর সহিংসতার শিকার হয়ে চোখ হারাতে না হয়।
মাহমুদা মিতু বলেছেন, অতীতে বালুর ট্রাক সরাতে না পারার ঘটনা যেমন ইতিহাসে স্থান পেয়েছে, তেমনি প্রতিকূলতা, বাধা ও ভয়কে উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর ভাষায়, সেই অদম্য মনোবলই পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছিল।
ঐ পোস্টে তিনি ‘আলিফ’ নামে এক ছেলেকে নিয়ে নিজের দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর প্রসঙ্গ টেনে লেখেন, ‘আলিফ ছেলেটার জন্য প্রচণ্ড মন খারাপ লাগছে। জানি না তারেক রহমানের অপরাধবোধ হচ্ছে কিনা।’
গতকাল ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে হবিগঞ্জে সমাবেশ করতে যাওয়ার পথে মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ সীমান্তে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন এনসিপির নেতাকর্মীরা। পরে সন্ধ্যায় তারা পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে হবিগঞ্জে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়, এনসিপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির মতো অবস্থা তৈরি হয়।
সেসময় হবিগঞ্জে প্রবেশের চেষ্টা করলে ঘটনাস্থলের পাশের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে এনসিপির সঙ্গে বৈঠকে বসেন পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ। পরে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হয়েছে।